ঢাকা, শুক্রবার, ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
যৌথবাহিনীর অভিযানে সাতদিনে গ্রেফতার ৩৪১
এসো আমরা ঈদের আনন্দের সাথে নিজেরা নিজেদের অবস্থান তৈরি করি-ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান সালেহী
কলাপাড়ায় গৃহবধূর রহস্যজনক নিখোঁজের ঘটনায় গ্রেফতার ৭
নওগাঁয় ধানখেতে গলিত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মুলহোতা গ্রেপ্তার
নাইক্ষ্যংছড়ির পাহাড়ি কন্যা পর্যটন লেকে ঈদে ১৬ বছরের রেকর্ড পর্যটকের ঢল
বাঁশখালীতে টানা ৪১ দিন জামাতে নামাজ আদায় করা ১৭ শিশু-কিশোর সাইকেল উপহার
আত্রাইয়ে ঈদের চতুর্থ দিনেও সাহাগোলা রেলওয়ে স্টেশনজুড়ে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়
ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়ন আ’লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক গ্রেফতার
কলমাকান্দায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার পলাতক অলি আহমেদ
নেত্রকোণা সরকারী কলেজের ঈদ পুনর্মিলনী
ভারতীয় মিডিয়া গুজবে চ্যাম্পিয়ন:স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
জিয়ার শ্রদ্ধা স্মারক সরিয়ে ফেলার অপকর্মে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনুন:জাসাস
কালিগঞ্জে প্রত্যয় গ্রুপের ১৩ তম বর্ষপূর্তি ও ঈদ পুনমিলনী 
পরকীয়া জেরে যুবকের আত্মহত্যা
আমতলীতে তরমুজ পরিবহনে চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত- ৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হাওর জুরে তীব্র দাবদাহেও বোরো ধান কাটা নিয়ে কৃষকের মুখে স্বস্তির হাসি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার হাওরে হাওরে চলছে বোরো ফসল তোলার ধুম। হাওরপাড়ে রীতিমতো চলছে দেশজুড়ে চলছে তীব্র দাবদাহ। এই দাবদাহ ছাপিয়ে ধানকাটা, মাড়াই ও গোলায় তোলার উৎসব।

অন্য বছরগুলোতে যেখানে আগাম বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে কৃষকের সারা বছরের একমাত্র জীবিকা পানির নিচে তলিয়ে স্বপ্নভঙ্গ হয়, সেখানে এ বছর অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল না থাকায় অনেকটা নির্ভার হয়েই ফসল তুলছেন হাওরপাড়ের কিষান-কিষানিরা। ফলে হাওরজুড়ে শুধুই স্বস্তির হাসি।

কৃষকরা বলছেন, আরও সপ্তাহখানেক আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং ভারী বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢল না এলে এ বছর শতভাগ ফসলই গোলায় উঠবে।

হাওরে বছরে একটিই ফসল হয়। তাই এই বোরো ফসলকে ঘিরে হাওরপাড়ের ৩০ লাখ মানুষ স্বপ্ন দেখেন। এই একটি ফসলের ওপরই তাদের জীবন-জীবিকা নির্ভর করে। তবে এই স্বপ্নের ফসল কোনো বছর দেখা মেলে তো কোনো বছর অকাল বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে যায়। তাই হাওর এলাকায় বোরো ধান যেন সোনার হরিণ। আর তাই যে বছর ফসল ওঠে, সে বছর হাওরে হাওরে চলে উৎসব।

এ বছর দেশজুড়ে এপ্রিলের শুরু থেকেই তীব্র দাবদাহ ও প্রচণ্ড গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ। ব্রাহ্মণবাড়িয়াও এর ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু সব গরম আর দাবদাহ ছাপিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৩৭টি ছোট বড় হাওরেরই চলছে নিজেদের একমাত্র সম্বল বোরো ধান তোলার উৎসব। এই তীব্র গরমেও হাওরের মানুষের চোখে-মুখে স্বস্তির হাসি।

গভীর হাওর থেকে কৃষক ধান কেটে খলায় নিয়ে আসেন। আর কিষান-কিষানিরা মিলে সেই ধান মাড়াই এবং শুকানোর কাজ করেন খলাতেই। ধান তোলায় ব্যস্ত কিষান-কিষানিরা কথা বলাও ফুরসত পাচ্ছেন না।

