ঢাকা, শনিবার, ৫ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
‘ভাই’ সম্বোধন করায় সাংবাদিককে সাবেক সেনা কর্মকর্তার হুমকি
পিবিআইয়ের তিন পুলিশ সুপারকে রদবদল
পটুয়াখালীতে সড়ক দূর্ঘটনায় আনসার কমান্ডার নিহত
পাঁচবিবিতে আওলাই ইউনিয়ন জামায়াতের ঈদ পূনর্মিলনী অনুষ্ঠিত
আত্রাইয়ের কচুয়া মধ্যপাড়া ইসলামীক সম্মেলন
মিরসরাইয়ে পাঁচ বছরেও উদঘাটন হয়নি গৃহবধূ মুন্নী হ*ত্যার রহস্য , ক্ষুদ্ধ ভুক্তভোগী পরিবার
প্রয়োজনীয় সংস্কার করে যথা সম্ভব দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে :অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার
কালিগঞ্জের বিষ্ণুপুরে কৃষকদলের উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলন ও সাংস্কৃতি সন্ধ্যা 
নওগাঁয় মাটিবাহি ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে মাদ্রাসা পড়ুয়া শিশুর মৃত্যু
ভূরুঙ্গামারী ফাযিল মাদ্রাসার প্রাক্তন ছাত্রদের ঈদ পূর্ণমিলনী
কুয়াকাটা সৈকত দখল করে ঝুকিপূর্ণ মার্কেট নির্মানের অভিযোগ
কুড়িগ্রামে ২৪ পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে কেমন কুড়িগ্রাম দেখতে চাই শীর্ষক মতবিনিময় সভা
বোদায় ট্রাক-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু
সরাইলে অভিযানে ৩ হত্যা মামলার আসামীসহ গ্রেফতার ৯
বাগমারায় চুরিকাঘাতে যুবকের মৃত্যু:ঘাতকে পিটিয়ে হত্যা করলো উত্তেজিত জনতা

ঈদ যাত্রা : জলে-স্থলে-আকাশপথে ছুটছে মানুষ

ডেস্ক রিপোর্ট : এবারের ঈদযাত্রায় ফিরে এলো সেই চিরায়ত পুরোনো চেনা দৃশ্য। ট্রেনের ছাদ পর্যন্ত মানুষ আর মানুষ। ঝুঁকি নিয়েই বাড়ি ফিরছেন অনেকে। ছবিটি ঢাকা থেকে ছেড়ে ময়মনসিংহ হয়ে জারিয়া ঝাঞ্জাইলগামী বলাকা ট্রেনের। চাঁদ দেখা গেছে আগামী পরশু বৃহস্পতিবার উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দে শরিক হতে শেষ মুহূর্তে ঘরেফেরা মানুষের চাপ বেড়েছে। সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশপথে বাড়ির দিকে ছুটছে সবাই। ফাঁকা হয়ে পড়ছে রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরগুলো। এ যাত্রায় কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া কয়েক বছর আগের মতো দুঃসহ ভোগান্তি নেই। এবারের ঈদযাত্রা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হয়েছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা। তবে কোথাও কোথাও ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে যাত্রীদের। বিশেষ করে দুপুরের পর যানবাহনগুলোয় যাত্রীদের চাপ বাড়তে থাকে। অনেক জায়গায় দেখা দেয় যানজট।

সোমবার ছিল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেষ কর্মদিবস। তাই আগের দিনগুলোর চেয়ে সড়কে চাপ একটু বেশি ছিল। ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্ট, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, সাভার-বাইপাইল সড়কসহ অনেক জায়গয় দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়। পরিবহনগুলোয় ঈদ বকশিশের নামে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। কোথাও কোথাও আবার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দুই-তিনগুণ বেশি ভাড়া আদায় করা হয়েছে।

যাত্রীদের অভিযোগ তিন-চারগুণ বেশি ভাড়া আদায়

রাজধানীর মহাখালী, গাবতলী, ফুলবাড়িয়া ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে যাত্রীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে যাত্রীরা বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন। বাড়তি ভাড়া আদায়ে ট্রাক, পিকআপও পাল্লা দিয়ে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। নগর পরিবহনের অনেক বাসও বাড়তি ভাড়ার লোভে দূরপাল্লার যাত্রী পরিবহনে নেমে পড়ে। ফিটনেসবিহীন অনেক বাসকে দূরপাল্লার যত্রী পরিবহন করতে দেখা গেছে।

