
কারানির্যাতিত ছাত্রনেতা নেতা, সফল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, সফল
উপজেলা চেয়ারম্যান সফল সাধারণ সম্পাদক ও সর্বশেষ বাগমারা থেকে জামায়াত-বিএনপি’র হাইব্রীড আওয়ামীলীগকে উৎখাতের জনক হিসাবে পরিচিত যেই নাম তিনি এ্যাড. জাকিরুল ইসলাম সান্টু বর্তমানে জেলা আ’লীগের সহসভাপতির পদ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে চলেছেন। দ্বিতীয় ধাপে আসন্ন বাগমারা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এবারও জাকিরুল ইসলাম সান্টু চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হয়েছেন। তাঁর এই প্রার্থীতার বিষয়টি এরিমধ্যে গোটা উপজেলা ব্যাপি ব্যাপক প্রচার প্রচারনা পেয়েছে। নেতাকর্মীরা বলছেন, এবার উপজেলা নির্বাচনে নৌকা প্রতীক না থাকলেও এবং দলীয়ভাবে কাউকে সমর্থন না দেওয়া হলেও সান্টু ভাইকেই আমরা দলের মনোনীত একক প্রার্থী হিসাবে ধরে নিয়েছি। সেই ভাবেই আমরা প্রচার-প্রচারনা এবং ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা শুরু করেছি। সাধারণ কর্মী সমর্থক ও ভোটাররা বলছেন, এর আগেও সান্টু ভাই এক ট্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ভোট করে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। সে সময়
তাঁর প্রতীক ছিল ঘোড়া । সে সময় তিনি দলীয় প্রতীক না পেয়েও ব্যক্তি ইমেজ ও জনপ্রিয়তার কারণে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। সে সময় থেকে এবার তাঁর জনপ্রিয়তা ও ব্যক্তি ইমেজ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।তাঁরই হাত ধরে তৃণমূল আ’লীগ তথা প্রকৃত আওয়ামীলীগ শক্তিশালি হয়েছে এবং বিতারিত হয়েছে জামায়ত-বিএনপি’র প
ও হাইব্রিড আওয়ামীলীগ। শুদ্ধ হয়েছে বাগমারা উপজেলা। সর্বশেষ সান্টু ভাইয়ের নেতৃত্বের কারণে তৃণমূল আওয়ামীলীগ শক্তিশালি হয়ে তাহেরপুরের মেয়র অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদকে একচান্সে এমপি নির্বাচিত করতে সক্ষম হয়েছে। এই তৃণমূলের শক্তি নিয়ে এবারও সান্টু উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। আগামীর বাগমারাকে তিনি কি ভাবে গড়তে চান। তাঁর কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে সান্টু নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন। গ মঙ্গলবার উপজেলার বড়বিহানলী ইউনিয়নের খালিসপুর গ্রামে বিশাল এক ইফতার মাহফিলে সান্টু এই ঘোষণা দেন। এই ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাগমারার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আবুল
কালাম আজাদ। ইফতার মাহফিলে সান্টু উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে বর্তমান সাংসদ কে সাথে নিয়ে শিল্পোন্নত বাগমারা গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। পরে দেয়া সকালের খবরকে, একান্ত সাক্ষাতকারে সান্টু আরো কিছু পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেনঃ শিল্পোন্নত বাগমারা গড়ে তোলাঃ বাগমারা একটি কৃষি প্রধান এলাকা। এখানে বেকার সমস্যা খুব প্রকট। আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে আমার শিষ্য নতুন এমপি অধ্যক্ষ আবুল কালামকে সাথে নিয়ে বাগমারাকে কীভাবে শিল্পোন্নত করা যায় এবং বেকার সমস্যার সমাধান করা যায় তা নিয়ে তা নিয়ে প্রথম পদক্ষেপ গ্রহণ করব। দলীয় কোন্দল নিরসর ও ত্যাগিদের মূল্যায়নঃ দীর্ঘ ১৫ বছর বাগমারার প্রকৃত আ’লীগ ও ত্যাগি নেতা কর্মীরা চরমভাবে অবহেলিত ছিল। তাদের প্রতি নির্যাতিন জুলুম করা হয়েছে। তারা কোথাও জায়গা পায়নি। আমার কাছে এসে নীরবে কেদেছে,চোখের জল ফেলেছে। আমি চাইবো তাদের কিছুটা সম্মানিত করতে । তার অর্থ লোভী নয়। তারা আওয়ামলীগকে ভালোবাসে। নিয়োগ ও পদপদবী বাণিজ্য বন্ধ করাঃ বিগত ১৫ বছর এই উপজেলায় শুধু টাকার হোলি খেলা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ ও দলীয় পদপদবী কেনা বেচা হয়েছে। এসব কারণে এলাকার শিক্ষারমান একেবারে কমে গেছে এবং রাজাকাররূপি
বিএনপি-জামায়াতের আওয়ামীলীগ ভরে গেছে। আমি চেয়ারম্যান
নির্বাচিত হলে এসব জঞ্জাল ও আগাছা দূর করব। সরকারি সুযোগ সুবিধা তৃণমূলে সঠিক ভাবে পৌঁছানোঃ বিগত দিনে বাগমারাবাসিকে শোষণ করা হয়েছে। এখানে কইয়ের তেলে কই ভাজা হয়েছে। এভাবে শোষণ করে তা থেকে যৎসামান্ন বাগমারাবাসীর সেবাই ব্যায় করা হয়েছে। এভাবে বাগমারাবাসীকে শোষণ করা হয়েছে। আবার বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের নামে বাগমারাবাসীর জায়গাজমি জোর করে দখল করা হয়েছে। আগামীতে এই জুলুম নির্যাতন বন্ধ করা হবে।
নারী সমাজের উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নঃ এখনও পিছিয়ে রয়েছে বাগমারার নারী সমাজ।এই নারী সমাজকে উন্নয়নের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসতে হলে নারী শিক্ষায় আরো গুরুত্ব দিতে হবে। সেই সাথে নারীদের বিভিন্ন কর্মমূখী প্রশিক্ষনে নিয়ে যেতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারীদের ঝরে পড়ার হার কমাতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তবেই নারীরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।
যোগাযোগ ক্ষেত্রে উন্নয়নঃ বাগমারার যোগাযোগ এখনও অনুন্নত। বাগমারা থেকে রাজশাহী যেতে লাগে দুই ঘন্টা এবং রাজধানীর সাথে এখনও সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হয়নি। এছাড়া বাগমারাকে কীভাবে রেল যোগাযোগের আওতায় আনা যায় এসব নিয়ে আমি এখনই কার্যক্রম শুরু করেছি।
প্রিয় বাগমারাবাসী, এসব ছাড়াও বাগমারার আরো বেশ কিছু উন্নয়ন নিয়ে আমার পরিকল্পনা রয়েছে। আপনারা কারো অপপ্রচারে কান দিবেন না। এখানে পরাজিতরা এখনও ছায় চাপা আগুন হয়ে রয়েছে। তারা মীর জাফর বেশে ঘাপটি মেরে আছে সুযোগের
অপেক্ষায়। তাদের থেকে সাবধান থাকবেন। আপনাদের অধিকারের কথা বলায় আমি জেল খেটেছি। আপনাদের কাছে আমার নতুন করে পরীক্ষা দেওয়ার কিছু নেই। আগামীতে আপনাদের হাসি আনন্দ এবং সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে আপনাদের মাঝে স্মরণীয় হয়ে থাকতে চাই। আমাকে আপনারা উপদেশ দিবেন, ভুল ত্রুটি হলে ধরিয়ে দিবেন। আমি চাই বাগমারার মাটি ও মানুষের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি।