
৬ষ্ঠ উপজেলা নির্বাচনের প্রথম ধাপে পিরোজপুর সদরের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ মজিবুর রহমান খালেকের প্রার্থিতা স্থগিত করেছে সুপ্রিম কোর্ট।নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, ৮ মে অনুষ্ঠিতব্য প্রথম ধাপের উপজেলা নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত পিরোজপুর সদরে চেয়ারম্যান পদে দুইজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তারা হলেন বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান এস এম বায়েজিদ হোসেন এবং মোঃ শফিউল হক। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই শেষে উভয়কে বৈধ প্রার্থী হিসেবে গণ্য করে এস এম বায়েজিদ হোসেনকে দোয়াত কলম এবং শফিউল হক কে আনারস প্রতিক বরাদ্দ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। কিন্তু বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আ’লীগের যুগ্ম সম্পাদক মোঃ মুজিবুর রহমান খালেক হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন যে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে তিনি অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা হাইকোর্টকে জানান যে মো: মুজিবুর রহমান খালেক আদৌ অনলাইনে মনোনয়নপত্র প্রেরণ করেননি। হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মোঃ খসরুজ্জামান এবং কে.এম জাহিদ সরোয়ার কাজলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ মজিবুর রহমান খালেকের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ দিতে এবং প্রতীক বরাদ্দ করতে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। এই আদেশের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এস এম বায়েজিদ হোসেন সুপ্রিম কোর্টে আপিল দায়ের করেন। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে 8 চার জন বিচারপতির সমন্বয়ে ফুল বেঞ্চে বিষয়টি শুনানি হয়। ৩০ এপ্রিল (মঙ্গলবার) শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ হাইকোর্টের দেয়া আদেশ স্থগিত ঘোষণা করেন। এর ফলে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ মজিবুর রহমানের প্রার্থী হবার জন্য হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ কার্যত স্থগিত হয়ে যাওয়ায় তিনি আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছেন না। সুপ্রিম কোর্টে এস এম বায়েজিদ এর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিনুদ্দিন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক শাহ মঞ্জুরুল হক এবং সিনিয়র আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী। অন্যদিকে রিট আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন এস এম আবুল হোসেন ও সাঈদ আহমেদ রাজা।উল্লেখ্য, যে রিট আবেদনে বৈধপ্রার্থী এসএম বায়েজিদ হোসেন ও শফিউল হক কে কোনভাবেই প্রতিপক্ষ না করে রিট আবেদন করা হয়। এছাড়া কোন আপিল না করে সরাসরি হাইকোর্ট আবেদন করা হয়েছিল। আপিল শুনানিতে প্রাসঙ্গিকভাবে উঠে আসে যে মোঃ মজিবুর রহমান অগ্রণী ব্যাংকের ঋণখেলাপি হওয়ার কারণে তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করলে যাচাই-বাছাইয়ে তার মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষিত হবে এই আশঙ্কা থেকে আদৌ মনোনয়নপত্র দাখিল না করে সুকৌশলে হাইকোর্টে বিষয়টি গোপন রেখে আদেশ নিয়েছিলেন।