
আকতার হোসেন, মিরসরাই থেকে…
মিরসরাইয়ের করেরহাটে দীর্ঘ চার বছরেও হয়নি গৃহবধূ মুন্নী হ-ত্যার রহস্য উদঘাটন ও কূলকিনারা। এই নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে এবং বিচার না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৫ এপ্রিল (রবিবার) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে মিরসরাই উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম অলিনগর গ্রামের সওদাগর বাড়িতে গৃহবধূ কুলছুমা আক্তার মুন্নী’র নি-র্মম মৃ-ত্যুর ঘটনা ঘটে। গৃহবধূ মুন্নী ঐ বাড়ির কাতার প্রবাসী আক্তার হোসেন প্রকাশ মুক্তার এর স্ত্রী।
একই বছরের ৬ এপ্রিল উক্ত ঘটনায় নি-হতের বড় ভাই ফিরোজ আহমেদ বাদী হয়ে জোরারগঞ্জ থানায় নি-হতের স্বামী আক্তার, শ্বশুর, শ্বাশুড়ি, ২ ঝা ও ভাসুরসহ ৬ জনকে অভিযুক্ত করে ৩০৬ ধারায় মামলা নং-৭/(৪)২০২০ দায়ের করেন, যাহার জি.আর মামলা নং-৭/৬৮।
মামলা দায়েরের ৬ মাস পরে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট প্রকাশ করা হলে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের উপর নারাজি দিয়ে একই বছরের ১২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম চীপ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে উক্ত মামলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)’তে স্থানান্তর করা হলে ঘটনার ১০ মাস পরে ২০২১ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী উক্ত ঘটনা তদন্তের নিমিত্তে পিবিআই এর টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
প্রায় ১০ মাস তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৪ নভেম্বর পিবিআই কর্তৃপক্ষ চীপ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।
পিবিআই তদন্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে নারাজি দিলে ঘটনার চাক্ষুষ সাক্ষী নি-হতের শিশু সন্তান আরাফাত হোসেন মাহিনের জবানবন্দি’র উপর ভিত্তি করে ২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী চীপ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে উক্ত মামলা পুনরায় ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি’)তে স্থানান্তর করা হয়। সেই প্রেক্ষিতে ঘটনার ২ বছর ২ মাস ১৩ দিন পরে ২০২২ সালের ১৭ জুন (শুক্রবার) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট) সিআইডি)’র পুলিশ পরিদর্শক মোঃ সাখাওয়াত হোসেন। দীর্ঘ প্রায় ১৬ মাস তদন্তের পরে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর সিআইডি’র পক্ষ থেকে আদালতে তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করা হলে পরের দিন অর্থাৎ ঐ বছরের ১১ অক্টোবর সিআইডি থেকে প্রাপ্ত রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে আদালতে শুনানি হয়। বর্তমানে মামলাটি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন বলেন, উক্ত ঘটনার নিখুঁত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে প্রকৃত দোষীদের বিচারের আওতায় আনা দরকার।
নি-হত গৃহবধূ মুন্নীর বড় ভাই ও মামলার বাদী
মাস্টার ফিরোজ আহমেদ জানান, ২০২০ সালের ৫ এপ্রিল একমাত্র বোন কুলছুমা আক্তার মুন্নীকে শ্বশুর বাড়ির লোকজন নি-র্মমভাবে খু-ন করে আ-ত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে ফাঁ-সিতে ঝুলে রাখে। এভাবেই চারটি বছর পার হয়ে গেলো। বাড়ি আর জর্জ কোর্টে দৌঁড়াদৌড়িতে আমরা দিশেহারা। তবুও আমি চাই আমার বোনের মৃ-ত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হোক, উন্মোচন হোক অপরাধীদের মুখোশ সেই সাথে ইন্ধনদাতা, প্রকৃত দোষী ও অপরাধীরা কেউ যেন কোনভাবেই পার ও ছাড় না পায় এবং আমার বোনের মতো কারো পরিবারে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে।