
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা ইউনিয়নের বেজিয়াতলা গ্রামে ২ একর জমিতে বোরো মওসুমে ধান ক্ষেতের জমির চারিপার্শ্বের আইলে উপকারী পোকামাকড়ের আশ্রয় ও খাদ্যের জন্য পুষ্পমধু উৎপাদনকারী হলুদ ও কমলা রঙের ফুল যেমন-গাঁদা, সূর্যমুখী এবং কসমস লাগানো হয়।
সরোজমিনে দেখা যায়, বোরো মওসুমে ইকো-ইঞ্জিনিয়ারিং পদ্ধতিতে চাষকৃত ধানের জমিতে ক্ষতিকর পোকার সংখ্যা কৃষকের পদ্ধতিতে (কীটনাশক প্রয়োগ) চাষকৃত ধানের তুলনায় কখনও কখনও কিছুটা বেশী হলেও তা অর্থনৈতিক ক্ষতির দ্বারপ্রান্তের নীচে ছিল।
ইকো- ইঞ্জিনিয়ারিং পদ্ধতিতে ধান চাষকারী কৃষক শ্রী সাধন কুমার বিশ্বাস এর সাথে কথা বলে জানা যায়, অন্য বছরের তুলনায় এ বছর এই পদ্ধতি অনুসরণ করে বেশ লাভ পেয়েছি। প্রতি বছর রোগ ও পোকার আক্রমন থেকে বাঁচার জন্য হাজার হাজার টাকা খরচ করে কীটনাশক স্প্রে করতে হয়। বিশেষ করে মাজরা পোকার আক্রমন থেকে বাঁচতে প্রচুর টাকা খরচ করতে হয়। এ বছর কৃষি অফিসারের সহযোগিতায় বীজ ধান ও সব ধরনের সার, আইল বাঁধায় খরচ, আইলে ফুলের চারা কেনা ও চারা রোপন খরচ পেয়েছি এবং এ পর্যন্ত একবার ছত্রাকনাশক ও একবার কীটনাশক সহায়তাও পেয়েছি যা ব্যবহার করেছি। আগামীতে সহায়তা না পেলেও, আামি সহ অনেকেই এই পদ্ধতি অনুসরন কারে ধান চাষ করবো। কারন মাজরা পোকার জন্য একবারও কোন কীটনাশক স্প্রে করতে হয়নি।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃরোকুনুজজামান বলেন, ফল ও সবজি যেমন আমরা বিষমুক্ত খেতে চাই তেমনি বাঙ্গালীদের প্রধান খাদ্য ভাতটাও বিষ মুক্ত রেখে খেতে পারার লক্ষ্যে এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় পাশাপাশি জীব বৈচিত্র রক্ষায় এই পদ্ধতির তুলনা হয়না।
তিনি আরও বলেন, রাইস ইকোসিস্টেমে শত শত আর্থ্রোপডা প্রজাতি বসবাস করে। সেগুলো বিভিন্ন ধরনের পরিবেশগত কাজ যেমন: তৃণভোজী, পরভোজী, পরজীবি, সংকরায়ন, পচন এবং পুষ্টিচক্র হিসেবে কাজ করে। তন্মধ্যে যেগুলো সরাসরি ধানগাছ খেয়ে বেঁচে থাকে সেওলোকে ক্ষতিকর হিসেবে সনাক্ত করা হয়। বাংলাদেশে ২০-৩৩ প্রজাতির ক্ষতিকর পোকার সন্ধান পাওয়া গেছে যা ধানের অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধন করে। এ ধরণের ক্ষতিকর পোকাসমূহ বিভিন্ন ধরনের পরভোজী ও পরজীবির দ্বারা আক্রান্ত হয় এবং তাদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি প্রতিহত হয় ফালে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পায়। ইকোলজিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে ধান ক্ষেতে উদ্ভিদ ও প্রাণীকুলের সংরক্ষণ বা জীববৈচিত্র বৃদ্ধি করে ফলে উপকারী পোকামাকড়ের খাদ্য ও আশ্রয়ের উৎস বৃদ্ধি পায় এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা হয়।
ঝিকরগাছা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জনাব মোঃ মাসুদ হোসেন পলাশ বলেন, ধান ক্ষেতের আইলে পুষ্পমধু উৎপাদনকারী বিভিন্ন ফুল যেমন, গাঁদা, সূর্যমুখী, কসমস ইত্যাদি বিভিন্ন উপকারী পোকামাকক্ষের আশ্রয় ও খাদ্যের উৎস হিসেবে কাজ করে। বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকা যেমন, বাদামী গাছ ফড়িং, পাতাফড়িং, পাতা মোড়ানো পোকা ও মাজরা পোকার পরজীবি ও পরভোজী উপকারী পোকা সমূহ এ সমস্ত ফুলের পুষ্পমধু খেয়ে বেঁচে থাকে এবং ক্ষতিকর পোকার প্রভাবকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে বিষাক্ত কীটনাশকের ব্যবহার ছাড়াই ক্ষতিকর পোকা দমন করে ধান উৎপাদন করা সম্ভব হয় এবং এতে ধানের ফলনেরও কোন ঘাটতি হয়না।