গাজীপুরের শ্রীপুরে মাদক ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পোশাক শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার অন্যতম প্রধান আসামী’কে ঠাকুরগাঁও থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যাব।
গ্রেফতারকৃত আসামী হলো,মোফাজ্জল (৩৫) পিতার নাম-সরবত আলী। সে গাজীপুর জেলার
শ্রীপুর থানার কেওয়া পশ্চিম খন্ড (মাওরাচালা) গ্রামের বাসীন্দা।
র্যাব বলছে,মর্মান্তিক এ ঘটনার ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই র্যাব-১ এবং র্যাব-১৩ এর যৌথ অভিযানের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর থানাধীন টেংরিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
রবিবার (২১ এপ্রিল) র্যাব -১ এর সহকারী পরিচালক (সহকারী পুলিশ সুপার) মো.মাহফুজুর রহমান সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন,গতকাল (২০ এপ্রিল) বিকেলে র্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখার মাধ্যমে র্যাব-১, এবং র্যাব-১৩ এর আভিযানিক দল জানতে পরে আসামী মোফাজ্জল ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর থানাধীন টেংরিয়া এলাকায় অত্মগোপনে আছে। পরবর্তীতে র্যাবের যৌথ আভিযানিক দল ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর থানাধীন টেংরিয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে টেংরিয়া গ্রামস্থ জনৈক মো.মতিউর রহমানের বাড়ি থেকে রাত ১ টার সময় গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আাসমী মোফাজ্জল হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে
তিনি জানান,ভিকটিম লতিফ মিয়া (৩০) কে পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক হত্যার উদ্দেশ্যে গত ১৮ এপ্রিল আনুমানিক রাত ৯ টায় গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানাধীন কেওয়া পশ্চিমখন্ড মাওরাচালা গ্রামের শিরিন (২৫) তার বাড়িতে দাওয়াত খাওয়ানোর উদ্দেশে সুকৌশলে নিয়ে যায়। ভিকটিম খাওয়া দাওয়া শেষ করে বাহিরে হাত ধুইতে গেলে আগে থেকে উৎ পেতে থাকা আসামী মোফাজ্জল (৩৫) ও অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন আসামী বাশের লাঠি দিয়ে সামনের দিক থেকে স্বজোরে মাথা লক্ষ্য করে বারি মারলে ভিকটিম লতিফের কপালের বামপাশে গুরুতর জখম প্রাপ্ত হয়। এসময় ভিকটিম ডাকচিৎকার শুরু করলে পাশে থাকা আসামী মোফাজ্জল (৩৫) ও আসামী শিরিন (২৫) সহ অজ্ঞাতনামা আসামীরা বাশের লাঠি দিয়ে এলোপাথারী মারধর করে।
তিনি আরও জানান,লতিফ মিয়া গুরুতর আঘাত প্রাপ্ত অবস্থায় বাড়িতে ফিরে গেলে তার পরিবার সুচিকিৎসার জন্য তাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এরপর ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন,আসামী মোফাজ্জলসহ আরোও অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন আসামীর সাথে ভিকটিমের দীর্ঘদিন যাবৎ মাদক ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ডিআই/এসকে