ঢাকা, শনিবার, ৫ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
পাঁচবিবিতে মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন জামায়াতের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত
টিআরসি নিয়োগে দালালমুক্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার আশ্বাস ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপারের
উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটে রোগীদের দূর্ভোগ
চিলমারীতে ঐতিহ্যবাহী অষ্টমির স্নান সম্পন্ন
বিএনপি নেতার ওপর বোমা হামলার প্রতিবাদে কয়রায় বিক্ষোভ মিছিল
লঞ্চে মুমূর্ষ নবজাতককে মেডিকেল সহায়তা প্রদান করল কোস্ট গার্ড
আমতলীতে লঞ্চ ঘাট ও বাসস্ট্যান্ডে যৌথবাহিনীর অভিযান, জরিমানা আদায়
কালীগঞ্জে আমিনুর রহমান আমিনের গণসংযোগ শুভেচ্ছা বিনিময়
আমতলীতে হামলা, লুট ও পিটিয়ে দোকান দখলের অভিযোগ
দেওয়ানগঞ্জে মেয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বৃদ্ধ বাবা মৃত্যু
নড়াইল জেলা ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতা-কর্মীদের ঈদ পুনর্মিলনী
জামায়াতে ইসলামীতে চাঁদাবাজ সন্ত্রাসের কোনো সুযোগ নেই:রফিকুল ইসলাম
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে কাজ করতে হবে
ভূরুঙ্গামারীতে মুভমেন্ট ফর পাঙ্কচুয়ালিটি’র সম্মেলনের উদ্বোধন
বিরামপুরে আগ্নিকান্ডে সনাতন পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে ছাই

রমজান মাস জুড়ে ডাকাতির প্রস্তুতি,উঠেছিল ভাড়া করা হোটেলে

রাজধানীর মতিঝিলসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লেনদেন করা ব্যক্তিদের টার্গেট করে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে অপহরণ ও ডাকাতি করে আসছিলো একটি চক্র। রমজান উপলক্ষে এই চক্রটি মাস ব্যাপী ডাকাতির প্রস্ততি নিয়ে মাঠে নেমেছিলো। এমন কি ডাকাতি শেষে নিরাপদে আশ্রয় নিতে উঠেছিলেন একটি হোটেলে। তবে শেষ রক্ষা হলো না। প্রথম ডাকাতি শেষেই গ্রেফতার হলেন ডাকাত দলটির পাঁচ সদস্য। উদ্ধার করা হয় ডাকাতি ব্যবহৃত পুলিশের হ্যান্ডকাফ, গোয়েন্দা পুলিশের জ্যাকেট ও নকল পিস্তল।

বৃহস্পতিবার(১৪ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার(গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ এ তথ্য জানান

তিনি বলেন,আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ডাকাতি বা অপহরণের অনেক আসামী আমরা এর আগে গ্রেফতার করেছি। চলতি মাসের ৬ তারিখ মতিঝিলের একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে ৭১ লাখ টাকা ডাকাতি করা হয়। ওই ডাকাতির ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন,দীর্ঘদিন ধরেই এই চক্রটি রাজধানীতে সক্রিয়। কখনো কখনো তারা সরাসরি ডাকাতি বা অপহরণ না করে হানিট্রাপেও অর্থ বা মুক্তিপন আদায় করে থাকে। এমন কি রাজধানীতে সিএনজি চুরি ও টাকা আদায় নিয়ন্ত্রণ করত।

ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন,রাজধানীর মতিঝিল এলাকার ফাইন্যান্স টাওয়ারের ল ফার্ম এন্ড আইটি এসোসিয়েশন নামের প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার শাহাদাত হোসেন।

চলতি মাসের ৬ তারিখ প্রতিষ্ঠানের ৭১ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দিতে ইসলামী ব্যাংকের লোকাল অফিস ব্রাঞ্চের উদ্দেশ্যে বের হন। রিকশায় করে ফকিরাপুল এলাকায় আসার পরে ডিবি পরিচয়ে তার গতিরোধ করা হয়। শাহদাতের রিকশা থামানো ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ডিবি পুলিশের জ্যাকেট পরিহিত,কোমড়ে পিস্তল,হাতে ওয়াকিটকি,স্প্রিং লাঠি ও হ্যান্ডকাপ। দুজন ব্যক্তি নিজেদের গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয় দিয়ে তাদের সঙ্গে যেতে বলে। কিন্তু শাহদাত যাওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানের মালিককে অবহিত করতে চাইলে ডাকাত দলে আরও দুই সদস্যসহ চারজন মিলে তাকে একটি সাদা রংয়ের হায়েস মডেলের গাড়িতে তুলে নেয়। গাড়িতে ওঠানোর পরে ডাকাত দলের সদস্যরা গামছা দিয়ে চোখ-মুখ ও বেল্ট দিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে। গাড়ি চলতে শুরু করলে নির্যাতন নেমে আসে শাহাদাতের ওপর। মারধরের এক পর্যায়ে জ্ঞান হারান তিনি। পরবর্তীতে এক টা সময়ে নিজেকে নারায়ণগঞ্জে সড়কে পাশে নিজেকে আবিস্কার করেন তিনি। এই সময়ে তার সঙ্গে থাকা কালো ব্যাগ ভর্তি ৭১ লাখ টাকা ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে নেয়।

ঘটনার দুদিন পর রাজধানীর মতিঝিল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী শাহাদাত হোসেন। মামলা নম্বর-১১। ওই মামলা তদন্ত করতে গিয়ে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সংঘবদ্ধ একটি ডাকাত দলের সন্ধান পায় আসল ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম।

এরপর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা চালিয়ে ডিবি পরিচয়ে রাজধানীতে ডাকাতি ও ছিনতাইকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন-দ্বীন ইসলাম,মো.সবুজ,সিফাত ইসলাম রাজিব (২৫),মাজারুল ইসলাম ওরফে মাইকেল (২৫), আব্দুস সালাম হাওলাদার (৩০)।

এসময় ডাকাতি করে নেওয়া ৭১ লাখের মধ্যে ১২ লাখ টাকা,৫ টি মোবাইল,ডিবির জ্যাকেট ১টি,১টি হ্যান্ডকাপ, একটি খেলনা পিস্তল,স্প্রিং স্টিক, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ১টি মাইক্রোবাস,১টি মোটরসাইকেল ও পুলিশের ব্যাগ উদ্ধার করা হয়।

হারুন বলেন,ডাকাত দলের সদস্য সিফাত ইসলাম রাজীব ও মাজারুল ইসলাম ওরফে মাইকেলসহ অন্য আসামীরা দেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের টাকা লেনদেনের ওপর নজর রাখত। সিফাত ও মাজারুল টার্গেটকৃত ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করে দ্বীন ইসলামসহ দলের অন্যদের সরবরাহ করত।

ডাকাতির সময় নির্ধারণ করে দ্বীন ইসলাম তার সহযোগি সবুজকে নিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিতো। এদিন ডাকাতির সকল খরচ বহন করত সবুজ। আব্দুস সালাম হাওলাদারের দায়িত্ব ছিলো গাড়ি সরবরাহ করা। পরবর্তীতে গাড়ি নিয়ে দ্বীন ইসলামসহ চক্রের সদস্যরা গোয়েন্দা পুলিশের ডিবির জ্যাকেট, হ্যান্ডকাপ,খেলনা পিস্তল, স্প্রিং স্টিক নিয়ে আসতো। এরপর টার্গেটকৃত ব্যক্তি ডাকাত দলের কাছাকাছি আসলে দ্বীন ইসলাম,সবুজ,সিফাত, মাজারুল,আব্দুস সালামসহ চক্রের সদস্যরা মিলে গতিরোধ করে গাড়ি তুলে নিত। পরবর্তীতে গাড়িটি ঢাকা ও আশপাশ এলাকায় ঘুরাঘুরি করে ভুক্তভোগীর চোখ, মুখ ও হাত বেঁধে তাঁকে নির্জন স্থানে ফেলে রেখে চলে যেতো।

ডাকাতি শেষে দ্বীন ইসলাম ৩০ শতাংশ,২০ শতাংশ সবুজ যিনি ডাকাতির সকল খরচ বহন করতেন ও সিফাত, মাজারুল ইসলাম, আব্দুস সলাম হাওলাদারসহ অজ্ঞাতনামা আসামীদের মধ্যে বাকি ৫০ ভাগ টাকা ভাগ করে নিত।

গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান বলেন,রমজান মাস ঘিরে কোথায় কোথায় ডাকাতি করবে তার একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল ডাকাত দল। সেজন্য তারা রাজধানীর মগবাজারে একটি হোটেল ভাড়া নিয়েছিলেন্। তাদের পরিকল্পনা ছিল ঈদের চাঁন রাত পর্যন্ত ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি করবে। এরপর ঈদে বাড়ি ফিরে যাবে।

ডাকাতি ছাড়াও সুন্দরী নারীদের দিয়ে হানি ট্রাপের ফাঁদ:

শুধু ব্যাংক কেন্দ্রীক টার্গেট করে ডাকাতিই নয়, হানিট্রাপে সিদ্ধহস্ত ছিলো এই ডাকাত দল। তারা প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী বা ধনাঢ্য ব্যক্তিদের অপহরণ করে নিয়ে সুন্দরী তরুনীদের দিয়ে ছবি বা ভিডিও তুলে ব্লাকমেইল বা হানি ট্রাপ হিসেবে ব্যবহার করে মুক্তিপণ আদায় করতো। কখনো কখনো তারা সিএনজি চালকদেরও ছাড় দিতো না। ২০/৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছিনতাই করা সিএনজি ছেড়ে দিতো।

কখনো কখনো তারা স্বর্ণ ব্যবসায়ীদেরও টার্গেট করে মুক্তিপণ আদায় করতো। সেখানে তারা সোর্স ব্যবহার করে খোঁজ খবর নিয়ে জিম্মি বা অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করতো। এভাবে তারা ২০১৬ সাল থেকে ডাকাতি করে আসছিল।

হারুন বলেন, ডিবির কথা বললেই গাড়ীতে উঠে যেতে হবে ব্যাপারটা সেরকম না। দিনের বেলায় কেউ ডিবি পুলিশ পরিচয় দিলো। চিৎকার দিলেই কিন্তু মানুষজন চলে আসতো। ডাকাতিটা আর হয় না।

আর এতো টাকা রিক্সায় কেন নিতে হবে? গাড়ীতে নেন। না হলে থানা পুলিশের সহযোগীতা নেন। প্রতিষ্ঠানের মালিক বা কোম্পানিতেও ডাকাতদের সোর্স থাকে। আসল ডিবির জ্যাকেটে কিউআর কোড আসে। সেটা দেখলেই তো সব ক্লিয়ার হয়ে যায়।

হারুন বলেন,রমজান মাস। এমাসে অনেক কেনাকাটা হবে। ব্যাংক থেকে অনেক নগদ টাকা উত্তোলন হবে। সেহরির সময়,নির্জন জায়গায়,মার্কেট,ব্যাংক পাড়ায় নিরাপত্তায় ডিবি পুলিশ কাজ করবে। কেউ ডাকাতি, ছিনতাইয়ের শিকার হলে সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানালে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারবো।

ডিআই/এসকে

শেয়ার করুনঃ