
ডেস্ক রিপোর্ট:
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপুর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন সন্মিলিত সামাজিক আন্দোলন ।
শুক্রবার (১৫ মার্চ) সকালে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯৩ বছর বয়সে গোলাম আরিফ টিপুর মৃত্যুর সংবাদে শোকাহত সন্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের পাঠানো এক বিবৃতিতে প্রয়াতের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
সন্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ সংগঠনের পক্ষে পাঠানো শোকবার্তায় বলেন, গোলাম আরিফ টিপু, এক সময় ন্যাশনাল আওয়ামী পাটির নেতৃত্ব দিয়েছেন, রাজশাহীতে টিপু ভাইয়ের আথিতিয়েতায় মুগ্ধ হয়েছিলাম, ঢাকায় উনার বাসায় পঙ্কজ ‘দা, অজয় ‘দা, অধ্যাপক হায়ৎ মামুদ, জিয়া উদ্দিন তারিক আলী, আবুল বারাকাত দুলাল ভাই-সহ অনেকগুলো মিটিংয়ে আমারও উপস্থিত থাকার সূযোগ হয়েছিল। আজ ফেইসবুকের বদৌলতে উনার প্রয়ানের খবর পেয়ে খুবই খারাপ লাগছে, একে একে আমরা হারাচ্ছি প্রিয় মূখগুলোকে, এই মানুষগুলোর প্রয়োজন আগের চেয়ে অনেক বেশী। সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন গঠনে উনার অনেক শুভ পরামর্শ পেয়েছিলাম, তাঁর চলে যাওয়ার আমরা গভীরভাবে শোকাহত।
শোক বার্তায় তিনি আরোও বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় মহান মুক্তিযুদ্ধের এই প্রয়াত সংগঠক, একুশে পদকপ্রাপ্ত ভাষাসৈনিক, প্রাজ্ঞ আইনজীবী গোলাম আরিফ টিপুর অবদান দেশের ইতিহাসে চির অম্লান হয়ে থাকবে।
উল্লেখ্য, ১৯৩১ সালের ২৮ আগস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কমলাকান্তপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন গোলাম আরিফ টিপু। তার বাবা আফতাব উদ্দিন আহমদ ছিলেন জেলা রেজিস্ট্রার। ৯ ভাইবোনের মধ্যে টিপু দ্বিতীয়। তিনি কালিয়াচর বিদ্যালয় থেকে ১৯৪৮ সালে মাধ্যমিক ও রাজশাহী কলেজ থেকে ১৯৫০ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন।
একই কলেজ থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক সম্পন্নের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৫৪ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি আইনজীবী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ভাষা আন্দোলন কর্মী ছিলেন।
তিনি ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
বাংলাদেশের অন্যতম আলোচিত নিহার বানু হত্যা মামলায় তিনি বিবাদী পক্ষের আইনজীবী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি একাধিকবার রাজশাহী আইনজীবী সমিতির সভাপতি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৫২ সালে রাজশাহীতে বাংলা ভাষা আন্দোলন মূলত তার নেতৃত্বে সংগঠিত হয়। তিনি রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের রাজশাহী অঞ্চলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ভাষা আন্দোলনে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে ২০১৯ সালে একুশে পদকে ভূষিত করে।