
আর মাত্র কয়েক দিন পরেই ঈদুল ফিতর। ঈদকে ঘিরে আগ্রহের শেষ থাকে না শিশুদের। তাদের বায়না মেটাতে সাধ্যমতো চেষ্টা করেন অভিভাবকরাও। তবুও বঞ্চিত থেকে যায় সমাজের অসহায় পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা। সুবিধাবঞ্চিত এই শিশুদের ঈদের রঙে রাঙাতে তাদের নিয়ে মেহেদি উৎসব করেছেন বরগুনার স্বেচ্ছাসেবী ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ বরগুনা জেলার সদস্যরা।
মঙ্গলবার (৯এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় বেতাগী সদর ইউনিয়ন পরিষদের এলাকায় এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ বরগুনা জেলার সভাপতি যুব সংগঠক মোঃ খাইরুল ইসলাম মুন্না। পরে সংগঠনের নারী সদস্যরা প্রায় অর্ধশতাধিক অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের হাত মেহেদির আল্পনায় রাঙিয়ে দেন। এতে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে এসব শিশু।
কল্পনা আক্তার (৮) নামে এক শিশুর বলে, ‘আপারা আঙ্গর হাতে মেহেদি লাগাইয়া দিছে। এমনে কইরা আঙ্গরে কেউই মেহেদি দেয় নাই আগে। হাতে মেহেদি দিয়া ঈদের আগেই আঙ্গর ঈদের আনন্দ লাগতাছে।’
মেহেদি উৎসবে অংশ নেওয়া তাকওয়া তারিন নুপুর নামের এক তরুণী বলেন, ঈদে সাধারণত ছোট ভাই-বোনদের হাতে মেহেদি দিয়ে আমরা আনন্দ পাই। তবে এবার সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের হাতে মেহেদি রাঙিয়ে দিতে পেরে আরও অনেক ভালো লাগছে।
ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ বরগুনা জেলার সহ সভাপতি ইশরাত জাহান লিমা বলেন, ঈদ সবার জন্য আনন্দের। আমরা চেষ্টা করছি ঈদের আনন্দ যেন গরিব, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ে। সেজন্য আমাদের এই ক্ষুদ্র আয়োজন।
সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন এর সভাপতি মোঃ সাইদুল ইসলাম মন্টু বলেন, এটি একটি দারুণ উদ্যোগ। এতে করে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মলিন মুখেও নির্মল হাসি ফুটেছে। ঈদকে ঘিরে এভাবেই নিজ নিজ উদ্যোগে অন্যান্যরাও যদি অসহায়, দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থাকে তাহলে সকলের ঈদ হবে আনন্দময়।
উৎসবে আরিফুল ইসলাম মান্না, মাঈনুল ইসলাম তন্ময়, মাহি বরহান সিয়াম, বিন্তি, সুমাইয়া আক্তার, শিফা, রিয়া মনি, আদিবা, সহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।