ফরিদপুরের মধুখালী পঞ্চপল্লিতে নির্মাণ শ্রমিক দুই ভাইকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা খুবই দুঃখজনক ও হৃদয় বিদারক। এঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের কোন জাত নেই, কোন ধর্ম নেই। ইতিমধ্যেই পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ১২জনকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকিদেরও গ্রেপ্তারের জন্য সর্বোচ্চ চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বুধবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার নওপাড়া চোপেরঘাট গ্রামে নিহত নির্মাণ শ্রমিকের বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আব্দুর রহমান একথা বলেন।
এসময় তিনি আরও বলেন, আপনারা বিশ্বাস রাখুন এই বাংলার মাটিতে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কার্যকর করা হবে। যা দেখে আগামীতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস যাতে না পায়।
মন্ত্রী বলেন, তবে এ ঘটনার পেছনে অন্য কোনো চক্রান্ত থাকতে পারে। সুতরাং এই চক্রান্ত কারা, কেন করেছে তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন- এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল মঙ্গলবার মহাসড়ক অবরোধ করে পুলিশের ওপর হামলার মধ্য দিয়ে তারা আবার আরেকটা ঘটনার জন্ম দিতে চেয়েছিল। এই দেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ, কেউ ধৈর্যহারা হবেন না।
অপরাধী যেই হোক তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। এসময় তিনি প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি নিজে মনিটরিং করছেন। তিনি যত দ্রুত সম্ভব বাকি অপরাধীদের গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনার নির্দেশ দেন এবং ন্যায়বিচারের আশ্বাস দেন।
এসময় রেলমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম বলেন, অপরাধীদের বুঝিয়ে দিতে হবে ভবিষ্যতে আর কেউ যেন এ ধরনের কাজ করতে না পারে।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মো. নুরুল ইসলাম, ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. কামরুল আহসান তালুকদার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হক, সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আরিফসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকবৃন্দ।
পরে সবাই ঘটনাস্থল ডুমাইন ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর পঞ্চপল্লি স্কুল ও মন্দির পরিদর্শন করেন।উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৭টার দিকে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ডুমাইন ইউনিয়নের পঞ্চপল্লিতে কালি মন্দিরে আগুন দেওয়ার সন্দেহে গুজব ছড়িয়ে বাঁশ, লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ও ইট দিয়ে থেতলিয়ে আপন দুই সহোদরকে হত্যা এবং আরও পাঁচজনকে গুরুতর আহত করার ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৪ প্লাটুন বিজিবিসহ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।