
গলাচিপার ট্রলার মাঝি অহিদুল ফকির (৩৮) নিখোঁজের ৬ দিন পর লাশ উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানা পুলিশ। পরে অহিদের পরিবার খবর পেয়ে লাশ সনাক্ত করে। এ ঘটনায় গজারিয়া থানায় নিহত অহিদের ভাই শহিদুল বাদী হয়ে পাঁচজনের
বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেছে। এর আগে নিহত অহিদের সাথে ট্রলারের কর্মচারী ভোলা জেলার শাকিলকে ট্রলার সহ ঝালকাঠি সুগন্ধা নদী থেকে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশে দেয়। নিহত অহিদুল গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের দক্ষিন পূর্ব গোলখালী গ্রামের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সেকান্দার ফকিরের
ছেলে। অহিদুলের স্ত্রী এক ছেলে ও দুটি মেয়ে রয়েছে।নিহতের পরিবার ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ পূর্ব গোলখালী গ্রামের ট্রলার মাঝি নিহত অহিদ ফকির দীর্ঘদিন ধরে বরিশালের জনৈক মো. বজলু মিয়ার ট্রলার ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করতেন। ভোলার থেকে তরমুজ নিয়ে ঢাকা যায়। এর পর ঢাকা তরমুজ নামিয়ে মেঘনা ঘাট থেকে ২৬’শত
বস্তা সুপার কিট সিমেন্টে নিয়ে সোমবার ভোর রাতে ভোলার দৌলত খাঁন উপজেলার বাংলা বাজরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। এসময় অহিদুল বাড়িতে ফোন দিয়ে তার স্ত্রীর আমেনা বেগমের সাথে কথা বলতে চায়। কিন্তু সে ঘুমিয়ে থাকায় মেয়ে রিম্মির সাথে কথা হয়। ওই ফোন কলের পর বেলা এগারোটার দিকে স্ত্রী আসমা
আবার অহিদুলকে ফোনে কল দিলে ট্রলারের স্টাফ শাকিল রিসিভ করে জানায় অহিদুল কাকা ঘুমায় বলে জানায়। এর পর থেকে অহিদুলের ফোনে রিং হলে কেউ আর রিসিভ করেনি।পরে বিষয়টি জানাজানি হলে অহিদুলকে পরিবারের লোকজন খুঁজতে বের
হয়। বিভিন্ন জায়গায় খোজাখুঁজি করে না পেয়ে হতাশায় ভূগছিলেন অহিদের পরিবার। এর মধ্যে গতকাল শনিবার ফেইসবুকে অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের ছবি দেখে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া থানায় লাশ সনাক্ত করে। এদিকে গত সোমবার (২৫মার্চ) অহিদুল নিখোঁজের পর থেকে ট্রলার কর্মচারী শাকিল ও রাকিব দুই ভাইয়ের ফোন বন্ধ করে রাখে। তারা ভোলার দৌলত খাঁনে না গিয়ে ট্রলার চালিয়ে ঝালকাঠি সদরের কাছাকাছি সুগন্ধা নদীর একটি চরে আটকে যায়। ২৬ মার্চ সুগন্ধা নদীতে নৌকা বাইচ থাকায় তারা ট্রলার নিয়ে
আর কোথাও যেতে পারেনি।এদিকে ট্রলারের মূল মালিক.মো.বজলু মিয়া তার ট্রলারের আগে থেকেই জিপিআরএস লাগিয়ে রেখেছিল। তাই মাঝি অহিদের নিখোঁজের খবরের পর থেকেই ট্রলারের গতিবিধি নজরে রাখছিল। জিপিআরএসের মাধ্যমে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীর চর থেকে ট্রলার ও শাকিলকে আটক করে থানায় খবর দেয়।
গোলখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো.নাসিরউদ্দিন জানায়, ৩০ মার্চ মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া থানায় অহিদুলের লাশ সনাক্ত করে ময়নাতদন্ত শেষে ৩১ মার্চ রাতে উপজেলার দক্ষিন পূর্ব গোলখালী গ্রামের নিজ বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়। গজারিয়া থানার অফিসার ইন চার্জ মোল্লা শোহেব আলী জানায়, অহিদুলের লাশ রোববার বাবা সেকান্দার ফকিরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।