মহাখালী থেকে ময়মনসিংহগামী সৌখিন পরিবহনের নিয়মিত ভাড়া দুই থেকে আড়াইশ টাকা। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি যেকোনো দূরত্বে সর্বশেষ দূরত্বের ভাড়া আদায় করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ঢাকার একটি গার্মেন্টসের কর্মকর্তা জানান, শেষ কর্ম দিবসে বিকালে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার জন্য মহাখালী টার্মিনালে দীর্ঘ অপেক্ষার পর সৌখিন পরিবহনের একটি গাড়িতে ওঠেন। তিনি জানান, ওঠার আগেই হেলপার জানিয়ে দিয়েছে, যেখানেই নামেন একই ভাড়া ৫০০ টাকা।

তিনি বলেন, এই গাড়িতে ৬০০ টাকা করেও যাত্রী তুলেছে। কোনো উপায় না থাকায় বাড়তি ভাড়া দিতে বাধ্য হয়েছেন সবাই। সরকারের পক্ষ থেকে ভাড়া মনিটরিংয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই।

সাভারের বাইপাইল থেকে সিরাজগঞ্জের ভাড়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। তবে অধিকাংশ যাত্রীর কাছ থেকে হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। রংপুর রুটের ৬০০ টাকার ভাড়ার বদলে নেওয়া হচ্ছে দেড় হাজার টাকা।

পোশাক কারখানা ছুটি হওয়ায় ঈদে বাড়ি যাচ্ছেন অনেকেই। আগে থেকে টিকিট কাটা না থাকায় তারা ঘুরছেন বাইপাইল বাস কাউন্টারে। আলাপকালে তারা জানান, সরকার নির্ধারিত ভাড়া অনুযায়ী তার গন্তব্যের ভাড়া হওয়ার কথা ৩০০ টাকা করে। কিন্তু বেশ কয়েকটি বাস যাচাই করে এক হাজার টাকার নিচে কোনো টিকিট পাননি। শেষমেশ বাড়তি ভাড়া দিয়েই এনআর পরিবহনের বাসে উঠতে হয়েছে তাকে।

অন্য যাত্রী জানান, বাড়ি তো যেতে হবে। এখন বেশি ভাড়া নিলেও আমাদের কিছু করার নেই। একই অবস্থা নবীনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকায়ও। সেখানেও দেখা গেছে সারিবদ্ধ বাসের ভিড়। যাত্রীদের অভিযোগ, নির্ধারিত ভাড়ার তিন-চারগুণ বেশি ভাড়া নিচ্ছে পরিবহনগুলো।

গাজীপুরের চন্দ্রা এলাকায় একজন যাত্রী বলেন,বগুড়া যাব। ১ হাজার ২০০ টাকার কমে কোনো বাসে সিট পাওয়া যাচ্ছে না। হাজার হাজার মানুষ। যে যেভাবে পারে বাড়ি যাচ্ছেন। অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক ও পিকআপেও যাওয়ার চেষ্টা করছে। সেক্ষেত্রেও তাদের ভাড়া গুনতে হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। আরেক যাত্রী বলেন, অন্য সময় ৩০০-৩৫০ টাকায় যেসব গাড়ি ডেকে ডেকে যাত্রী তুলে নিত। সেসব গাড়িই এখন এক হাজার টাকার নিচে তুলতে চাচ্ছে না। কারখানা সব ছুটি হওয়ায় সড়কে অতিরিক্ত মানুষ জড়ো হয়েছে। এই সুযোগে ভাড়া বেশি নেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় পিকআপে বসে থাকা যাত্রী বলেন, কোনাবাড়ি থেকে রওনা হয়েছি, দীর্ঘসময় যানজটে আটকে আছি। যাত্রী বেশি, এজন্য ভাড়াও বেশি। পিকআপের ভাড়া কড্ডার মোড় পর্যন্ত ৫০০ টাকা নিয়েছে। যাই হোক দ্রুত বাড়িতে যেতে পারলেই খুশি।’

চালক-হেলপাররা বলছেন, ঈদে যাত্রীদের চাপ বেশি, তাই কিছুটা বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এটা ঈদ বকশিশ।

