
রাজশাহীর তানোরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সামনে হাতাহাতির ঘটনার মামলায় ১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে তানোর থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতের নাম আব্দুল হান্নান (৪২)। তিনি তানোর উপজেলার কামারগাঁ ইউপির মালশিরা গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের পুত্র। শুক্রবার সকালে চৌবাড়িয়া বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহস্পতিবার বিকালে ( ১৪ মার্চ) উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে এ হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনাটি ঘটে। এঘটনায় কাঁমারগা ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বাদী ৮জনকে আসামি করে তানোর থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার বিবরণ ও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার ধানুরা গ্রামের মোজাফফর হোসেনের সাথে মাদারীপুর এলাকার একটি গভীর নলকূপ নিয়ে মজিদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব বিবাদ চলে আসছিল। চলতি মৌসুমে
ওই গভীর নলকুপের আওতার কৃষকদের জমি বর্গা দেন গভীর নলকুপ অপারেটর আব্দুল মজিদ। বর্গা দেয়া টাকার বিষয়ে কৃষকরা মজিদের বিরুদ্ধ ইউএনও’র কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।
বৃহস্পতিবার বিকালে ইউএনও মোস্তাফিজুর রহমান উভয় পক্ষকে নিয়ে আপোষ মিমাংসা করে দেন। পরে ইউএনও’র অফিস থেকে বের হয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। আব্দুল হান্নান ও তার লোকজনের কিল-ঘুষিতে নাক ফেটে গুরুতর জখম হয়ে আহত হন আব্দুল মজিদ। এসময় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন আব্দুল মজিদের লোকজন।
এবিষয়ে আহত আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মজিদ জানান, তার সমঝোতার জন্য দু’পক্ষকে নিয়ে ইউএনও মহোদয় তার অফিসে বসেন। এবং সুষ্ঠু সমাধানও করে দেন। কিন্তু রেজাউল ইসলামের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী আব্দুল হান্নান ইউএনও মহোদয়ের অফিস থেকে বেরিয়ে এসে কোন কথা ছাড়াই আমার উপরে হামলা চালিয়ে আমাকে আহত করেন।
এ বিষয়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আব্দুর রহিম জানান, এমন মারামারির ঘটনা সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল ফোনে ইউএনও স্যার আমাকে অবহিত করেন। এবং আব্দুল মজিদ বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছেন। এতে করে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আব্দুল হান্নান নামের ১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এবং বাকি আসামিদেরকেও গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।