প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ৬, ২০২৫, ২:০৫ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ২০, ২০২৪, ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ
মিরসরাইয়ে মিঠাছরা জেনারেল হাসপাতালের বিরুদ্ধে ভূল চিকিৎসায় গৃহবধূ মৃত্যুর অভিযোগ

মিরসরাইয়ের মিঠাছড়া জেনারেল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ দায় স্বীকার করছে না। এদিকে অভিযোগ তদন্ত করে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন জেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যায় প্রসব বেদনা উঠলে হাসপাতালে সালমা আক্তার (২৩) নামে ওই গৃহবধূকে ভর্তি করান স্বজনরা। পরে রাত ১২টায় নরমাল ডেলিভারি শেষে সন্তান প্রসব করেন তিনি। কিন্তু সালমার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক চট্টগ্রাম মেডিকেল (চমেক) কলেজ হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।
সালমা উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের সাহেবদি নগর গ্রামের ইদ্র্রিস মিয়ার বাড়ির কুয়েত প্রবাসী নাজিম উদ্দিনের স্ত্রী। এই দম্পতির নাজমিন সুহানা নামের ৬ বছরের এক কন্যাসন্তান রয়েছে।
এদিকে জন্ম নেওয়া নবজাতক সুস্থ রয়েছে। সে তার নানি ও খালার কাছে রয়েছে। তার নাম রাখা হয়েছে আদনান হোসেন।
জানা গেছে, সালমা আক্তার শুরু থেকে এই হাসপাতালে ডা. শারমিন আয়েশার পরামর্শে চিকিৎসা নিয়ে আসছিলেন। নরমাল ডেলিভারির জন্য হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে চলাফেরা করেছেন তিনি।
সালমার বোন সানজিদা আক্তার বলেন, ‘শুরু থেকে মিঠাছরা জেনারেল হাসপাতালের ডা. শারমিন আয়েশার পরামর্শে চিকিৎসা করে আসছিলেন আমার বোন। মৃত্যুর পরে জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক মাসুদ বলেন, আমার বোনের জরায়ুতে টিউমার থাকায় মৃত্যু হয়েছে। টিউমার যদি থাকত তারা আগে বলেনি কেন? এতবার আলট্রাসনোগ্রাম করিয়েছে এই হাসপাতালে। সন্তান ডেলিভারির পরে কেন বলছে। আমার বোনের মতো আর দশ পরিবারের এই ক্ষতি যেন না করে মিঠাছরা জেনারেল হাসপাতাল, তাই আমরা উপযুক্ত বিচার চাই।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সালমার মা আকলিমা বেগম বলেন, ‘সন্তান প্রসবের পরে আমার মেয়ে আমাকে জানালা দিয়ে ডেকেছে। হাসপাতালের লোকজন ঢুকতেই দেয় নাই। তাদের গাফিলতির কারণে আমার মেয়েকে হারালাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার সদ্য জন্ম নেওয়া নাতি এবং ৬ বছরের সুহানা এতিম হয়ে গেল। মেয়ের মৃত্যুর পরে হাসপাতালের পরিচালক মাসুদকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি আমাকে বলেছেন, ‘‘নো সাউন্ড, কোনো কথা নাই’। আমি আমার মেয়ের মৃত্যুর বিচার চাই।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মিঠাছরা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক মো. মাসুদ রানা বলেন, ‘আমার হাসপাতালে মারা যায়নি। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছে। সাড়ে ১১টায় নরমাল ডেলিভারি হয় এই রোগীর। পরে ব্লিডিং দেখে আমরা সেলাই দিয়ে রেফার করি।’
মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিনহাজ উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাকে কেউ জানায়নি। ঘটনাটি আপনার কাছেই শুনলাম। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, ‘এই বিষয়ে এখনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Copyright © 2025 সকালের খবর ২৪. All rights reserved.