
ফরিদপুরের কানাইপুরে বাস ও পিকআপের সংঘর্ষে ১৫ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ঘাতক বাসটির চালক মো.খোকন মিয়াকে (৫৪) গ্রেফতার করেছে র্যাব।
রবিবার ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর থেকে তাকে গ্রেফতার করে র্যাব-১০। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় র্যাব-১০ এর কার্যালয়ে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানায় সংস্থাটি।
ওই সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১০-এর কোম্পানি অধিনায়ক লে. কমান্ডার কে এম শাইখ আকতার জানান,গত ১৬ এপ্রিল সকালে একটি পিকআপযোগে নারী ও শিশুসহ ১৬ জন আলফাডাঙ্গা থেকে ফরিদপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা করে। সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে পিকআপটি জেলার কোতোয়ালি থানাধীন কানাইপুর দিকনগর এলাকায় ফরিদপুর-মাগুরা সড়কে পৌঁছালে মাগুরাগামী একটি উত্তরা ইউনিক পরিবহনের বাস বেপরোয়া গতিতে চালিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী পিকআপটিকে চাপা দেয়। এতে পিকআপে থাকা ১১ জন ঘটনাস্থলেই মারা যান।
ঘটনার পর স্থানীয়রা আহত যাত্রীদের চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়। সেদিন পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়ি দুটি জব্দ করে এবং নিহতদের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে মানবিক কারণে লাশের ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেন।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার পরই আত্মগোপনে চলে যান ইউনিক পরিবহন বাসটির চালক। এ ঘটনায় নিহতদের একজন ইকবালের বড় ভাই ইমামুল শেখ (২৮) বাদী হয়ে উত্তরা ইউনিক পরিবহনের অজ্ঞাতনামা চালকের বিরুদ্ধে ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালি থানায় সড়ক পরিবহন আইনে দ্রুত ও বেপরোয়া গতিতে বাস চালিয়ে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে প্রাণহানি ঘটানোর অপরাধে একটি মামলা করেন।
ফরিদপুরের ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা সারা দেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ঘটনার দিন থেকেই ইউনিক পরিবহনের পলাতক চালকের পরিচয় শনাক্ত এবং তাকে গ্রেফতার করতে র্যাব-১০ সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি ও ছায়া তদন্ত শুরু করে।
এক পর্যায়ে র্যাবের এই দলটি ইউনিক পরিবহনের চালকের পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। জানা যায়, ওই চালকের নাম মো. খোকন মিয়া। তিনি ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের বামনদহের মো. দেলোয়ার হোসেনের ছেলে।
এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১০ সিপিসি-৩ ফরিদপুরের আভিযানিক দলটি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কোটচাঁদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে উত্তরা ইউনিক পরিবহন বাসের ঘাতক চালককে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
র্যাব-১০-এর কোম্পানি অধিনায়ক লে.কমান্ডার কে এম শাইখ আকতার আরও জানিয়েছেন,প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামি উত্তরা ইউনিক পরিবহনের ঘাতক চালক বলে স্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
ডিআই/এসকে