
সবুজে ঘেরা বন্দর
নগরী চট্টগ্রামের সবুজ কমতে কমতে ক্রমশ শ্রী হীন ধুসর এক নগরীতে পরিণত হয়েছে। মানুষের অসীম চাহিদার কাছে নিরুপায় প্রাণ-প্রকৃতি। এক চিলতে সবুজও রাখা হবে না কোথাও এমন মরণ পণ করেছে যেনো সব প্রতিষ্ঠান। যেখানেই গাছ সেখানেই উন্নয়ন পরিকল্পনা। সবকিছু যেনো মানুষের করায়ত্ত হওয়া জরুরি।
চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সামনের জায়গাটুকু ছিল উন্মুক্ত, জনসাধারণের হাটা, চলা, বিশ্রাম কিংবা অলস সময় কাটানোর সবুজ এক চত্ত্বর। সেটা লিজ দেয়া হয় সিটি কর্পোরেশনের কাছে। সেখানে হয় শিশুপার্ক। অনিয়ম, বিশৃঙ্খলার জন্য দীর্ঘ পঁচিশ বছর শেষে লিজ বাতিল করা হয়, ভেঙে ফেলা হয় শিশুপার্ক। কথা ছিল জায়গাটা আবার আগের মত উন্মুক্ত থাকবে। কিন্তু সম্প্রতি সেখানকার গাছ গুলো কাটা শুরু হয়। ইতোমধ্যে অনেক গুলো গাছ কাটা পড়েছে এবং বাকি গুলোও কন্ট্রাক্ট দেয়া হয়েছে। এখনও সবমিলিয়ে ১২১ টার মত গাছ আছে ঐ এলাকায়। এদিকে গরীবুল্লাহ শাহ মাজার কবরস্থানে চলছে গাছ হত্যার মহোৎসব। কিছুদিন আগে বিপ্লব উদ্যানের সব গাছ কেটে সেখানে ইমারত বানানোর কাজ চলছে। এমইএস কলেজের পাশের কবরস্থানের সব গাছ কেটে ধু ধু মরুভূমি বানিয়ে ফেলেছে।১০ মার্চ রবিবার বেলা ১১ টায় নগরীতে শিশুপার্ক এলাকার কাটা গাছের সামনে “হত্যা করা গাছেদের জন্য শোকসভা”র আয়োজন করা হয়, সাধারণ জনগণের ব্যানারে, সেই সাথে প্রতিবাদ সভা। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট প্রাণী গবেষক শফিক হায়দার, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ডাক্তার মাহফুজুর রহমান, বরেণ্য চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার কামাল উদ্দীন, চলচিত্র নির্মাতা আসমা বীথি, ন্যাপের সাংগঠনিক সম্পাদক মিতুল দাস, নুরুল হুদা, সিঞ্চন ভৌমিক, বেলা চট্টগ্রামের প্রতিনিধি মনিরা পারভীন রূবা, গণ সংহতির সাধারণ সম্পাদক হাসান মারুফ রুমী, বিশিষ্ট অর্থোপেডিক্স ডাক্তার মনজুরুল করীম বিপ্লব, গ্রীণ ফিঙ্গারস কো ফাউন্ডার আবু সুফিয়ান, অগ্নিবীণা পাঠাগারের সৌরভ চৌধুরী, হ্যিউমেন ফার্স্ট মুভনেন্টের তরুন বিশ্বাস, মো রুবেল, সালমা জাহান, শিরিন শাহিন সহ পরিবেশ সচেতন মানুষ। বক্তারা সবাই পরিবেশ রক্ষায় গাছের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং আর একটা গাছও কাটা হলে কঠোর আন্দোলনের কথা বলেন। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঠিক সিদ্ধান্ত রক্ষা করতে পারে জীবনদায়িনী এই গাছ গুলো, বলেন বক্তারা।