নড়াইলে সন্তান হত্যার বিচারের দাবিতে সন্তানের মরদেহ নিয়ে পিতা-মাতা নড়াইল সদর থানায়। শুক্রবার (৩মে) সকাল সাড়ে দশটার দিকে সন্তানের মরদেহ নিয়ে পিতা-মাতাসহ কালিয়া উপজেলার কাঞ্চনপুর এলাকাবাসী নড়াইল সদর থানায় আসেন। মৃত শিশু সুফিয়া (৯) কালিয়া উপজেলার কাঞ্চনপুর গ্রামের আক্তার শেখের মেয়ে।
এসময় শিশু সুফিয়ার পিতা আক্তার শেখ বলেন, আমার মেয়ে প্রতিদিন আমাকে ভাত দিতে ইট ভাটায় আসে, আসা-যাওয়ার পথে রিপন, মুরাদ, টুটুলসহ আরও অনেকে আমার মেয়েকে আজে বাজে কথা বলে, ওকে তুলে নিয়ে যাবে বলে। ওরাই আমার মেয়েকে নির্যাতন করে মেরে নদীতে ফেলে দিছে আমি ওদের উপযুক্ত বিচার চাই। চাচা বশির আহম্মেদ বলেন, আমার ভাতিজির গলায় দাগ ছিল, এবং অনন্য জায়গায় ও ক্ষত ছিল, শরির এসিডে পোড়া ছিল।
মেয়ের মামা রেজাউল ইসলাম বলেন, আমার ভাগ্নী সুফিয়া পরশুদিন থেকে নিখোঁজ ছিল। পরে মাউলি ইউনিয়নের ইসলামপুরে নদীতে তার লাশ পাওয়া যায়। অনেকেই বলছে আমার ভাগ্নী পানিতে পড়ে মরছে আবার অনেকে বলছে মার্ডার করা হইছে, আমার কথা হচ্ছে যদি পানিতে পড়ে মরে তাহলেতো তার হাত ভাংবেনা, শরির এসিডে পোড়া থাকবেনা, গায়ে জামা কাপড় থাকবে।
কিন্তু আমার ভাগ্নীর হাত ভাংগা ছিল, শরির এসিডে পোড়া ছিল, এছাড়া গায়ে জামা কাপড়ও ছিলনা। যারাই আমার ভাগ্নীকে হত্যা করছে তাদের বিচার চাই। পরে নড়াইল সদর থানা থেকে লাশের স্বজনদের কালিয়া থানায় পাঠায়।
কালিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামিম উদ্দিন মুঠোফোনে বলেন, যেহেতু নড়াগাতি এলাকায় লাশ পাওয়া গেছে সেজন্য নড়াগাতি থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। অপর দিকে নড়াগাতি থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, এটা কালিয়া থানার অর্ন্তগত। উলেখ্য, কালিয়া উপজেলায় নিখোঁজের এক দিন পর বৃহস্পতিবার (২মে) নবগঙ্গা নদী থেকে সুফিয়া (৯) নামে এই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ।