
আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে উৎপাদিত ফসল ঘরে তোলার কাজ।
কৃষকরা জানান, ফলন ভালো হলেও ধানের বাজার দর কম হওয়ায় তারা হতাশ। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার ভর্তুকি মূল্যে সার সহ প্রণোদনার আওতায় বিভিন্ন উপকরণ বিনা মূল্যে সরবরাহ করেছে।
সরকারি ভাবে সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হলে কৃষক লাভবান হবে।
চলতি মৌসুমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। সরজমিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃষকদের এবং শ্রমিকদের সাথে কথা বলে এবং মাঠে ধানের এ বাম্পার ফলন দেখে রিপোর্টটি লিখা হয়। জেলায় রোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ লক্ষ ১১ হাজার ৪০৫ হেক্টর জমিতে যার মধ্যে হাওরাঞ্চলের প্রায় ৩২ হাজার ১শ হেক্টর জমি রয়েছে। আবাদ হয়েছে ১ লক্ষ ১১ হাজার ৬৯৬ হেক্টর জমিতে। গত বছরের তুলনায় এবার আবাদের পাশাপাশি উৎপাদন ও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এবার ব্রি-ধান- ২৮, ৮৮, ৯৬, ১০১ ,১০২, ১০৪, বঙ্গবন্ধু ১শ ,বীনা -২৫ সহ নতুন জাতের বোরোর ব্যাপক আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ লাখ ১৫ হাজার ৫৪৩ মে. টন। যার বাজার মূল্য প্রায় ২২শ কোটি টাকা। নতুন জাতের সম্প্রসারণ হওয়ায় এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ। হাওড় বেষ্টিত এ জেলায় এপ্রিল মাস থেকেই শুরু হয়েছে বোরো ফসল ঘরে তোলার কাজ যা চলবে পুরো মে মাস জুড়ে।
কৃষকরা জানান, কানি প্রতি ১০/১২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। প্রতি কানিতে ধান পাওয়া যাবে ১৫/১৬ মণ। প্রতি বছর ফসল উৎপাদনের সময় ধানের দাম পড়ে যায়। শ্রমিকসহ কৃষি উপকরণের দাম ভাড়া প্রতি সার্বিক উৎপাদন খরচ উঠাতেই তাদের হিমশিম খেতে হয়।
এ ব্যাপারে জমির মালিক মোঃ লুৎফুর আমিন ভূইয়া সকালের খবর 24 কম কে জানান কৃষি জমিতে ধান চাষ করে মজুরি ও পরিচর্চা খরচ বেশি হওয়ায় সরকারের নির্ধারিত যে রেট এ রেট যদি বাড়িয়ে না দেয়া হয় তাহলে আমরা উৎপাদন খরচ অনেক বেশি হয়ে যাবে তেমন চাষ করে লাভবান হবো না এ বছরে বোরো ধান ভালো হওয়াতে আলহামদুলিল্লাহ কিছুটা পুষিয়ে যাবে আমাদের।
এ ব্যাপারে সিলেট থেকে আসেন শ্রমিকের সরদার সিরাজ মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে ধান চাষ করে টাকা উপার্জনের জন্য ধান চাষ জন্য শ্রমিক প্রতিদিন পাচ্ছে মজুরি ৭ থেকে ৮০০শত টাকা পায়, যার ধান কাটবে সকাল, দুপুরবেলা এবং রাতে বেলা খাবার তার উপরই থাকবে বলে জানান তিনি।
কৃষি বিভাগের উপ পরিচালক সুশান্ত সাহা সকালে খবর 24 কম কে বলেন, চলতি মাসের শেষের দিকে অথবা মে মাসের শুরুতে সরকারি ভাবে বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হলে ধানের বাজার মূল্য কিছুটা বাড়বে কৃষককে প্রণোদনার আওতায় সার-বীজ দেওয়াসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা।