
অচিরেই পায়রা বন্দর দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইকোনোমিক হাবে পরিনত হবে বলে জানিয়েছেন পায়রা বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী, বিএন। তিনি আরও বলেন – পায়রা বন্দরটি বাংলাদেশের কেন্দ্রে অবস্থিত হওয়ায় একটি আন্তর্জাতিক সমুদ্র বন্দর হিসেবে এটি ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই বন্দরটি মূল সমুদ্র থেকে খুব কাছে এবং বড় মাদার ভ্যাসেল সহজেই এই বন্দরে আগমন করতে পারে বলেও তিনি জানান। এছাড়াও পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলটি খুবই প্র্শস্ত এবং সমগ্র চ্যানেলে নূন্যতম ১০.৫ মিটার গভীরতা রয়েছে, যা দেশের অন্য বন্দরগুলোর তুলনায় বেশি। পায়রা বন্দরটি প্রতিষ্ঠা করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি দূরদর্শী ও যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত বলেও তিনি জানান।
মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বাংলাদেশ দূতাবাস, সংযুক্ত আরব আমিরাত’র রাস্ট্রদূত মো: আবু জাফর (সচিব) পায়রা বন্দর পরিদর্শনকালে একথা বলেন। পরে রাষ্ট্রদূত বন্দর চেয়ারম্যান এর সাথে বৈঠক করেন।
এ সময় বন্দর চেয়ারম্যান পায়রা বন্দরে বিনিয়োগ করার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত এর বিনিয়োগকারীদের অনুরোধ জানানোর জন্য রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহবান জানান।
সভায় উপস্থিত ছিলেন, কমান্ডার মাহমুদুল হাসান খান (চীফ হাইড্রোগ্রাফার), শেখ মুর্শিদুল ইসলাম (পরিচালক, প্রশাসন), ক্যাপ্টেন এস এম শরিফুর রহমান (হারবার মাস্টার), লে.কমান্ডার রিফাত মাহমুদ (উপপরিচালক, নিরাপত্তা), মো: আজিজুর রহমান (উপপরিচালক, ট্রাফিক), অমিত চক্রবর্তী ( যুগ্ম পরিচালক) সহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।
রাষ্ট্রদূত মো.আবু জাফর বলেন, পোর্ট সেক্টরে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পায়রা বন্দর এখন একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় সেক্টর । তিনি এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দুবাইয়ের সরকার এবং বিনিয়োগকারীদের সাথে আলোচনা করবেন বলে জানান। পায়রা বন্দরে কেমিক্যাল ও পেট্রোলিয়াম স্টোরেজ সুবিধাদি খাতে দুবাইয়ের বিনিয়োগকারীগন বিনিয়োগ করতে পারেন বলে তিনি জানান, যেমনটি দুবাই সরকার ইতিপূর্বে সিংগাপুরে করেছে। এছাড়াও পায়রা বন্দরে বন্দর ব্যবস্থাপনা খাতে দুবাই কর্তৃক আরও কোন কোন জায়গায় বিনিয়োগ করার সুযোগ রয়েছে সে বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিনিয়োগকারীদের অবহিত করতে শীঘ্রই পায়রা বন্দর থেকে একটি প্রতিনিধি দল সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করতে পারে বলে রাস্ট্রদূত মতামত প্রকাশ করেন। এ সময় বন্দর চেয়ারম্যান রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের সাথে একমত পোষন করেন এবং এ বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে বলে জানান।
পায়রা বন্দর পরিদর্শন শেষে রাষ্ট্রদূত সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং অদূর ভবিষ্যতে পায়রা বন্দরকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালী অঞ্চলটি দ্বিতীয় সিংগাপুরে রুপান্তরিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।