এদিকে স্টপেজসহ সড়কের প্রতিটি পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেলেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ে তাদের কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সড়কে পুলিশ কাজ করছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয় আমাদের নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মোবাইল কোর্টও কাজ করছেন। কোনো অভিযোগ পেলেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ঈদ উপলক্ষে গলাকাটা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। বাড়তি ভাড়া বলতে ২০-৫০ টাকা বাড়তি না। ২০-৫০ টাকা বাড়তি হলে মনে হয় যাত্রীরা অভিযোগ করত না। ৩০০ টাকার ভাড়া ১২০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাড়তি ভাড়া যারা বন্ধ করবে, তারাই এখান থেকে সুবিধাভোগী। তা না হলে এভাবে নৈরাজ্য চলত না। এখন বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে?

ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক সকালে ফাঁকা বিকালে যানজট

মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পাল্টে যায় গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ এই দুই মহাসড়কের চিত্র। সোমবার সকালেও সড়কগুলো ছিল ফাঁকা। তবে দুপুরের দিকে শিল্প কারখানায় ছুটি হলে সড়কে যাত্রীদের ঢল নামে। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড় থেকে তিন দিকেই প্রায় ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত যানজটের সৃষ্টি হয়। একই অবস্থা হয় চান্দনা চৌরাস্তা এলাকাতেও। সন্ধ্যার পর যানজট আরও ব্যাপকতা ধারণ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন স্থানে এক হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য কাজ করলেও তেমন সুফল মেলেনি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর সদর, টঙ্গী, কালিয়াকৈরসহ আশপাশের প্রায় সব পোশাক কারখানা সোমবার সকালে ছুটি ঘোষণা করা হয়। একসঙ্গে সব কারখানা ছুটি শুরু হওয়ায় সব কর্মী একসঙ্গে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। এ কারণে বেলা দেড়টার পর থেকে মহাসড়ক দুটিতে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেতে থাকে। সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় ১০-১২ কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। অপরদিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী বাজার, স্টেশন রোড, কলেজ গেট, গাজীপুর চৌরাস্তা, চান্দনা চৌরাস্তা, সালনা, পোড়াবাড়ি, রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা, হোতাপাড়া, মেম্বারবাড়ি, বাঘেরবাজার এলাকাতে বিপুলসংখ্যক মানুষ একসঙ্গে ঘরমুখী হলে যানবাহনের ধীরগতি সৃষ্টি হয়।

নাওজোর হাইওয়ে থানার ওসি শাহাদাত হোসেন বলেন, গাজীপুর ও আশপাশের কারখানা ছুটি হওয়ায় দুপুরের পর থেকে যানবাহনের চাপ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। যার কারণে চন্দ্রা থেকে নবীনগর ও চন্দ্রা-গাজীপুর সড়কের দিকে যানবাহনের লাইন হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) উপকমিশনার (ট্রাফিক) মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন বলেন, গাজীপুর শিল্প অধ্যুষিত অঞ্চল, আজ অধিকাংশ কারখানা ছুটি হয়েছে। ফলে মহাসড়কে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে।

গাজীপুর জেলা প্রশাসক আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বলেন, ঘরমুখী মানুষ যেন নির্বিঘ্নে গ্রামে যেতে পারেÑ এজন্য সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শিল্পকারখানার শ্রমিকরা যেন বেতন-বোনাস পায়, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ ছাড়াও এসব শ্রমিকের কাছ থেকে বাসে অতিরিক্ত ভাড়া যেন না নিতে পারে, সেটিও দেখা হচ্ছে।

ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতুতে নেই যানজট

ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়লেও কোনো যানজট নেই। জানা যায়, পিকআপ ভ্যান, বাস ও খোলা ট্রাকের ছাদে করে নিজ গন্তব্যে যাচ্ছে ঘরমুখী মানুষ। গতকাল বিকাল থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও বঙ্গবন্ধু মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত ১৩ কি‌লো‌মিটারের দুই লে‌নের সড়‌ক নি‌য়ে দু‌শ্চিন্তা থাক‌লেও যান চলাচ‌লে তেমন কোনো সমস‌্যা হয়‌নি। ওই সড়ক শুধু ঢাকা থে‌কে ছেড়ে আসা প‌রিবহনগু‌লো উত্তরব‌ঙ্গের দি‌কে চলাচল কর‌ছে। আর উত্তরবঙ্গ থে‌কে ছে‌ড়ে আসা ঢাকাগামী প‌রিবহনগু‌লো এলেঙ্গা-বঙ্গবন্ধু সেতুর ১৩ কি‌লো‌মিটার সড়‌কে প্রবেশ কর‌তে দেওয়া হয়‌নি। ঢাকাগামী ওইসব প‌রিবহন ভুঞাপুর-এলেঙ্গা আঞ্চ‌লিক বিকল্প সড়ক ব‌্যবহার ক‌রে ঢাকার দি‌কে চলাচল কর‌ছে; য‌দিও এ ব্যবস্থায় প‌রিবহনগু‌লো‌কে বাড়‌তি ১৫ কি‌লো‌মিটার সড়ক ঘু‌রে যে‌তে হ‌চ্ছে।

একজন বাসচালক জানান, গত কয়েক বছর ধরে এই মহাসড়ক দিয়ে ঈদযাত্রায় স্বস্তিতে গাড়ি চালাচ্ছি। এবারও স্বস্তিতে যাত্রীদের বাড়ি পৌঁছে দিতে পারছি। মহাসড়কে প্রচুর গাড়ির চাপ রয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোথাও যানজট সৃষ্টি হয়নি।

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মীর সাজেদুর রহমান বলেন, মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে, কিন্তু কোথাও যানজট সৃষ্টি হয়নি। যানজট নিরসনে আমরা প্রস্তুত রয়েছি।

উপচে পড়া ভিড় ট্রেনেও

গতকাল সকাল থেকেই ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া সব ট্রেনেই ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। বিশেষ করে রাতের ট্রেনগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয় না হলেও সকাল থেকে অনেক ট্রেনই নির্ধারিত সময় থেকে কিছুটা দেরি করে ছাড়ে।

স্টেশনের কর্মকর্তারা জানান, যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে তিন স্তরে টিকিট চেক করা হচ্ছে। স্টেশনে আসা যাত্রীদের টিকিট চেক করে ভেতরের যেতে দেওয়া হচ্ছে। টিকিট ছাড়া কেউ স্টেশনে প্রবেশ করতে পারছেন না। তবে তাদের স্ট্যান্ডিং টিকিট করে ট্রেনে চড়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে স্ট্যান্ডিং টিকিটের চাহিদা বাড়ছে। যাত্রীদের চাপ সামলাতে চালানো হচ্ছে কয়েক জোড়া বিশেষ ট্রেন।

স্টেশন ম্যানেজার বলেন, শিডিউল বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেনি। সকাল থেকে এ পর্যন্ত ২০টি ট্রেন যথাসময়ে ছেড়ে গেছে।

ঢাকার বিমানবন্দর, তেজগাঁও ও ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনেও যাত্রীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে এই স্টেশনগুলোর মধ্যে বিমানবন্দর স্টেশনে সবচেয়ে বেশি ভিড় ছিল।

যাত্রীর চাপ ছিল গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশনেও। গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য স্পেশাল ট্রেনের বাইরে নিয়মিত ট্রেনেও ছিল উপচে পড়া ভিড়। এসব ট্রেন ঢাকা থেকেই পূর্ণ হয়ে আসতে দেখা গেছে। এর মধ্যে জয়দেবপুর থেকে হাজার হাজার যাত্রী ঠেলে উঠে যায় ট্রেনে। তাদের অনেকেই বগির ভেতরে জায়গা না পেয়ে ট্রেনের ছাদে উঠে গন্তব্যে রওনা হয়। স্টেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ থাকায় বাধা দিয়েও তাদের আটকানো যায়নি।

চাপ কম লঞ্চে

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে পর্যাপ্ত লঞ্চ থাকায় বেশ আরামদায়কভাবে বাড়ি ফিরতে পারছেন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষজন। বাড়তি যাত্রী তোলার ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। কোনো একটি লঞ্চে যাত্রী পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘাট ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে। সকালের দিকে যাত্রীর চাপ তুলনামূলক কম ছিল। প্রত্যাশিত যাত্রী না পাওয়ার কারণ কয়েকটি লঞ্চের যাত্রা বাতিল করে মালিকপক্ষ। এবার ঢাকা-তুষখালী, ঢাকা-রায়েন্দাসহ বেশ কয়েকটি রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে, যা গত বছর চালু ছিল।

