
রাজধানীর পুরানা ঢাকার কোতয়ালী থানার ইসলামপুরের পরিচিত কাপড় বিক্রির প্রতিষ্ঠান‘নাশওয়ান ফ্যাশন’।
প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘাদিন ধরে কাজ করতেন সাঈদ আহমেদ। সনাতন ধর্ম থেকে মুসলিম সাঈদ তার কাজের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিশ্বস্ত কর্মী হয়ে ওঠেন। তবে নারী লোভ ও পরোকীয়ার কাছে হেরে গেলো শততা আর বিশ্বাস।
বরং ব্যাংকে জমা দিতে পাঠানো টাকা নিয়ে চলে যান প্রেমিকা রিতার কাছে। তাকে নিয়ে বগুড়া,নরসিংদীসহ বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ঘুরে কেনাকাটা ও আমোদ ফূর্তি করে দু হাতে টাকা উড়াতে থাকেন সাঈদ। প্রেমিকাকে কিনে দেন দামি দামি পোশাক। গ্রেফতার এড়াতে চেষ্টা করতে থাকেন দেশ ছাড়ার। প্রথম চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে দ্বিতীয় চেষ্টার আগেই ধরা পড়ে যান ঢাকা মহানগ গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)’র হাতে।
গতকাল সোমবার প্রেমিকা রিতাকে নিয়ে দেশ ছাড়ার উদ্দেশ্যে যশোর যাওয়ার সময় ডিবি’র লালবাগ বিভাগের হাতে ফরিদপুর থেকে গ্রেফতার হন সাঈদ ও তার প্রেমিকা রিতা।
মঙ্গলবার ( ২ এপ্রিল ) বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত কলেছেন ডিবির লালবাগ বিভাগের ডিসি (বর্তমানে অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত) মশিউর রহমান।
তিনি বলেন,ইসলামপুরের লেডিস কাপড় বিক্রির প্রতিষ্ঠান ‘নাশওয়ান ফ্যাশন’। ২০২২ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন সাঈদ আহমেদ। সে একজন ধর্মান্তরিত মুসলিম। তার পূর্বের নাম প্রদীপ কুমার বিশ্বাস। বাড়ি গাইবান্ধার সদর থানায়। সে এর আগেও রংপুরের বিভিন্ন কাপড়ের দোকানে কাজ করেছে। সাঈদ তার কর্ম দক্ষতা ও বিশ্বস্ততা দিয়ে নাশওয়ান ফ্যাশনের মালিকের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। তার দুই স্ত্রী রয়েছে। এরপরও অপর এক নারীর সঙ্গে পরোকীয়ার সম্পর্ক গড়ে তুলেন। আর সেই পরোকীয় প্রেমিকার ফাঁদে পড়ে বিশ্বস্ত কর্মী সাঈদ চুরি করে বসেন ব্যবসায়ীর ৩৩ লাখ টাকা। আর এই টাকা দিয়ে বিভিন্ন জেলা ঘুরে ঘুরে আমোদ ফূর্তি ও প্রেমিকার জন্য কেনাকাটা করেন।
ডিসি মশিউর রহমান বলেন,বিশ্বাস আর সততা পরাজিত হয় সাঈদের পরকীয়া নারী লোভের কাছে। গত ২৪ মার্চ চুরির আগের দুইদিন শুক্রবার ও শনিবার হওয়ায় ব্যাংক বন্ধ ছিলো। ঈদের বাজারে এই দুই দিন ভালো বেচা বিক্রির হয়। প্রতিষ্ঠানের লকারে জমা হয় ৩৩ টাকা।
এই টাকা ব্যাংকে জমা দিতে সাঈদ ও প্রতিষ্ঠানের অপর এক কর্মচারীকে ব্যাংকে পাঠানো হয়। কিন্তু পথিমধ্যে অপর কর্মচারীকে দোকানে ফেরত পাঠিয়ে সাঈদ একাই ব্যাংকে প্রবেশ করেন টাকা জমা দিতে। ব্যাংকের মধ্যে কিছু সময় ঘোরাঘুরিও করেন। কিন্তু টাকা জমা না দিয়ে ব্যাগ ভর্তি ৩৩ লক্ষ টাকা নিয়ে চলে যায় সোজা গাজীপুরে প্রেমিকা রিতার কাছে। সেখান থেকে প্রেমিকাকে নিয়ে নরসিংদী,নরসিংদী থেকে বগুড়া। বগুড়ায় ব্যাপক কেনাকাটা করে সেখান থেকে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্দার তেতুলিয়া।
সেখানে গিয়ে আমোদ ফুর্তি করে দুই হাতে টাকা খরচ করতে থাকেন সাঈদ। সেখান থেকে যান প্রেমিকার বাড়ি ফরিদপুরের সদরপুরে। প্রেমিকা রিতার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় সাঈদকে। উদ্ধার করা হয় ট্রাঙ্ক ও মাটিতে গর্ত করে লুকিয়ে রাখা ৩১ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা।
গ্রেফতারের পর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে সাঈদ জানিয়েছে,পরকীয়ার সম্পর্ক ও প্রেমিকাকে বিয়ে করে আমোদ ফুর্তি করে ঘুরে বেড়ানোর জন্যই টাকা চুরি করেছে। সে আরও জানায়,পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে পারে এই ভয়ে সে পঞ্চগড়ের বাংলা-বান্দা দিয়ে পাশের দেশ ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। সেখান দিয়ে দেশ ছাড়তে ব্যর্থ হয়ে যশোর দিয়ে যাওয়ার পথে ফরিদপুরে গ্রেফতার হয়ে যান গোয়েন্দা পুলিশের হাতে।
গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন সাঈদের প্রেমিকা রিতা (৩২)। তার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর জেলার ভাংগা থানা এলাকায়। ব্যক্তি জীবনে সে বিবাহিতা হলেও বর্তমানে সে স্বামীর সঙ্গে আলাদা থাকা সাঈদের সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক বজায় রেখে বসবাস করে আসছিল। সে নরসিংদীর পাঁচদোনা এলাকায় একটি গার্মেন্টসে কাজ করে।
ডিআই/এসকে