
ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবার সরেজমিনে মাদকের ব্যবসার ও সেবিদের খুঁজে নেমেছেন জাতীয় দৈনিক ভোরের ডাক পত্রিকার জেলা সংবাদদাতা সোহেল সরকার।
এবারের ঈদুল ফিতরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ভারত সীমান্তবর্তী আখাউড়া, বিজয়নগর, ও কসবা উপজেলায় কোটি টাকার উপরে মাদক কেনাবেচা ও সেবন করা হয়েছে। প্রতি বছর ঈদকে কেন্দ্র করে ভারতীয় মাদক ফেন্সিডিল, স্কফ,বিয়ার, ও ইয়াবা সেবন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সীমান্তবর্তী এলাকায় আলাদা এক উৎসবে পরিণত হয়ে আসছে এবং হয়েছে। বেশ কয়েকজন মাদকের ডিলার ও ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্য ও প্রতিবেদকের ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী অনুমানিক ঈদের দিন প্রায় দুই কোটি টাকার মাদক বেচাকেনা হয় বলে জানা যায়।
অনুসন্ধান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাজার হাজার লোক ঈদের দিন বাড়তি আনন্দের জন্য মাদক সেবনের উদ্দেশ্যে মাদক সেবীদের বিজয়নগর, আখাউড়া, ও কসবা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় আগমন ঘটে । এছাড়া পার্শ্ববর্তী কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া ও দেবিদ্বার উপজেলার একাংশের অনেক লোক,কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলা থেকে এবং নরসিংদী থেকে শতাধিক লোক ঈদের দিন মাদক সেবনের উদ্দেশ্যে জেলার এ তিন উপজেলায় আসতে দেখা যায়।
এরই মাঝে আসতে দেখা যায় ভ্রমণ প্রিয় মানুষরাও পাহাড়ি অঞ্চল লালমাটি উঁচুনে চাপ পাহাড়ি টিলা সুন্দর দৃশ্য অঞ্চলের অনেক সৌন্দর্য উপভোগ করতে অনেকে আসে
বিজয়নগর, আখাউড়া, ও কসবা উপজেলায় ভারতীয় মাদক স্কফ সেবনের জন্য বেচাকেনা হয়েছে প্রায় বারো থেকে পনের হাজার পিস। ভারতীয় মদ বিয়ার বেচাকেনা হয়েছে প্রায় পনেরশো থেকে দুই হাজার পিস,ফেন্সিডিল বেচাকেনা হয়েছে প্রায় এক থেকে দেড় হাজার পিস, এবং ইয়াবা বেচাকেনা হয়েছে প্রায় চার থেকে পাচ হাজার পিস একদিনেই ।
ঈদের দিন প্রত্যেক পিস স্কফ নূন্যতম ১১শতটাকা ,বিয়ার নূন্যতম ছয়শতটাকা, ফেন্সিডিল নূন্যতম চব্বিশশত টাকা,এবং ইয়াবা নূন্যতম দুইশত টাকায় বিক্রি হয়েছে। কোটি কোটি টাকা দেশের মাদকের ভয়াবহতা ও কালো কালোবাজারি বিষাক্ত মাদকের ছোবলে মাধ্যমে দেশ থেকে অন্য দেশে পাচার হয়ে গেল মোটা অংকের টাকা এরই মাঝে আমাদের যুব সমাজ ধ্বংসের দিকে দুঃখজনক হলেও তা প্রতিরোধ করার চেষ্টা সব সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী করে থাকে কিন্তু আমরা নিজ নিজ সন্তানের চলাফেরা খেয়াল রাখি না এবং বন্ধুবান্ধব কোথায় যাচ্ছে খোঁজখবর নেওয়াটাও জরুরী না হয়তো এই অপকর্মের ফল নিজের ফ্যামিলি ভোগ করতে হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দশের অধিক মাদক মামলার আসামি বিজয়নগর উপজেলার মাদক ব্যবসায়ী রাশেদ (ছদ্মনাম) বলেন, প্রত্যেক বছর ঈদ এলে এরকম বেচাকেনা হয়। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন আসে,এমনকি ভৈরব ও নরসিংদী থেকেও শত শত লোক আসে কিন্তু এই দিনে ঢাকার মানুষ একটু কম আসে ঈদের পরদিন থেকে ঢাকার মানুষরা আসা যাওয়া শুরু করে ট্রেনের মাধ্যমে এবারের ঈদে আমি ৪৫০ স্কফ,১০০ ফেন্সিডিল, ১০০ বিয়ার, ও ২০০ ইয়াবা বিক্রি করেছি।
তিনি আরও জানান, আমাকে যে ডিলার স্কফ, ফেন্সি দেয় সে ঈদের দিন উপলক্ষে আড়াই হাজার পিস স্কফ দিয়েছে বিভিন্ন ব্যবসায়ীকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাচের অধিক মাদক মামলার আসামি বিজয়নগর উপজেলার মাদক ব্যবসায়ী রাবেয়া (ছদ্মনাম) বলেন, এবার ঈদে শুধু স্কফ বিক্রি করেছি ৬৫০। আমাদের সামনের গ্রামের একজন ডিলার আছে সে প্রায় তিন হাজার বিক্রি করেছে।
আখাউড়া উপজেলার মাদক ব্যবসায়ী রাজু (ছদ্মনাম) জানান,ঈদের দিন ফেন্সি, স্কফ মিলে ৫৫০পিছ বিক্রি করেছি। পরেরদিন আবার কমে ২০০ বিক্রি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রতি ঈদেই এমন জমজমাট ব্যবসা হয়। জেলার অনেক নামি-দামি লোক এদিন বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ফেন্সি,স্কফ কিনে খায়। একটু বাড়তি আনন্দ করতেই ঈদের দিন লোক বেশি আসে ঈদের পর দুই-তিন দিন আরো ভালো ব্যবসা হয়।
কসবা উপজেলার মাদক ব্যবসায়ী আমিন(ছদ্মনাম) বলেন, এবার ঈদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর থেকে কসবা উপজেলায় লোক কম আসছে। তারপরও অনেক ভাল বেচাকেনা হয়েছে। আমি ঈদের দিন প্রায় ৩০০পিছ ফেন্সি, স্কফ,ও বিয়ার বিক্রি করেছি।
বিশিষ্টজন ও সচেতন মহলের অভিমত, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা গুলোতে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ঘটেছে। ঈদকে কেন্দ্র করে মাদক সেবনের একটা বাজে সংস্কৃতি গড়ে উঠছে,এ থেকে জেলাবাসীকে রক্ষা করতে হবে। ঈদের দিন কোটি টাকার মাদক সেবন প্রমাণ করে সংশ্লিষ্ট আইন শৃঙ্খলা বাহিনী লোকবল বাড়ানো ও নজর দাড়ি সহ প্রত্যেক ছেলে মেয়ের অভিভাবকদের ব্যর্থতার বিষয় গুলো। সন্তানের খোঁজ খবর নেওয়া এবং কি করছে, কোথায় যাচ্ছে জবাবদিহিতার মাধ্যমে নাআনলে দিন দিন এর ভয়াবহতা বেড়েই চলবে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি।
বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুল ইসলাম বলেন, ঈদের দিন থেকে এই পর্যন্ত আমরা নিয়মিত চেকপোস্ট বসাচ্ছি। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রয়েছে।