
রাজধানীর রামপুরা থানাধীন বনশ্রীর বি ব্লকে স্বপ্ন সুপার শপে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা আন্তঃ ডাকাত বাহিনীর সদস্য। শুক্রবার রাতে বাগেরহাটের ফকিরহাট এলাকার বড় খাজুরা বাসস্ট্যান্ড থেকে তাদের গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রামপুরা থানা।
গ্রেফতাররা হলেন-ডাকাত দলের টিম লিডার রিপন খান ওরফে জাফর (২৩),সোহেল খান (২২), মো. নজরুল ইসলাম (৫০),জুয়েল ইসলাম (৩০)। এছাড়া ডাকাতির মালামাল ক্রায় চক্রের দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন- তারেক হাসান (৩৬) ও তালহা (৩১)।
গ্রেফতারকালে তাদের কাছ থেকে ডাকাতি হওয়া ১১০টি পারফিউম ও ২২টি লোশন উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও ১টি ধারালো চাপাতি, ১টি কাটার মেশিন,১টি পিকাপ যার নম্বর-(খুলনা মেট্রো-ন-১১-১৪৭৩) ও ১টি লোহার রড জব্দ করা হয়েছে।
শনিবার (৩০ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মতিঝিল বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার এর কার্যালয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলতে এ তথ্য জানান ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হায়াতুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন,গত ২০ মার্চ রাত ২টা ৩৯ মিনিটে বনশ্রীর বি-ব্লকের স্বপ্ন সুপার শপের তালা কেটে ভিতরে ডাকাত দলের সদস্যরা বিদেশী ব্যান্ডের বিভিন্ন পারফিউম, বিভিন্ন ব্যান্ডের স্যাম্পু ও কসমেটিকস আইটেমসহ ২ বস্তায় ভর্তি মালামাল ডাকাতি করেন। ওই ঘটনায় ২ জন গার্ডকে গুরুতর আহাত করে পিকআপে উঠিয়ে নিয়ে বিটিভি ট্রাফিক পুলিশ বক্সের পাশে রাস্তায় ফেলে যায়।
ওই ঘটনায় রামপুরা থানায় মামলা হলে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ গোলাম মাওলার নেতৃত্বে বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আন্তঃ ডাকাত দলের দলের ৪ সদস্যকে ও ডাকাতি মালামাল কিভাবেচক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
ডিসি হায়াতুল ইসলাম খান বলেন,ডাকাত সরদার রিপনসহ এই চক্রের প্রতিটি সদস্যের নামে একাধিক মামলা রয়েছে। এই চক্রটি সাম্প্রতিক সময়ে ডিএমপির কাফরুল,বাড্ডা,শেরে বাংলানগর থানাসহ ফরিদপুর জেলার কোতয়ালী এবং নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরে স্বপ্নের একাধিক সুপার শপে চুরি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছে।
নির্বিঘ্নে ডাকাতি,স্বস্তিতে জামিন ও এক বছরে ১৭বার ডাকাতি:
ডিসি বলেন,২০১৭ সালে মাদারিপুরে প্রথম ডাকাতি করতে যেয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়। জেলেও যায় যথারীতি। জামিনে এসে আগের চেয়ে কৌশলী ও অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে সে। ২০২১ সালে তার গ্যাং ১৭ টি ডাকাতির ঘটনা ঘটায়। ২০২৩ সালে ৭টি ডাকাতি করে। প্রায় প্রতিবারই গ্রেফতার হয়ে আদালতে সোপর্দ হয়েছে। পেয়েছে জামিনও। আবারও ফিরেছে অন্ধকারের চোরা গলিতে। লিখছি ৩২ বছর বয়স্ক ডাকাত সরদার রিপন খান ওরফে জাফরের কাহিনী। ২৪ বছর বয়স থেকে শুরু করে গত ৮ বছরেই এতো সংখ্যক ডাকাতি, ছিনতাই ইত্যাদি কুখ্যাত অপরাধ ঘটিয়েছে ফেলেছে সে। সম্প্রতি তার নেশা হয়ে দাড়িয়েছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার স্বপ্ন সুপারশপে ডাকাতি করা। সর্বশেষ ৮ ডাকাতিই করেছে স্বপ্ন সুপারশপের বিভিন্ন আউটলেটে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন,ডাকাতির পদ্ধতিটিও খুবই আদিম ও বর্বরোচিত। টার্গেট আউটলেটে আগে থেকে রেকি করে তার দল। পরিকল্পনা মোতাবেক নির্দিষ্ট সময়ে চাপাতি,মুগুরসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঝাপিয়ে পরে। দলের একজন অথবা দুজন সদস্য ভদ্রভাবে কথা বলে আউটলেটের নিরাপত্তাকর্মীর সাথে। অন্য সদস্য অতি সন্তপর্নে নিরাপত্তাকর্মীর ঘাড়ের পেছনে মুগুরের এক আঘাতে বেহুশ করে ফেলে। তারপর হাত-পা বেঁধে নিজেদের পিক-আপে বসিয়ে রাখে ওই নিরাপত্তাকর্মীকে। নির্বিঘ্নে ডাকাতি শেষে নিরাপত্তাকর্মীকে ফেলে রেখে চলে যায়।
হায়াতুল ইসলান বলেন,এই বাহিনীর পুরো দলকে আটক করেছে ডিএমপির রামপুরা থানা পুলিশ। সাবইন্সপেক্টর কামরুল ইসলাম জিহানের টিম বাগেরহাটের ফকিরহাট থেকে ডাকাতি প্রস্তুতিকালে তাদেরকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। তাদের তথ্য মতে স্বপ্ন সুপার শপের লুষ্ঠিত মালামাল ঢাকা জেলার আশুলিয়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন গফুর মন্ডল মার্কেটের আশা কসমেটিকস এবং গোপালগঞ্জ কসমেটিকসের দোকান হতে উদ্ধার করে।
ডিআই/এসকে