টার্মিনাল দেখা যায়, তেমন একটা ভিড় নেই। বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলাগামী লঞ্চগুলো অনেকটাই ফাঁকা। শুধু চাঁদপুর রুটের যাত্রীদের ভিড় ছিল উপচে পড়া। কয়েকটি লঞ্চের ছাদে করেও যাত্রীদের বাড়ি ফিরতে দেখা যায়। ভোলা, বরগুনা, হাতিয়া রুটগুলোতেও কিছুটা ভিড় ছিল।

যাত্রীরা বলছেন, পদ্মা সেতুর চালুর পর লঞ্চমালিকদের দাপট অনেকটাই কমে গেছে। এখন আর বাড়তি ভাড়া চাওয়া হয় না। অতিরিক্ত যাত্রীও বহন করা হয় না। টাকা কম লাগে, আর জার্নি খুব আরামদায়ক বলেই লঞ্চে ভরসা তাদের।

বরিশালগামী একজন যাত্রী বলেন, পরিবারের সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ি যাচ্ছি। বাচ্চাদের নিয়ে গাড়িতে ভ্রমণ একটু কষ্টকর। তাই, লঞ্চে যাচ্ছি। তবে আমাদের এলাকার অধিকাংশ মানুষ এখন বাসে করে ঢাকায় যাতায়াত করে। পদ্মা সেতু হওয়ায় আমরা তিন ঘণ্টায় বাড়িতে যেতে পারি।

৮০ শতাংশ টিকিট শেষ বিমানের অভ্যন্তরীণ রুটের

ঈদের আগে অভ্যন্তরীণ রুটে দেশের চারটি বিমান সংস্থার টিকিট বিক্রি প্রায় শেষ। অল্প যা কিছু টিকিট আছে সেগুলো বিক্রি হচ্ছে তিনগুণ দামে। অন্যদিকে ঈদের পর ফিরতি টিকিটও শেষের পথে বলে জানিয়েছে উড়োজাহাজ সংস্থাগুলো। ইতোমধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ টিকিট বিক্রি করেছে এয়ারলাইনসগুলো।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস প্রতিদিন অভ্যন্তরীণ রুটের বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়া এবং আসার জন্য ৩০টি করে ফ্লাইট পরিচালনা করে। ঈদের পর বিভিন্ন গন্তব্য থেকে ঢাকায় ফেরার টিকিট প্রায় ৮০ শতাংশ বিক্রি হয়ে গেছে। সব টিকিট বিক্রি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে নভোএয়ার বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়া-আসা মিলিয়ে ৩০টি ফ্লাইট পরিচালনা করে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন গন্তব্য থেকে ঢাকায় ফেরার ৫০ শতাংশ টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। আর এয়ার অ্যাস্ট্রা প্রতিদিন বিভিন্ন গন্তব্যে ২৪ থেকে ২৬টি ফ্লাইট পরিচালনা করে। তাদের টিকিটও ৫০ শতাংশ বিক্রি হয়ে গেছে। এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী উড়োজাহাজ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের টিকিটেরও চাহিদা রয়েছে। সেই বিবেচনায় ১০ এপ্রিল পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ রুটে অতিরিক্ত ৯টি (যাওয়া-আসা মিলে ১৮টি) ফ্লাইট পরিচালনা করবে এয়ারলাইনসটি। বিমানের ঢাকায় ফেরার টিকিটও প্রায় ৫০ শতাংশ বিক্রি হয়ে গেছে।

ঢাকা ছেড়েছে ২০ লাখের বেশি মোবাইল ফোনগ্রাহক

গত দুই দিনে রাজধানী ছেড়েছেন ২০ লাখের বেশি মোবাইল ফোনগ্রাহক। মোবাইল ফোন অপারেটরদের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে ঢাকায় প্রবেশ করেছেন সাড়ে ৯ লাখের বেশি মোবাইল ফোনগ্রাহক। মোবাইল ফোনের সিম স্থানান্তর থেকে এই হিসাব পাওয়া যায়। তবে এ তথ্যে মোট কত মানুষ ঢাকা ছেড়েছেন তার হিসাবে পাওয়া যায় না। কারণ একই ব্যক্তি একাধিক সিম ব্যবহার করেন। আবার শিশু ও বৃদ্ধরা সকলে মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন না।

শেয়ার করুনঃ