
সপ্তাহখানেক আগে ১২৫ টাকা দরে প্রতি কেজি রসুন বিক্রি হলেও এখন প্রতি কেজি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১শ’ টাকা দরে।রসুনের ভালো দাম পেয়ে লোকসানের শঙ্কা কাটিয়ে খুশি কৃষকেরা হাটবাজারে বিক্রির ঝুটঝামেলা এড়াতে, ক্ষেতেই রসুন বিক্রি করছেন কৃষকরা। এতে পরিবহন খরচ ও হাটবাজারের হাসিল বেঁচে যাওয়ার পাশাপাশি ঝক্কিঝামেলা থেকেও রেহাই পাচ্ছেন কৃষকরা শুক্রবার(১৫-০৩-২০২৪)রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চরাঞ্চলের কালিদাশখালি, পলাশিফতেপুর ও গড়গড়িসহ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, খেত থেকে রসুন তুলছেন কৃষক ও শ্রমিকেরা। সেসব রসুন কিনে বস্তায় ভরে খেতেই স্তুপ করে রাখছেন ব্যবসায়ীরা।
চরকালিদাশখালি গ্রামে খেতে কেনা রসুন বস্তায় ভরে খেতে স্তুপ করে রাখছিলেন দাদপুর গ্রামের জাহের ব্যাপারি। তিনি জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে রসুন কিনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করেন। প্রথমে মুঠোফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে সেসব এলাকার রসুনের দর জেনে নেন। এরপর চাষিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই দামের চেয়ে কিছুটা কমে খেত থেকেই রসুন কেনেন। পরে তা চাহিদামতো পাঠিয়ে দেন। এতে রসুন পরিবহনের খরচ ও লাভের টাকা উঠে যায়।
১ বিঘা রসুন আবাদে সেচ, সার,বীজ ও শ্রমিকসহ খরচ হয় ১ লাখ টাকার মতো। প্রতি বিঘায় উৎপাদন হচ্ছে ৪০ মণ,পাইকারি ৪ হাজার টাকা মণ হিসেবে ১ বিঘার রসুন বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার মতো।খরচ বাদে প্রতি বিঘায় লাভ হচ্ছে প্রায় ৬০ হাজার টাকা।
গড়গড়ি গ্রামের মকবুুল জানান, ৯ কাঠা জমি থেকে ১৮ মণ রসুন উত্তোলন করেছেন ও বিক্রয় করেছেন ৭২ হাজার টাকা। বাঘা বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী মোতালেব হোসেন জানান, প্রতিকেজি রসুন বিক্রি করছেন ১৪০ টাকা কেজি দরে।পাইকারদের কাছ থেকে কেনেছেন ১২৫ টাকা কেজি দরে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বাঘা উপজেলায় গত বছরের চেয়ে এবার বেশি জমিতে রসুন আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে ৯৩৪ হেক্টর জমিতে রসুনের আবাদ হয়েছে। হেক্টর প্রতি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০ দশমিক শুন্যে ৪ মেঃটন। গত বছরে আবাদ হয়েছিল ৭৮১ হেক্টর জমিতে। উৎপাদ হয়েছিল ৮২৫৮ মেঃটন ৬ লাখ ৭৯ হাজার ৭৯৮ মেট্রিক টন।
কৃষি অফিসার শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, বাজার উঠা নামার কারণে অনেক সময় কৃষকরা ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন। ক্ষেতে থেকেই ফসল বিক্রি হওয়ায় কৃষকেরা উপকৃত হচ্ছেন। কৃষকদের প্রোণাদনা সহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছেন। এতে তারা কৃষিকাজে আরও বেশি আগ্রহী হয়ে উঠবেন।