
ডেস্ক রিপোর্ট:
বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ বাছাই ফুটবলে ফিলিস্তিনের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত বাংলাদেশ। কুয়েত সিটির জাবের আল আহমেদ স্টেডিয়ামে আজ বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১২টায় মাঠে গড়াবে ম্যাচটি। ভালো খেলার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী জামাল-তপুরা।
কী দুর্দান্তই না কেটেছে গত বছরটা বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের। র্যাংকিংয়ে পিছিয়ে থাকা ভারত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র সেশেলসের বিপক্ষে সিরিজ জিততে না পারা (এ ম্যাচে জয়, অপরটিতে হার) দিয়ে বছর শুরু হলেও এরপর কম্বোডিয়ার বিপক্ষে ফিফা প্রীতিম্যাচে জয়। পরে সাফ ফুটবলে দারুণ ম্যাচ উপহার দিয়ে সেমিতে যাওয়া। কুয়েতের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ের গোলে সেমিতে হারের পর বিশ্বকাপ বাছাই প্লে-অফে মালদ্বীপকে হারিয়ে বাছাই পর্বে উন্নীত হওয়া। সেই বাছাই পর্বে শক্তিশালী লেবাননের সাথে ড্র। এর আগে আফগানিস্তানের সাথে ফিফা প্রীতিম্যাচেও ড্র করা; যা কোচ হাভিয়ার কাবরেররা চাকরি টিকিয়ে দিয়েছে। জামাল ভূঁইয়াদের নিয়েও নতুন করে আশায় বুক বাঁধতে উৎসাহ জোগাচ্ছে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের। ২০২৩ সালের সেই সুখস্মৃতি এখন বড় ভরসা। তবে আজ যদি ফিলিস্তিনের বিপক্ষে সেই সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখা যায় তা হলে এশিয়ান কাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার রাস্তা তৈরি হবে। বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৯টায় কুয়েতের জাবের আল আহমেদ স্টেডিয়ামে শুরু হবে এই ম্যাচ।
এখন পর্যন্ত ইসরাইলি আগ্রাসনে বিপর্যস্ত দেশ ফিলিস্তিনের বিপক্ষে জয়ের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। আছে একটি ড্রয়ের সুখস্মৃতি। তা ২০০৬ সালের এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপের গ্রুপ পর্বে। ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হয়। সে ম্যাচে গোলটি করেন স্ট্রাইকার মেহেদী হাসান তপু। বাকি চার ম্যাচেই হার। সর্বশেষ ২০২১ সালে কিরগিজস্তানে হওয়া তিন জাতি ফুটবলে ফিলিস্তিনের কাছে ০-২ গোলে হার। ২০১৮ সালের বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের সেমিতেও বাংলাদেশের পরাজয়। কক্সবাজারের মাঠে ফিলিস্তিনের ২-০ গোলে জয়। এর আগে ২০১১ সালে মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপে ০-২ গোলে এবং ২০১৩ সালে নেপালে অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বে ০-১ গোলে হার লাল-সবুজদের। ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ‘আই’ গ্রুপে লাল-সবুজদের মতোই ১ পয়েন্ট ফিলিস্তিনের। তবে গোল পার্থক্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি তিন এ আছে। তারা এবারের বাছাই পর্বে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ০-১ গোলে হেরেছিল। যেখানে বাংলাদেশকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল সকারুজরা। তবে এই ক্ষেত্রে জামাল ভূঁইয়াদের প্রেরণা লেবাননের সাথে ম্যাচ। কাবরেরা বাহিনী লেবাননের সাথে ড্র করেছে। আর ফিলিস্তিনেরও এক পয়েন্ট পাওয়া এই লেবানিজদের সাথে। গোলশূন্যতে শেষ হয়েছিল সেই ম্যাচ। তবে ফিফা র্যাংকিংয়ে (৯৭) দলটি যেমন এগিয়ে তেমনি শক্তিতেও। বাংলাদেশের (১৮৩)। এবারের এশিয়ান কাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে তারা উঠেছিল ফিলিস্তিন। হংকংকে ৩-০ গোলে হারিয়ে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে ১-১ গোলে ড্র করে নক আউটে যাওয়া; যা ছিল দেশটির প্রথম। এরপর চ্যাম্পিয়ন কাতারের কাছে ১-২ গোলে হেরে বাদ পড়ে।
তাই আজকের প্রতিপক্ষকে সমীহ করছে বাংলাদেশ কোচ ও অধিনায়ক। কোচ হাভিয়ার কাবরেরার মতে, ‘ফিলিস্তিন তাদের একজন স্ট্রাইকারকে হারিয়েছে ইনজুরির জন্য। তবে অন্যজনকে নিয়েছে। এর পরও তাদের শক্তিতে হেরফের হওয়ার চান্স কম। তবে আমরা আমাদের পরিকল্পনা থেকে সরে আসছি না।’ যোগ করেন, আমাদের কোনো ইনজুরি সমস্যা নেই। সব কিছুই ইতিবাচক। প্রস্তুত ফিলিস্তিনের সাথে লড়াই করার জন্য। পজিটিভ রেজাল্টই আশা করছি। এ ক্ষেত্রে সৌদি আরবে অনুশীলন এবং সুদানের সাথে দুই ম্যাচের অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে।’
অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার মতে, কোচ আমাদের সতর্ক করেছেন, ফিলিস্তিনিরা ফিজিক্যালি খুবই শক্তিশালী। তারা এশিয়ান কাপে অসাধারণ খেলেছে। দলের খেলোয়াড়দের সবারই উচ্চতা ছয় ফুটের ওপরে। তাই আমরা চেষ্টা করব তারা যেন সেট পিস না পায়। ক্রস করতে না পারে।’ জানান, আমরা চাই ভালো রেজাল্ট। এ জন্য আমাদের খুবই সিরিয়াস হতে হবে। না হলে পড়তে হবে সমস্যায়।