
হবিগঞ্জের মাধবপুরে“ছাতিয়াইন বিশ্বনাথ হাই স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে টিন সেটের ঘর বিক্রির টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ উঠেছে ।
ছাতিয়াইন বিশ্বনাথ হাই স্কুল এন্ড কলেজের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর জানতে দৈনিক সকালের খবর প্রতিনিধি অনুসন্ধানে গেলে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বেরিয়ে আসে নানা রকম অনিয়ম ও দুর্নীতি ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ ওই স্কুলের টিন সেটের একটি ঘর বিক্রি করে দিয়েছেন । কিন্তু কোথায় এবং কত টাকা বিক্রি করে দিয়েছেন এর কোন হদিস স্কুলের কোন শিক্ষক বলতে পারেনা । প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো কথা বললে চাকরি হারাতে হয় । যারাই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন তারাই চাকরি হারিয়েছেন । তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানিয়েছেন যে, টিন সেটের ঘরটির মূল্য অনুমান তিন লক্ষ টাকা হবে । সেই ঘরের খবর একমাত্র প্রধান শিক্ষকই বলতে পারবেন ।
এ রকম নানান অভিযোগ ও দুর্নীতিতে জড়িত প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ । যেখানে স্কুলের উন্নয়ন মূলক কাজে মালামাল ক্রয় করতে যাতায়াত খরচ ৫৫ টাকা, সেখানে ৪ জনের যাতায়াত ও খাবরের বিল ভাউচারে দেখানো হয়েছে ২১শ টাকা। একই ভাউচার মাত্র ৫ দিনের মাথায় ৩ জনের যাতায়াত ও খাবারের বিল ভাউচারে দেখানো হয়েছে ১৪শ টাকা। আশ্চর্য্যের বিষয় হলো যে হোটেলে ১৮ তারিখ খাবার খেয়েছে ঐ হোটেলে আবার ২৩ তারিখেই খেয়েছেন। দুই বারে খাবার ও যাতায়াতের খরচ তুলেছেন হোটেলের এক মেমোতেই , মোট ভাউচার দেখিয়েছেন ৩৫০০ টাকা। যা কোন হোটেল কর্তৃপক্ষ কখনোই করার কথা নয়।
এছাড়াও স্কুল উন্নয়ন কাজের জন্য মালামাল ক্রয়ের বিভিন্ন বিল ভাউচারে আকাশ পাতাল অনিয়ম রয়েছে। ছাত্র ছাত্রীদের রেজিষ্ট্রেশন অনিয়ম, কোচিং বাণিজ্য, শিক্ষকদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বিদায় দেওয়া, ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে বিদায় অনুষ্ঠান, স্কুল মাঠে গরুর হাট বসিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়া, শিক্ষক নিয়োগ বানিজ্য, স্কুল ফান্ড থেকে টাকা ধার নিয়ে আত্মসাৎ, অন্যকে ধার দেওয়া, স্কুল ফান্ডের টাকায় মোবাইল কেনা , ব্লাংক বিল ভাউচার আনা, স্কুলের পুকুর, গাছ অকশনে বানিজ্য ,শতবর্ষ ফান্ড বানিজ্য এসব দুর্নীতির বিষয় নিয়ে পরের পর্বে থাকছে বিস্তারিত । চোখ রাখুন দৈনিক সকালের খবর অনলাইনে ।
এ বিষয়গুলো নিয়ে প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ এর সাথে কথা বললে তিনি অনিয়মের কথা অস্বীকার করে বলেন, যা যা হয়েছে কোথাও কোন অনিয়ম হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে এম ফয়সাল জানান, বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।