তারপরও রোদ ও তীব্র গরম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জন্য উপকারী জানিয়ে তারা বলেন, এ বছর অতিবৃষ্টি ও আগাম পাহাড়ি ঢল না হওয়ায় অনেকটা স্বস্তিতেই ফসল গোলায় তুলছেন তারা। আরও ৭ থেকে ১০ দিন বৃষ্টিপাত না হলে শতভাগ ফসল কেটে গোলায় তুলতে পারবেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের চানপুর বড়গিলা হাওরে কৃষক আবুল শাহ (৪২) কাছে গরমের মধ্যে ধান কাটতে ও শুকাতে সমস্যা হচ্ছে কি-না জানতে চাইলে বলেন, এই রোদ গরম এ বছর হাওরের মানুষের জন্য আশীর্বাদ। আরও ৭ থেকে ১০ দিন রোদ থাকলে হাওরের সব ধান কেটে রোদে শুকিয়ে গোলায় তোলা সম্ভব হবে। তা না হলে কোনো বছর পাহাড়ি ঢলে, না হলে কোনো বছর রোদের অভাবে কাটা ধান বা শুকানো সম্ভব হয় না। পচে নষ্ট হয়ে যায়। তাই এ বছর রোদ, গরম হাওরের মানুষের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।তিনি বলেন, তাদের পরিবারে চার সন্তানসহ ছয় সদস্য। জমিতে যে ধান হয়েছে তাতে সারা বছর ভালোই চলে যাবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে বিল বোয়ালিয়া হাওরপাড়ের কমলা বেগম (৬০) বলেন, এ বছর বিল বলিয়া হাওরে ভালো ফসল হয়েছে। বৃষ্টিপাত না থাকায় ধান কাটতে সমস্যা হয়নি। সেই সঙ্গে রোদ থাকায় ধান মাড়াই করে খলাতে শুকিয়ে ঘরে নিতে পারছেন। কিন্তু সব বছর এমন থাকে না। কোনো বছর অতিবৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে ধান তলিয়ে যায়। আর কষ্ট করে কোনোমতে ধান কেটে আনলেও রোদের অভাবে সেই ধান শুকানো যায় না। পচে নষ্ট হয়ে যায়।

একই এলাকার বাবুল মিয়া (৫০) বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বছরে এই একটি মাত্র বোরো ফসল হয়। এই একমাত্র ফসলের ওপরই আমাদের জীবন-জীবিকা চলে। যে বছর ফসল তোলা সম্ভব হয় না, সে বছর আমাদের খেয়ে না খেয়ে কোনোমতে টিকে থাকা লাগে। এ বছর ভালো ধান হয়েছে। ধান হলে আমরা খুশি থাকি। কারণ এই ধান সারা বছরের খাবার, সন্তানদের লেখাপড়া, চিকিৎসা সবকিছু নির্ভর করে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃষি অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, জেলার চলতি মৌসুমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। সরজমিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃষকদের এবং শ্রমিকদের সাথে কথা বলে এবং মাঠে ধানের এ বাম্পার ফলন দেখে রিপোর্টটি লিখা হয়। জেলায় রোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ লক্ষ ১১ হাজার ৪০৫ হেক্টর জমিতে যার মধ্যে হাওরাঞ্চলের প্রায় ৩২ হাজার ১শ হেক্টর জমি রয়েছে। আবাদ হয়েছে ১ লক্ষ ১১ হাজার ৬৯৬ হেক্টর জমিতে। গত বছরের তুলনায় এবার আবাদের পাশাপাশি উৎপাদন ও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এবার ব্রি-ধান- ২৮, ৮৮, ৯৬, ১০১ ,১০২, ১০৪, বঙ্গবন্ধু ১শ ,বীনা -২৫ সহ নতুন জাতের বোরোর ব্যাপক আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ লাখ ১৫ হাজার ৫৪৩ মে. টন। যার বাজার মূল্য প্রায় ২২শ কোটি টাকা। নতুন জাতের সম্প্রসারণ হওয়ায় এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ। হাওড় বেষ্টিত এ জেলায় এপ্রিল মাস থেকেই শুরু হয়েছে বোরো ফসল ঘরে তোলার কাজ যা চলবে পুরো মে মাস জুড়ে। বুধবার (১-মে ) পর্যন্ত হাওরাঞ্চলের ৯০ ভাগ ধান কাটা শেষ হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সুশান্ত সাহা ভোরের ডাককে বলেন, আবহাওয়া ভালো থাকায় হাওরের অবস্থা খুবই ভালো। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে জেলার সব হাওরে ধান টাকা শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত হাওরাঞ্চলের ৮৫+৯০ ভাগ ফসল কাটা হয়েছে। কিছু কিছু কিছু হাওরে ৭৭ শতাংশ ধান কাটা হয়ে গেছে। আর চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে গভীর হাওরে শতভাগ ধান কাটা হয়ে যাবে। ধান কাটতে কৃষকদের সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ভোরের ডাককে বলেন, জেলার সব ক’টি হাওরে কৃষকরা উৎসবমুখর পরিবেশে ধান কাটছেন।কৃষকদের যাতে এই উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় থাকে এবং সরকারের দেওয়া ধানের ন্যায্যমূল্য পান, প্রশাসন সে লক্ষ্যে কাজ করছে।জেলা প্রশাসক আরও বলেন, মধ্যস্বত্বভোগীরা যাতে কৃষকের মধ্যে ঢুকে কৃষকদের লাভ তুলে নিতে না পারে, এ সে বিষয়ে প্রশাসন কঠোর প্রদক্ষেপ নেবে।

শেয়ার করুনঃ