
রাজধানীর মিরপুর পল্লবী থানার সাড়ে ১১ নম্বর এলাকায় আধিপত্যের দ্বন্দ্বে প্রতিপক্ষ কিশোর গ্যাং গ্রুপের হামলায় প্রাণ যায় কারচুপি কারিগর ফয়সালের। একই ঘটনায় ছুরিকাঘাতে রানা ওরফে রানু নামের অপর এক তরুণ চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ফয়সাল হত্যা মামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ও পটুয়াখালী,নেত্রকোনা জেলায় অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাং গ্রুপের ১০জনকে গ্রেফতা করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)’র মিরপুর বিভাগ।
গ্রেফতারকৃতরা হলো-শাহিন ওরফে নাডা শাহিন (২৪), মো.মুরাদ হোসেন (২৪),পারভেজ আহম্মেদ (২২), মো.ইয়াসিন (২০),মো. সাইফুল ইসলাম সাইমন (৩০),মো.নাসির উদ্দিন (২০),মো.হৃদয় ওমর সাফি গন্ডার (২০),মো.রাজিব মিয়া (২৫),শাহনেওয়াজ ওরফে কাল্লু (২৮), তানজিলা (২৩)।
এ সময় তাদের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি, রামদা ও ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২২ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ কালে এ তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।
হারুন বলেন,রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী থানা এলাকায় একটি চাঞ্চল্যকর কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় ফয়সাল নামের একজন নিহতের ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়। এই ঘটনার আসামিরা পালিয়ে যায়।
আমরা মামলার তদন্তে নেমে জানতে পারি প্রথমে একই গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। দুটির মধ্যে একটি গ্রুপ হলো পেপার সানী গ্রুপের সদস্য মো. শাহিন ও তার বোন তানজিলার সঙ্গে গত ১৫ মার্চ বিকেলে মাদকের টাকা ভাগাভাগি ও আধিপত্ত বিস্তার নিয়ে গ্রুপের সদস্য ফয়সাল ও রানা ওরফে রানুর সঙ্গে মারামারির ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনার পরে পেপার সানী গ্রুপের সদস্য শাহিন ওরফে নাডা শাহিন এই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে সায়মুন গ্রুপের রাব্বী ওরফে গালকাটা রাব্বীকে জানায়।
পরের দিন ফয়সাল ও তার বন্ধু রানাসহ আরও দুই বন্ধুসহ রিকশায় করে পল্লবীর কমিউনিটি সেন্টারে ইফতার শেষে বাসায় ফেরার পথে পল্লবী থানার সেকশন-১২ চাপাতি,তলোয়ার,রামদা,সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে এলোপাথারিভাবে কুপিয়ে আহত করে। পরবর্তীতে নিহত ফয়সালের মা এসে উদ্ধার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফয়সালকে মৃত ঘোষনা করেন এবং তার বন্ধু রানা ওরফে রানু আশংকাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। পরবর্তীতে নিহত ফয়সালের বাবা শাহাদাত হোসেন পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এই ঘটনায় আমরা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যায় জড়িত ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িতদের অন্যদেরও গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
গোয়েন্দা প্রধান আরও বলেন,মিরপুর এলাকায় কিশোর গ্যাং সদস্যরা প্রায়ই মাদক ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মারামারির ঘটনা ঘটায়। একই ঘটনা উত্তরায় ঘটেছে। উত্তরা এলাকায় বেশ কিছু বড় ভাইদের নাম পেয়েছি যারা কিশোর গ্যাং গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া মিরপুর ও উত্তরার পাশাপাশি মোহাম্মদপুরেও বেশ কয়েকটি কিশোর গ্যাং গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। রাজধানীর কোনো এলাকায় বড় ভাইদের বিস্তার করতে দেওয়া হবে না। কোনো বড় ভাইয়ের নামে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাতে দেওয়া হবে না। আমাদের গোয়েন্দা পুলিশের প্রত্যেকটি টিম রাজধানীর প্রত্যেক এলাকায় কাজ করছে।
ফয়সাল হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযানে নেতৃত্বদেন ডিবির মিরপুর জোনের পল্লবী জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) রাশেদ হাসান। তিনি বলেন,পল্লবী এলাকায় একাধিক কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। এই ঘটনা ছাড়াও অতীতেও কিশোর গ্যাং সদস্যরা বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা জড়িতদের ধরতে ধারাবাহিক অভিযান চলছে।
ডিআই/এসকে