
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেছেন, এবারের ঈদ যাত্রায় আন্তঃজেলা বা দূরপাল্লাঢ যদি কোনো গণপরিবহন বাড়তি ভাড়া নেয়, সেটার প্রমাণ যদি আমরা পাই তবে সেই গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হবে। নেয়া হবে আইনানুগ পদক্ষেপ।
পবিত্র রমজান ও আসন্ন ঈদ-উল-ফিতর, ২০২৪ উদযাপন উপলক্ষে মহাসড়ক/সড়ক পথে যাতায়াতকারী যাত্রী সাধারণের যাতায়াত নির্বিঘ্ন, নিরাপদ ও যানজটমুক্ত রাখার লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় একথা বলেন তিনি।
আজ মঙ্গলবার(১৯ মার্চ) হাইওয়ে পুলিশের অ্যাডিশনাল আইজিপি মো.শাহাবুদ্দিন খানের সভাপতিত্বে রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় নিজের বক্তব্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন,এবারের ঈদে সম্ভাব্য কোন কোন এলাকায় জট,যানজট বা ব্লক তৈরি হতে পারে সেটা চিহ্নিত করা হয়েছে। আমরা এবার হাইওয়েতে ঈদযাত্রায় ড্রোনের সহায়তা নিচ্ছি। ড্রোনের সহায়তায় চিত্র দেখে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নিতে পারবো। হাইওয়ের অনেক রাস্তা চার লেন হচ্ছে। কোথাও কোথাও হয়ে গেছে। এখন রাস্তায় যদি কোনো যানবাহন তাৎক্ষণিক অকেজো হয়ে পড়ে তাহলে সেটি এখনো সরানো সহজ হবে। ক্রুটিপূর্ণ কোনো যানবাহন যাতে ঈদে সড়কে না নামে সেটা নিশ্চিত করতে আমরা নির্দেশনা দিয়েছি।
আমরা সবাই ভালভাবে ঈদযাত্রায় যেতে চাই। ভালভাবে যাবার সুযোগটা আমাদের তৈরি করতে হবে। ঈদে আমর্ সবাই একসঙ্গে যেতে চাই। সেটা না করে আমরা ভাগ ভাগ করে, আগে বা পরেও যেতে পারি৷ তাহলে ৫/৭ বা আট ঘন্টার মধ্যেই গন্তব্যে যেতে পারবো।
ঈদের দুদিন আগেই যেতে হবে ব্যাপারটা সেরকম না। জনসংখ্যার তুলনায় গণপরিবহন আমাদের অনেক কম। হজ্বের সময় সৌদিতে বাস সরকার হায়ার করে৷ আর আমাদের ঈদে এখানে সে ধরণের কোনো ব্যবস্থা নাই। তাই আপনি আরও আগে বা ঈদের পরও যেতে পারেন। আমরা আশ্বস্ত করছি ঈদযাত্রা স্বস্তির হবে।
আমরা লক্ষ্য করি কিছু লক্কর ঝক্কর বাস যেগুলো সারা বছর সিরিয়াল পায়না এগুলো ঈদের সময় রাস্তা নেমে পড়ে। এসব আমরাও ধরতে পারিনা পুলিশও বুঝতে পারেনা কোত্থেকে এগুলো রাস্তায় আসে। এগুলো রিজার্ভ হিসেবে চলে গার্মেন্টস শ্রমিকরা নিয়ে যায়। যে রাস্তায় আমাদের ছোট বাসও চলে না সেখানে দেখি বিআরটিসির ডাবল ডেকার বাস ঢুকে পড়েছে। আমরা এখনো মহাসড়ক থেকে নছিমন করিমন ভটভটি সরাতে পারিনি। এটাও একটা বাধা আমাদের।
ঈদে বাড়তি ভাড়ার প্রশ্নে তোপের মুখে রাঙ্গা প্রতিবছরই বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ আসেো প্রমাণও মেলে কিন্তু কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায় না। এমন প্রসঙ্গে রাঙ্গা বলেন,অনেক পরিবহনই ঈদের সময় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেন। যেসব বাস কোম্পানি সুনামের সঙ্গে কাজ করতেছেন তাদের কোনো বাস যদি ভাড়া বেশি নেন তাহলে আমাদের জানাবেন,আমাকে জানাবেন ব্যবস্থা নিবো। প্রয়োজনে স্পটে উপস্থিত হবো। অভিযোগ পেলেই আমরা সেখানে যাবো। কোন কোন জায়গায় কারা বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন সেটা আমরা সনাক্ত করবো।
বাড়তি ভাড়া নেবার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে কি ব্যবস্থা নেবেন জানতে চাইলে রাঙা বলেন,আমরা সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পেলে সেই গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করে দিবো। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবো।
মহাখালী বাস টার্মিনালের সামনে সড়কের তিনটি লেনেই অবৈধ পার্কিং এর দখলে। যার বড় প্রভাব পড়ে সড়ক চলাচলে। সেটা সমাধান না হলে ঈদ যাত্রার বড় অংশ সময় যাবে ঢাকাতেই। জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, রাস্তা লক বা ব্লক করে রাস্তায় দাঁড়ানোর কোনো অধিকার আমাদের নাই। যারা অবৈধভাবে পার্কিং করবেন সড়কে, আর যানচলাচল বিঘ্নিত করবেন,তাদের বিরুদ্ধে ট্রাফিক পুলিশ আইনানুগ পদক্ষেপ নিক,আমাদের কোনো সমস্যা নাই।
মহাখালী বাস টার্মিনালের সামনে তো সড়কই নাই, সড়ককেও টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এমন প্রশ্নের উত্তরে রাঙা বলেন,আমি এখান থেকে বের হয়েই আগে মহাখালী যাবো৷ দেখি ওখানে কি সমস্যা। আবারো বলছি, যারাই অবৈধ পার্কিং করবেন,অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করতেছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিবো আমরা।
সভায় বিজিএমইএ; বিকেএমইএ;চেয়ারম্যান/জেনারেল সেক্রেটারি,বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স এসোসিয়েশন; মহাসচিব,বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি; সাধারণ সম্পাদক,বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন;সহ-সভাপতি,বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন; সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক,ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি;চেয়ারম্যান/জেনারেল সেক্রেটারি,ঢাকা বাস-ট্রাক ওনার্স গ্রুপ; সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক/সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতি;সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক, বাস মালিক সমিতিসহ হাইওয়ে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজন উপস্থিত ছিলেন
ডিআই/এসকে