ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা উপজেলায় ৫৬৭ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে লিচু চাষ হচ্ছে প্রকৃতিতে এখন ঋতুরাজ বসন্ত চলছে। ফাল্গুন-চৈত্র দুমাস বসন্তকাল। তাই প্রকৃতি সেজেছে রং-বেরঙয়ে। চারিদিকে সবুজের সমাহার। ঋতু বদলের সঙ্গে সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজনগর, আখাউড়া, কসবা, সবুজ পাতার ফাঁকে প্রতিটি লিচুর বাগানে গাছে গাছে উঁকি দিচ্ছে নাক ফুলের মতো লিচুর সোনালি মুকুল। লিচু গাছের মুখরিত তাক লাগানো মুকুল দেখে বাগান চাষি ও গাছ মালিকেরা অনেক খুশি। চলতি মৌসুমে বিজয়নগর,আখাউড়া, কসবা, নবীনগর, নাসিরনগর, আশুগঞ্জ, সরাইল, সদর উপজেলার ৫৬৭ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে লিচু চাষ হচ্ছে। বৈরী ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া যদি না আসে তবে লিচুর বাম্পার ফলন হবে। এ বছর বাগান মালিকেরা লাভবান হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সরেজমিন দেখা গেছে, নিচু গাছের মুকুলের সঙ্গে বাগানের। চাষি ও মানিকদের যেন সোনালি স্বপ্ন উঁকি মারছে সবুজ পাতার ফাঁকে গাছে লিচুর মুকুল আসার পর যেন ঝরে না পড়ে তাই লিচুর কুঁড়ি আসার আগে গাছের গোড়া পরিস্কার, সেচ ও সার দিয়ে কৃষি অফিস অনুমোদিত ভিটামিন জাতীয় বিভিন্ন রকম মেডিসিন স্প্রে করে বাগান পরিচর্যায় বাস্ত সময় পার করছেন। লিচুর বাগানে বাড়তি শ্রম দিচ্ছেন চাষিরা। কারণ লিচু গাছে মুকুল থেকে কুঁড়ি ও ফল আসা পর্যন্ত যত্ন করলেই মিলবে বাম্পার ফলন।
কৃষি অফিস সূত্র আরও জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া উপজেলায় প্রধানত, ৩ জাতের লিচু চাষ হয়। তার মধ্যে মোজাফ্ফর (দেশী) লিচু পরিপক হয়ে সবার আগে বাজাবে আসে। তবে ব্যবসায়ীদের বেশি চাহিদা বোম্বাই ও চায়না-৩ লিচু। আর তাই চাষিরা বেশি ঝুঁকছেন সেদিকে। স্বল্পসংখ্যক কৃষক জার জমিয়ে কদমি, কাঁঠালি এবং বেদেনা, চায়না-১, চায়না-২ লিচুর চাষ শুরু করেছে। বোম্বাই, চায়না-৩ লিচু আকারে বড়, খেতে সুমিষ্ট স্বাদ গন্ধ আলাদা, লিচুর আঁটি ছোট হওয়ার কারণে দেশে-বিদেশে বেশ সুনাম রয়েছে।বিজয়নগর উপজেলার হরষপুর, মকন্দপুর, আউলিয়া বাজার, পাহাড়পুর, সেজামোরা, কামালমোরা, চম্পা নগর, পত্তন, কালাছড়া, বিষ্ণুপুর, হিরা তলা, কাশিরনগর, সিংঙ্গার বিল।আখাউড়া উপজেলার আমোদাবাদ, আজমপুর, রামধনগর, করাতলী টানপাড়, চাঁদপুর দুর্গাপুর কল্যাণপুর আনোয়ারপুর কুড়ি পাইকা হিরাপুর গাজিরবাজার বাউতলা আমেদাবাদ গঙ্গাসাগর।
কসবা উপজেলার পৌরসভা, হাদলা, মাদলা, নয়নপুর, গোপীনাথপুর। সোমবার ২৫/০৩/২০২৪ ভোরের ডাকের জেলা সংবাদদাতা সরেজমিন বিজয়নগর ও আখাউড়া দুটি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন। গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের গাছে গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে লিচুর মুকুল। লিচু গ্রাম খ্যাত ইউনিয়নে এমন কোনো বাড়ি নেই, যে বাড়িতে একটি লিচুর গাছ নেই। বাগান মালিক ও কৃষকেরা লিচুর বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। লিচুর বাগান মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ফালগুনের মাঝামাঝি সময়ে গাছে গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। চৈত্রের মাঝামাঝিতে বাগানগুলোতে লিচুর মুকুল থেকে কুঁড়ি আসা শুরু হয়েছে। চৈত্রের শেষ সপ্তাহে কুঁড়ি থেকে ফুটবে গুটি লিচু। সবুজ গুটি থেকে থোকা থোকা বৈশাখের শেষে টকটকে লাল রঙে রাঙাবে গ্রাম। লিচুর রাজ্যে পরিণত হবে বিজয়নগর, আখউড়া, ও কসবা অর্ধশত গ্রাম।
লিচু চাষিরা জানান, চলতি মৌসুমে লিচুর মুকুল আসার আগে হালকা বৃষ্টি মুকুল আসার পর পুনরায় হালকা বৃষ্টির কারণে পূর্ণাঙ্গ মুকুল বের হয়েছে। ইতোমধ্যে মুকুল থেকে ফুল ফুটতে শুরু করেছে। যদি এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকে, কয়েক বছরের তুলনায় এবার লিচুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। লিচুর বাগান চার পাসে বিক্রি হয়। লিচু গাছে পাতা আসা শুরু করে মুকুল আসার আগেই এবং লিচুর মুকুল থেকে লিচুর গুটি হওয়ার পরে বাগান বিক্রি হয়। নিচু সবুজ গুটি হওয়া থেকে ফল ধরা পর্যন্ত, ফল পাকলে লিচু গাছ থেকে পাড়া পর্যন্ত চারবার পরিবর্তন হয় বাগানের মালিকানা। তবে অনেক বাগান মালিকরা লাভের আশায় নিজেই শ্রম দেন। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ব্যবসায়ীরা বাগান ক্রনা করে পরিচর্যাও করেন বলে জানান লিচু চাষিরা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ও উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিজয়নগর আখাউড়া, কসবা, উপজেলায় ৫৪৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের লিচু চাষ হয়েছে। আখাউড়া পৌরসভা ও ৫টি ইউনিয়নে বিভিন্ন গ্রামে ৮০ হেক্টর জমিতে ৭২০০টি লিচু গাছ রয়েছে। বিজয়নগর ৪৩০ হেক্টর, কসবা ৩৫ হেক্টর, নবীনগর ১৫ হেক্টর নাছিরনগর ৩ হেক্টর, আশুগঞ্জ ১ হেক্ট, সরাইল ১ হেক্টর, বাঞ্ছারামপুর এক হেক্টর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ১ হেক্টর। বিঘা প্রতি ২০টি থেকে ১৫টি গাছ অর্থাৎ এক একর জমিতে ৪২টি, এক হেক্টর জমিতে ৯০টি গাছ হয়েছে।
জেলা জুড়ে বাণিজ্যিক আকারে লিচু বাগান রয়েছে ৫০০ হেক্টর জমিতে। বিচ্ছিন্নভাবে বসতবাড়ি আবাদ হয়েছে ২২ হেক্টর জমিতে। ফলন্ত আবাদি জমির পরিমাণ ৫৬৭ হেক্টর।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা কৃষি ট্রেনিং কর্মকর্তা মানসী তোফায়েল হোসেন কৃষিবিদ জানান, ফাল্গুনে লিচুর মুকুল থেকে ফুল আসা শুরু হয়েছে। চলতি মৌসুমে মুকুল আসার আগে এবং পরে হালকা বৃষ্টি হওয়াতে লিচুর ফলন ভালো হবে এবার। লিচু গাছে মুকুল আসার আগে ও পরে রোগবালাই দমন কৃষকদের পরামর্শ সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে মুকুল থেকে লিচুর শুটি যেন গাছ থেকে ঝরে না পড়ে সেজন্য আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে আসছি ফলন অনুযায়ী লক্ষ্যমাত্রা গত বছর থেকে ভালো হবে।