ঢাকা, শনিবার, ৫ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
পিবিআইয়ের তিন পুলিশ সুপারকে রদবদল
পটুয়াখালীতে সড়ক দূর্ঘটনায় আনসার কমান্ডার নিহত
পাঁচবিবিতে আওলাই ইউনিয়ন জামায়াতের ঈদ পূনর্মিলনী অনুষ্ঠিত
আত্রাইয়ের কচুয়া মধ্যপাড়া ইসলামীক সম্মেলন
মিরসরাইয়ে পাঁচ বছরেও উদঘাটন হয়নি গৃহবধূ মুন্নী হ*ত্যার রহস্য , ক্ষুদ্ধ ভুক্তভোগী পরিবার
প্রয়োজনীয় সংস্কার করে যথা সম্ভব দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে :অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার
কালিগঞ্জের বিষ্ণুপুরে কৃষকদলের উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলন ও সাংস্কৃতি সন্ধ্যা 
নওগাঁয় মাটিবাহি ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে মাদ্রাসা পড়ুয়া শিশুর মৃত্যু
ভূরুঙ্গামারী ফাযিল মাদ্রাসার প্রাক্তন ছাত্রদের ঈদ পূর্ণমিলনী
কুয়াকাটা সৈকত দখল করে ঝুকিপূর্ণ মার্কেট নির্মানের অভিযোগ
কুড়িগ্রামে ২৪ পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে কেমন কুড়িগ্রাম দেখতে চাই শীর্ষক মতবিনিময় সভা
বোদায় ট্রাক-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু
সরাইলে অভিযানে ৩ হত্যা মামলার আসামীসহ গ্রেফতার ৯
বাগমারায় চুরিকাঘাতে যুবকের মৃত্যু:ঘাতকে পিটিয়ে হত্যা করলো উত্তেজিত জনতা
নড়াইলে বিএনপি নেতা সান্টুর উপর ককটেল হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ

হত্যার পর পরিচয় গোপন রাখতে পেট্রোল ডেলে মুখে আগুন

কয়েকদিন আগে ভাগিনার জন্য একটা মোটরসাইকেল কিনে দিতে মাসুক ২৫ হাজার টাকা দেয় ফয়সালকে। তবে ফয়সাল টাকা নিয়েও বাইক দিতে না পারায় চাপ দিতে থাকে মাসুক। মাসুকের চাপে ফয়সাল বাইক ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে।

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল ভাড়ায় চালাতো সাইফুল। ঘটনার ৩ দিন পূর্বে মাসুক ও ফয়সাল ভুক্তভোগী সাইফুলের মোটরসাইকেল ছিনতাই করার পরিকল্পনা করে। গাজীপুর চৌরাস্তার একটি দোকান থেকে ছিনতাই করার জন্য ছুরি ক্রয় করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী মাসুক ভুক্তভোগী সাইফুলকে এক সাংবাদিকের তথ্য সংগ্রহ এবং ভিডিও চিত্র ধারনের জন্য নেত্রকোণায় যেতে হবে বলে জানায়।

গত ১৩ মার্চ বিকেল ৩ টায় মিরপুর ১৪ থেকে মাসুক  ৩ হাজার টাকা ভাড়ায় সাইফুলকে নিয়ে নেত্রকোণার উদ্দেশ্যে রওনা করে। গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে একই বাইকে উঠে ফয়সালও।

নেত্রকোণা শহরে পৌছার পর ফয়সালকে পিছন থেকে রাস্তার পাশের পাথর দিয়ে মাথায় সজোরে আঘাত করা হয়। মাটিতে পড়ে অচেতন হয়ে গেলে ছুরি দিয়ে গলাকেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরিচয় গোপন করতে পরিহিত শার্ট-প্যান্ট খুলে তার মুখমন্ডল পেঁচিয়ে মোটরসাইকেলের পেট্রোল দিয়ে মুখমন্ডলে আগুন ধরিয়ে দেয় পালিয়ে আসে। এরপর হাতিয়ে নেয়া মোটরসাইকেল মাসুক তার ভাগ্নেকে দিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়।

নেত্রকোণায় গলা কেটে হত্যার পর অপরাধ ঢাকতে নৃশংসভাবে লাশের মুখমন্ডল পুড়িয়ে দেয়ার ক্লুলেস সাইফুল হত্যাকান্ডের ঘটনায় রহস্য উন্মোচনসহ জড়িত দুজনকে গ্রেফতারের পর এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে র‌্যাব।

রোববার(১৮ মার্চ) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল এবং রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকা থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১৪ এর একটি দল।

