
রাজশাহীর তানোর উপজেলা কোল্ড ষ্টোরের সামনে দূর্বিসহ যানযটে চরম দূর্ভোগে পড়ছেন তানোর রাজশাহী সড়কে চলাচলকারী যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, অটো, সিএনজি মটরসাইকেল চালকরা।
ষ্টোর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও শৃঙ্খলার অভাবেই এই যানযটের সৃষ্টি বলে জানিয়েছেন চলাচল কারী এসব যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা। তারা বলছেন, ষ্টোর কর্তৃপক্ষ কৃষকদের আলুর ট্রাক ও ট্রলি ভেতরে না নিয়ে মেইন সড়কের রাস্তার উপর ঘন্টার পর ঘন্টা দাড় করিয়ে রাখছেন।
ফলে, দীর্ঘসময় ধরে তানোর রাজশাহী সড়কের জিওল মোড়ের দক্ষিণের রাস্তা থেকে কাশেম বাজার ও কালিগঞ্জ এবং কালিগঞ্জ থেকে চান্দুড়িয়া মোড় পর্যন্ত ঘন্টার পর ঘন্টা দীর্ঘ যানযটের সৃষ্টি হচ্ছে।
এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শি সুত্রে জানা গেছে, কাশেম বাজার পেট্রোল পাম্পের সামনে এএম কোল্ড ষ্টোর, কালিগঞ্জ মদিনা কোল্ড স্টোর এবং তামান্না কোল্ড স্টোর কর্তৃপক্ষ যদি রাস্তার ওই আলুর ট্রাক ও ট্রলি গুলো শৃঙ্খলার জন্য কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী রাখতো তাহলে এধরনের যানযট তৈরি হতোনা।
কোল্ড ষ্টোর কর্তৃপক্ষ আলুর ট্রাক ও ট্রলি ষ্টোরের ভেতরে না নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তায় দাড় করিয়ে রাখছেন। একারনেই যানযটের সৃষ্টি হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে তানোর উপজেলা কৃষকরা তাদের আলু তুলে ষ্টোর যাত করনের জন্য ট্রাক ও ট্রলিতে করে নিয়ে আসলে স্টোরের সামনে ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।
কৃষকরা বলছেন, অন্য কোন বছর আলু নিয়ে স্টোরে এসে এমন দূর্ভোগের স্বীকার হতে হয়নি। কিন্তু এবছর ষ্টোরে শ্রমিক তুলনা মুলক ভাবে কম হওয়ায় আলু বোঝাই ট্রাক ও ট্রলি নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। একারনেই রাস্তায় যানযটের সৃষ্টি হচ্ছে।
রাজশাহী গামী যাত্রা বাহী বাস চালক নাম প্রকাশ না করার সর্তে বলেন, স্টোর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও শৃঙ্খলা অভাবে এমন দূর্বিসহ যান যটের সৃষ্টি হচ্ছে।
রাজশাহী জেলা ও বিভাগীয় দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মইদুল ইসলাম বলেন, গত বৃহস্পতিবার বিকালে তানোর যাওয়ার পথে বিকাল ৪ টার দিকে কাশেম বাজার এএম কোল্ড ষ্টোরের সামনে দীর্ঘ যানযটের কবলে পড়ি।
ঘন্টার বেশী সময় ধরে অপেক্ষার পর সেকান থেকে হেটে তার পর মটরসাইকেল যোগে আমার সহকর্মির তানোর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি ফাইজুল ইসলামের জানাজায় উপস্থিত হয়েছিলাম। সেখানে ষ্টোর কর্তৃপক্ষ যদি কয়েকজন সেচ্ছাসেবী রাখতো তাহলে এধরনের যানযটের সৃষ্টি হতোনা।
তিনি বলেন, ষ্টোর কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতা ও শৃঙ্খলা অভাবে চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন জনসাধারণ। তিনি প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করে জনগনের দূর্ভোগ রাঘবের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে এএম কোল্ড ষ্টোরের ম্যানেজার জালাল উদ্দীন ঘটনার সত্যতা স্ববীকার করে বলেন, অন্য বছর গুলোতে প্রতিদিন ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার বস্তা আলু নিয়ে কৃষক ষ্টোরে আসতো। কিন্তু এবছর প্রতিদিন ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার বস্তা আলু নিয়ে কৃষকরা ষ্টোরে আসছেন। একারনে আলু স্টোরে ঢোকাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। তিনি কৃষকদের সার্থে সকলকে ধর্য ধরার আহবান জানান। তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আব্দুর রহিম বলেন, যানযটের খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে নিরসনের জন্য কাজ করা হচ্ছে।