
জেলার রায়পুর উপজেলার উত্তর সোনাপুর গ্রামের ৪ নং সোনাপুর ইউনিয়ন পরিষদ ৯ নং ওয়ার্ডের নূর মিয়া কয়াল বাড়ির স্থায়ী বাসিন্দা প্রবাসী মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে ও রেয়ার মডেল দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্র মোঃ আফতাব উদ্দিন আহমেদ (১৭), লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের ২০৭ নং রুমের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার মোঃ সাইফুল ইসলাম শরিফ এর অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় পা হারানোর অভিযোগ উঠেছে।
গত ১৭ মার্চ কলাগাছ কাটতে গিয়ে পায়ে দায়ের আঘাত পায় আফতাব। তৎক্ষনাৎ লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নেয়া হয় তাকে। সেখানে জরুরী বিভাগের চিকিৎসার কয়েকদিন পড়ে ডাক্তার সাইফুল ইসলাম শরিফ কে দেখালে ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্যমতে ডাক্তার সাইফুল ইসলাম শরিফের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় পা হারিয়ে পঙ্গু হয়ে ঢাকা সেবিকা জেনারেল হাসপাতালের ৩নং কেবিনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুস্থতার জন্য কাতরাচ্ছেন আফতাব।
এবিষয়ে ভুক্তভোগীর দাদা শহিদুল ইসলাম ও চাচাতো ভাই মোঃ কাওসার আহমেদ এই প্রতিবেদককে বলেন, ” ১৭ মার্চ রবিবার সকালে আমার নাতি আফতাব উদ্দিন আহমেদ কলাগাছ কাটতে গিয়ে দায়ের কোপে তার পায়ে আঘাত পেলে তৎক্ষনাৎ তাকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে যাই। তার পায়ের কাটা জায়গায় সেলাই দিয়ে ডাক্তার হাসপাতালে ভর্তি না দেওয়ায় বেন্ডেজ করে বাড়িতে নিয়ে আসি। জরুরী বিভাগের চিকিৎসকের দেওয়া পরামর্শ মতে তিন দিন পরে ২১মার্চ ( বৃহস্পতিবার) তাকে আবারও ড্রেসিং করতে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যাই। তখন এক্সে রিপোর্ট দেখে ডাক্তার বলেছেন আফতাবের পা সম্পূর্ণভাবে ভালো আছে। রোগীর পায়ে কোন সমস্যা নেই তবুও আমরা জরুরী বিভাগের চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ডাক্তার সাইফুল ইসলাম শরিফ কে দেখাই। ডাক্তার সাইফুল ইসলাম শরিফ রোগী কে দেখে তৎক্ষনাৎ ওটি রুমে নিয়ে তার পায়ের সবগুলো সেলাই কেটে ফেলেন, পরে রোগীর মাকে ডেকে বলেন, তার পায়ে কিছুটা পুঁজ জমেছে তাই পুনরায় ড্রেসিং করতে হয়েছে। ওটি রুম থেকে আফতাব উদ্দিন আহমেদ কে বের করার পরে দেখি তার পায়ে, পা ভেঙে গেলে যে প্লাস্টার লাগানো হয় সেই প্লাস্টার লাগানো হয়েছে। তার দুদিন পরে অর্থাৎ ২৩ মার্চ (শনিবার) ফের ডাক্তারের কাছে গেলে ডাক্তার সাইফুল ইসলাম শরিফ বলেন, আফতাবের পায়ের অবস্থা ভালো না তাকে ঢাকা নিয়ে যেতে। তৎক্ষনাৎই আমরা আফতাব কে নিয়ে ঢাকা যাই অনেক গুলো হাসপাতালে আফতাব কে নিয়ে দেখাই কিন্তু সবগুলো হাসপাতাল থেকেই বলেন তার পা পচন ধরছে এখন কেটে ফেলা ছাড়া কোন উপায় নেই। ডাক্তার সাইফুল ইসলাম শরিফের ভুল চিকিৎসায় আফতাব উদ্দিন আহমেদ এর পা কেটে ফেলতে হয়েছে। আমরা এই ডাক্তারের দ্রুত বিচার দাবী করে ভুক্তভোগী পরিবারের ক্ষতি পূরণ দাবী করছি। ”
গত ২৮ মার্চ ( বৃহস্পতিবার)চিকিৎসকের বিচার দাবীতে উপজেলার পাটোয়ারী রাস্তার মাথা এলাকায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছে পা হারানো ছাত্রের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রেয়ার মডেল দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ এলাকাবাসী।
ভুক্তভোগীর মা হোসনেয়ারা বেগম (৩৫) কেঁদে কেঁদে বলেন, আমার ছেলেটাকে ডাক্তার সাইফুল ইসলাম শরিফ পঙ্গু করে দিছে। বিচার চাই চিকিৎসকের। আর কারো যেন এমন ক্ষতি না হয়।
শিক্ষার্থী আফতাব বলেন, আমি খুবই অসুস্থ। ভুল চিকিৎসায় আমি পা হারিয়েছি। ঐ লোকগুলোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডাক্তার সাইফুল ইসলাম শরিফ বলেন, ” বিষয়টি আমি মাত্র আপনার থেকে শুনলাম। তবে আমি যতটা জানি তা হচ্ছে, রোগী আমাকে দেখানোর পূর্ব জরুরী বিভাগের চিকিৎসা নিয়ে ছিল। আমি আউটডোরে ২০৭ নং ওয়ার্ডে রোগী দেখি, আমি রোগীকে দেখে ২০৬ নং ওটি রুমে পাঠিয়েছিলাম, সেখানে যারা আমার সহযোগী রয়েছে তারা দেখে চিকিৎসা দিয়েছে। রোগীকে ভর্তি দিয়েছিলাম ফলোআপের জন্য কিন্তু তারা ড্রেসিং করে রোগীকে বাড়িতে নিয়ে যায়। দুদিন পরে আসলে তখন রোগীর অবস্থা খারাপ দেখে ঢাকায় রেফার করি। আমরা একটা টিম ওয়ার্কে কাজ করি তাই সবার সঙ্গে এবিষয়ে আলোচনা না করে কি হয়েছে বলতে পারবোনা। ”
এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ আহাম্মদ কবির মুঠোফোনে বলেন, এ বিষয়ের আমি অবগত নই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এবিষয়ে অভিযুক্ত ডাক্তার সাইফুল ইসলাম শরিফের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার জন্য ক্ষতি পূরণ চেয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবার।