
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মেঘনায় মাছ শিকার থেকে বিরত নিবন্ধিত ও তালিকাভুক্ত জেলেদেরকে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিনামূল্যের সরকারী চাল উল্টো কিনে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমনটিই ঘটেছে কমলনগর উপজেলা চরকালকিনি ইউনিয়নে।আর এর নেপথ্যে রয়েছেন ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাস্টার মোঃ ছায়েফ উল্লাহ। সূত্রে জানা গেছে প্রায় ২ হাজার জেলের জন্য বরাদ্দ রয়েছে। তিনধাপে ৪০ কেজি করে ১৬০ কেজি করে ভিজিএফ চাল পাওয়ার কথা প্রতি জেলে। এর বিপরীতে চেয়ারম্যান কিছু নাম বিনামূল্যে দিলেও সিংহভাগ তালিকাভুক্ত নাম চেয়ারম্যানের চক্রের আত্মীয় – ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে গোপনে একসপ্তাহ আগ থেকে বিক্রি কার্যক্রম সম্পন্ন করে।তবে উপজেলা প্রশাসনের সঠিক মনিটরিংয়ের অভাবে এমন বিপত্তি ঘটে বলে স্হানীয়দের দাবি।সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে,চেয়ারম্যান তার পালিত সিন্ডিকেট সদস্যদের প্রতি ১০ নামে একনাম ফ্রি। প্রতিনামে একবার চালে ১ হাজার টাকা। তিনবার চাল নিলে ৩ হাজার টাকা। তার মানে প্রতিকেজি সরকারী চাল চেয়ারম্যান বিভিন্ন লোক মারফতে বিক্রি করেন প্রতি কেজি ২৫ টাকা।স্থানীয় জেলে মো. ইব্রাহিম, আনোয়ার ও ফারুক মাঝি তাদের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা করে নেওয়ার এমন অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন মেম্বার বলেন, মৎস্য অফিসারের সাথে গোপন আতাত করেই চেয়ারম্যান এমন কাজ করেন।
এখানেই শেষ নয়, আমাদের নাম জেলে তালিকায় নিবন্ধত করতে মৎস্য অফিসার তার নিয়ন্ত্রিত মেম্বার ও তার কয়েকজন পছন্দের লোক ( দালাল) দিয়ে নামপ্রতি ২ হাজার টাকা করে নিবন্ধন করে দেন। কর্তা থাকেন ধরাছোঁয়ার বাহিরে। প্রকৃত পক্ষে দালালের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার এমন অভিযোগও কর্তার বিরুদ্ধে।
চরকালকিনি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাস্টার মোঃ ছায়েফ উল্লাহ বলেন, যারা জেলে কার্ড বিক্রি করে তাদেরকে ধরেদিন।আর এ অপপ্রচার শুনতে চাইনা।এদিকে সাহেবেরহাট ইউনিয়নে একই কায়দায় তথ্য উদ্যোকতা মোঃ মাকছুদুর রহমানসহ কয়েকজনকে জেলে কার্ড বিক্রি করার নেপথ্যে থাকেন চেয়ারম্যান মাস্টার মোঃ আবুল খায়ের। এ বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ( ভারপ্রাপ্ত) আবদুল কুদ্দুস বলেন, সুবিধাভোগী জেলেদের তালিকা ইউপি চেয়ারম্যানরা তৈরি করেন। তার বিরুদ্ধে নিবন্ধন করার নামে টাকা নেয়া সঠিক নয়।