
পঞ্চগড়ে’র তেতুলিয়া উপজেলায় বন বিভাগের জমি নষ্ট করে ঐতিহ্যবাহী ডাহুক নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করছে একটি চক্র।
এতে বন বিভাগের বাগান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে নদীটি। বিভিন্ন সময় তেতুলিয়া উপজেলা প্রশাসন ও তেতুলিয়া মডেল থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করলেও তাতে কোন লাভ হয়নি। পাথর উত্তোলন বন্ধ না করে সক্রিয় হয়েছে চক্রটি। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সরেজমিনে পরিদর্শন করে জানা গেছে, উপজেলার ৪ নং শালবাহন ইউনিয়নের বালাবাড়ি এলাকায় ডাহুক নদীর পার ঘেঁষে বনবিভাগের একটি বড় বাগান রয়েছে। বাগানের পার ও নদীতে গভীর গর্ত করে পাথর উত্তোলন করছে শ্রমিকরা। তবে এর নেপথ্যে একটি সুসংগঠিত চক্র সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে তারা। বনের সীমানা বা আশেপাশে নদীতে ছোট বড় প্রায় ৯/১০ টি গভীর গর্ত রয়েছে। সেগুলো কোনটি যৌথ ভাবে, আবার কোনটি একক নেতৃত্বে পরিচালনা করা হয়। সেখানে কোনটি গর্তে ১টি আবার বড় গর্তগুলোতে ২/৩ টি দল একসাথে কাজ করে। প্রতিটি দলে কাজ করা ৩০/৬৫ জন শ্রমিকের ভাগ্যের পরিবর্তন না হলেও উপরি ইনকাম করা চক্রের প্রত্যেকের আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। তারা ঘটনাস্থলে না আসলেও ঘরে বসে ট্রলি প্রতি ১৫০০ টাকা করে নেন। যেহেতু তারা ঘটনাস্থলে থাকে না সেহেতু তারা সবসময় ধরা ছোয়ার বাইরে থাকে। ভ্রাম্মমান আদালত পরিচালনা বা পুলিশি অভিযানে সবসময় শ্রমিরা আটক হয়। স্থানিয়রা আরো জানান, অনেকে নিজেকে জমির মালিক দ্বাবী করে পুকুরের নামে এক বছরের জন্য বা ২/৩ বছরের জন্য নদীর এই গর্ত চুক্তিনামা এগ্রিমেন্ট করে লিজ দেয়। নদী কিভাবে ব্যক্তি মালিকানাধীন খতিয়ানভুক্ত হয় ।
যাদের নেতৃত্বে অবৈধ ভাবে এই পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে তার মধ্যে অন্যতম, মোতাহার, আনান, জিয়ারুল, তফিজুল, জহির, আলম, তৈয়ব আলী, জুয়েল। বিষয়টি নিয়ে তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে মোঃ মতাহার বলেন আমি আমার জমি থেকে পাথর উত্তোলন করছি। মোঃ জহির বলেন, নদী থেকে পাথর উত্তোলন করছি। খতিয়ানভুক্ত জমি। আগে এখানে ধান করতাম। যেহেতু গর্ত করায় আর ধান চাষ হবে না তাই টাকা নেই। তবে বন বিভাগের জমির সীমানা ঘেঁষে বা আশেপাশের এলাকায় নদী থেকে গভীর গর্ত করে পাথর উত্তোলনে বন বিভাগের বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিনিয়ত গতিপথ প্রতিবর্তন হচ্ছে ডাহুক নদীর। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে স্থানীয় বিভিন্ন পরিবেশবাদী সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। অনতিবিলম্বে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সকলেই।