সোমবার(১৮ মার্চ) দুপুরে কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন,গত ১৪ মার্চ দুপুরে নেত্রকোণার মোহনগঞ্জের দেওরাজান বালুর চরে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির গলাকাটা লাশ দেখে স্থানীয় লোকেরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবগত করে। লাশ উদ্ধার ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে পরিচয় সনাক্ত করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। জানা যায়, নিহতের নাম সাইফুল ইসলাম। বাবা আব্দুস সামাদ,বাড়ি ঝিনাইদহ।

ওই ঘটনায় বড় ভাই বাদী হয়ে মোহনগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

গত রাতে র‌্যাব-১৪ এর একটি দল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল এবং রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে নৃশংস এই হত্যাকান্ডের হত্যাকারী মো. মাসুক মিয়া (২৯) ও আল-ইমরান ফয়সাল (৪৪)কে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা সাইফুল হত্যাকান্ডে নিজেদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য প্রদান করেছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কমান্ডার মঈন বলেন,গ্রেফতার মাসুক ও ফয়সাল মূলতঃ আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল ছিনতাই/চুরি চক্রের সদস্য। সাইফুল ৩/৪ বছর যাবত রাজধানীর মিরপুরে বসবাস করে আসছিলেন। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে তার ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল দিয়ে ভাড়ায় চালাতেন।

গত ১০-১৫ দিন পূর্বে গ্রেফতার মাসুক গ্রেফতার ফয়সালকে জানায় তার ভাগিনার একটা মোটর সাইকেল দরকার। সেই সুবাদে মাসুক তার ভাগিনার নিকট থেকে ২৫ হাজার টাকা নিয়ের ফয়সালকে দেয়। কিন্তু ফয়সাল বাইক দিতে না পারায় মাসুক চাপ দিতে থাকে। পরে দুজন মিলে ফয়সালের মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পিতভাবে তারা গাজীপুর চৌরাস্তার একটি দোকান থেকে ছুরি ক্রয় করে। এক সাংবাদিকের তথ্য সংগ্রহ এবং ভিডিও চিত্র ধারণের জন্য নেত্রকোণায় যেতে গত ১৩ মার্চ ৩ হাজার টাকা ভাড়ায় সাইফুলকে ভাড়া করা হয়। বিকেল ৩ টায় মাসুক সাইফুলকে নিয়ে মিরপুর ১৪ থেকে নেত্রকোণার উদ্দেশ্যে রওনা করে। গাজীপুর থেকে উঠে ফয়সালও।

ময়মনসিংহ শহরে পৌঁছলে ট্রাফিক পুলিশ তাদের মোটরসাইকেল আটকায়। ফয়সাল নিজেকে দৈনিক শেষ খবর পত্রিকার ভূয়া সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চলে যায়।

নেত্রকোণা শহরে চলে আসে এবং সংবাদের তথ্য সংগ্রহের অজুহাতে সময় ক্ষেপন করতে থাকে। পরবর্তীতে রাত ৩ টার দিকে পাথর দিয়ে প্রথমে মাথায় সজোরে আঘাত করা হয়। অচেতন হয়ে গেলে ছুরি দিয়ে গলাকেট মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় সাইফুলের। পরবর্তীতে পরিচয় গোপন করতে গ্রেফতারকৃতরা ভুক্তভোগী সাইফুলের পরনের শার্ট-প্যান্ট খুলে তার মুখমন্ডল পেঁচিয়ে মোটরসাইকেলের পেট্রোল দিয়ে মুখমন্ডলে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি ও সাইফুলের মোবাইল ফোন পানিতে ফেলে তারা বাইক নিয়ে চলে আসে। বাইকটি মাসুকের ভাগ্নের নিকট মোটরসাইকেল রেখে দুজনেই আত্মগোপনে চলে যায়।

গ্রেফতার মাসুক সম্পর্কে র‌্যাব মুখপাত্র বলেন, রাজধানীর মিরপুর ১৪ এলাকায় বসবাস করতো মাসুক। দিনে রাজমিস্ত্রীর কাজ আর সন্ধ্যায় ভ্যানে করে কাপড় বিক্রির আড়ালে মোটরসাইকেল ছিনতাই করতো সে। হত্যাকান্ডের ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে সে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেফতার এড়াতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল এলাকায় আত্মগোপন করে। পরবর্তীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল এলাকায় আত্মগোপনে থাকাবস্থায় র‌্যাব কর্তৃক গ্রেফতার হয়।

গ্রেফতার ফয়সাল রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালানোর পাশাপাশি মোটরসাইকেল ছিনতাই করতো। হত্যাকান্ডের ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে সে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেফতার এড়াতে রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় আত্মগোপন করে। পরবর্তীতে রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় আত্মগোপনে থাকাবস্থায় র‌্যাব কর্তৃক গ্রেফতার হয়। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ডিআই/এসকে

শেয়ার করুনঃ