
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মাউলি ইউনিয়নের ইসলামপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মকছেদ মোল্যা ও মহুরন নেছার উচ্চ শিক্ষিত ছয় পুত্র গড়ে তুলেছেন পরিবেশ বান্ধব ড্রাগন বাগান। আব্দুল মান্নান মোল্লা, এ্যড: আব্দুল হান্নান, আব্দুল হাফিজ, মো: মাহমুদুল হাসান (মাহমুদ), মো: মোস্তাফিজুর রহমান, প্রভাষক মো: মরফূদুল হাসান পলাশ। প্রথমে নবগঙ্গা নদীর কুলঘেষে ৩ কোটি টাকার অধিক ব্যায়ে ইটভাটা তৈরি করেন। ইটভাটার কালো ধোয়া পরিবেশের জন্য বিরাট এক হুমকি এই বিষয়টি মাথায় রেখে উচ্চশিক্ষিত ছয় ভাই মিলে সিদ্ধান্ত নেন যেটা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর, মানুষের জীবনের জন্য হুমকী সেটা করা যাবে না, আমাদের নতুন কিছু করতে হবে যা মানুষের জীবন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করবে। পরে সেই বিষয় মাথায় রেখে তারা প্রাথমিকভাবে ৬০ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করেন। বাগানটির নামকরণ করা হয়েছে, ইসলামপুর-তপসীডাঙ্গা,”মকছেদ মোল্লা এন্ড মহুরুন নেছা” এগ্রো ড্রাগন গার্ডেন। বর্তমানে ৬০ বিঘা জমিতে ১৩ হাজার পিলারে ৫৬ হাজার ড্রাগন গাছ ফুলে ফলে আচ্ছাদিত করে রেখেছে। যেদিকে তাকানো যায় শুধু ড্রাগন গাছ আর ড্রাগন গাছ এ এক অন্যরকম অনুভূতি। নড়াইলের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশফাকুল হক চৌধুরী এই ড্রাগন বাগান পরিদর্শনে এসে বলেন, আমি বিস্মিত ও অভিভূত এ রকম ড্রাগন বাগান আমি আগে কখনো দেখিনি।
এ সময় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক দীপক কুমার রায়, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লিংকন বিশ্বাস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো: জোবায়ের হোসেন চৌধুরী, কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিদিনই এই ড্রাগন বাগান দেখতে দূর দুরান্ত থেকে অগণিত মানুষ ছুটে আসে। কেউ আসে ঘুরতে, কেউ আসে বাগান দেখতে, কেউ আসে কি ভাবে এই ফল চাষ করা যায় তা জানতে, কেউ আসে ড্রাগন গাছের চারা নিতে। পরিবেশ বিপর্যয়ের ব্যবসা বন্ধ করে পরিবেশ সুরক্ষায় সবুজ বিপ্লব ঘটিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন এই ছয় ভাই। এ যেন এক রূপকথার গল্পকে হার মানিয়ে অসাধ্যকে সাধ্য করা। এটাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ড্রাগন বাগান।