দীর্ঘ ১৪ বছর পর শেরপুরের নকলায় চাঞ্চল্যকর অন্তঃসত্ত্বা সতিনকে হত্যার দায়ে দ্বিতীয় সতিন উক্ত হত্যাকান্ডে সহায়তাকারী হত্যা মামলার মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত পলাতক আসামী আন্জুমানারা বেগম ওরফে শেফালীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৪। ১৩ মার্চ (বুধবার) রাতে তাকে ময়মনসিংহের চরশসা জয় বাংলা বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আন্জুমানারা বেগম ওরফে শেফালী নকলা উপজেলার বাছুর আলগা গ্রামের মৃত নুরুল আমিম বৈঠার স্ত্রী। র্যাব জানায়,আসামী মৃত নূরুল আমিন বৈঠা তার অন্তঃসত্ত্বা প্রথম স্ত্রীকে রেখে দ্বিতীয় বিবাহ করায় তাদের মধ্যে কলহ সৃষ্টি হয়। আন্জুমানারা বেগম (শেফালী) মৃত নূরুল আমিন বৈঠার দ্বিতীয় স্ত্রী হওয়ায় তার সাথে প্রথম স্ত্রীর প্রায়শই ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকতো। ধৃত আসামী তার স্বামীকে প্রথম স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করার জন্য বিভিন্নভাবে প্ররোচনা দিতো এমতাবস্থায়, মৃত নূরুল আমিন বৈঠা প্রথম স্ত্রীর সাথে বাকবিতন্ডা করতে থাকেন। একপর্যায়ে, মৃত নূরুল আমিন বৈঠা তার অন্তঃসত্ত্বা প্রথম স্ত্রীকে স্বজোরে পেঠে লাথি মারায় ভিকটিম মাটিতে লুঠিয়ে পড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে ২০০৫ সালের ৫ এপ্রিল ভিকটিমের ভাই মো. আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে নকলা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আদালত বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বাদীর আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হওয়ায় আদালত আন্জুমানারা বেগম ওরফে শেফালীকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল শেরপুর- ২০১০ সালের ১৯এপ্রিল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন -২০০০ সালের ১১(ক)/৩০ ধারায় দোষী সাব্যস্থ করে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করেন।
এ ঘটনার পরে থেকেই আন্জুমানারা বেগম ওরফে শেফালী আত্মগোপনে চলে যায়।
এরই ধারাবাহিকতায়, র্যাব-১৪, সিপিসি-১ জামালপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর আবরার ফয়সাল সাদীর নেতৃত্বে র্যাবের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসামির অবস্থান সনাক্তের মাধ্যমে ১৩মার্চ বুধবার রাতে ময়মনসিংহের চরশসা জয় বাংলা বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। পরে বুধবার রাতেই গ্রেপ্তারকৃত আসামী আন্জুমানারা বেগম (শেফালী)কে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করার নিমিত্তে শেরপুর জেলার নকলা থানায় হস্তান্তর করা হয়। র্যাব-১৪, জামালপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর আবরার ফয়সাল সাদী জানান, এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে র্যাবের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।