
নোয়াখালী কবিরহাট উপজেলার চাপরাশিরহাট ইউনিয়নে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা এক প্রবাসীকে কুপিয়ে জখম করেছে। গত ২৭ মার্চ চাপরাশিরহাট ইউনিয়নের উপদ্দিলামছি ৬ নং ওয়ার্ডের ছয়বাড়ীয়া সমাজে এ ঘটনা ঘটে। ছয়বাড়ীয়া সমাজের মো.সোলেমান মিয়ার (৬৫) এর পুত্র প্রবাসী মো. ইয়াছিন ফকির (৩৬) দীর্ঘ বছর পরে প্রবাস থেকে দেশে পিতার পুরাতন আবাসস্থল ও পৈর্তৃক সম্পত্তির একটি নারিকেল গাছের ডাব পাড়তে আসলে তার উপর এ হামলা করা হয়।
প্রবাসী ফকিরের আপন ছোট ভাই কিশোর গ্যাং সদস্য মো. বছির (২৬) তাকে ডাব পাড়তে বাধা প্রদান করে। কথা কাটা-কাটির এক পর্যায়ে ভিকটিমকে ছোট ভাই বছির এখান থেকে চলে যেতে বলে,না গেলে তাকে হত্যা করবে বলেও হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে তিনি প্রাণ ভয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। একই দিন ইফতার পরবর্তী ভিকটিমের বড় বোন কল দিয়ে আসতে বলে এবং সমস্যা গুলো সমাধানের আশ্বাস প্রদান করে। এদিকে সহজ সরল প্রবাসী ভিকটিম মো. ইয়াছিন ফকির পিতা সোলেমান সহ বোনের বাড়ীতে যায়। এসময় পূর্ব থেকে উৎপেতে থাকা তার ছোট ভাই কিশোর গ্যাং সদস্য মো. বছির একই এলাকার কিশোর গ্যাং সদস্য ও আব্বা বাহিনীর ক্যাডার মো.আবিদ হাসান অন্তর (১৮) পিতা- রুহুল আমিন, মো.আবরার (২৩) পিতা- দিলদার আহমদ শামিম ও আরও বেশ কয়েকজন মুখোশধারী ভাড়াটিয়া কিশোর গ্যাং সন্ত্রাসীরা ভিকটিম ও তাহার পিতাকে রড এবং হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি ভাবে সমস্ত শরীর,মাথায়,পায়ের ঘিরায় মারাত্মক ভাবে আঘাত করে।
এক পর্যায়ে ভিকটিমের সৌর চিৎকার শুনে সেখানকার এলাকাবাসী তাদের উদ্ধার করে কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করায়। ভিকটিম মো. ইয়াছিন ফকির এর মাথায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরন হওয়াতে অজ্ঞান হয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে জেলা শহর মাইজদী নোয়াখালী সদর হাসপাতালে প্রেরন করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাথার সিটি স্ক্যান সহ যাবতীয় পরীক্ষা নীরিক্ষা করার পর শরীরের বিভিন্ন হাঁড় ভেঙ্গে গেছে এবং মারাত্বক জখম হয়েছে বলে জানায়। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা প্রেরণের পরামর্শ দেয়।
কিন্তু ভিকটিম হতদরিদ্র ও অসহায় হওয়ার কারণে উন্নত চিকিৎসা করাতে ব্যর্থ হওয়ায় না দাবি স্বাক্ষর করে নোয়াখালী হসপিটালে পুরুষ সার্জারি ইউনিটে ভর্তি অবস্থায় পড়ে আছেন। টানা দুইদিন অজ্ঞান থাকার পরে জ্ঞান আসে। কিন্তু স্মৃতি শক্তি পাচ্ছে না বলে জানায় ডাক্তার। অপরদিকে কিশোর গ্যাং সদস্যরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় ভিকটিমকে বিভিন্ন মুঠোফোনে ও লোকমুখে মামলা না করার জন্য হুমকি এবং ভয়ভীতি দেওয়া হচ্ছে বলে জানা যায়। এলাকাবাসী অভিলম্বে এসব কিশোর গ্যাং সদস্যদের গ্রেফতার ও আইনের আওতায় আনার দাবী জানায়। মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।