
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের উপনির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিজয় লাভ করলেন আশুগঞ্জের সন্তান মোঃ বিল্লাল মিয়া। শনিবার ০৯ মার্চ অনুষ্ঠিত ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলা পরিষদ উপনির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মো. বিল্লাল মিয়া ঘোড়া প্রতীকে বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে নির্বাচিত হয়েছেন।
মোঃ বিল্লাল মিয়া আশুগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ তারুয়া গ্রামের মোঃ হেবজু ভূইয়ার ছেলে।
শনিবার (৯ মার্চ) বিকালে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান উপনির্বাচনের রিটার্নি অফিসার মোহাম্মদ সাদেকুল ইসলাম এই ফলাফল ঘোষণা করেন। এর আগে শনিবার সকাল ৯টা থেকে ভোট শুরু হয়ে একটানা দুপুর ২টা পর্যন্ত চলে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান উপনির্বাচনের রিটার্নি অফিসার মোহাম্মদ সাদেকুল ইসলাম বলেন,শনিবার সকাল নয়টা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত ইভিএম মেশিনের মাধ্যমে ভোট গ্রহন হয়। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানে উপনির্বাচনে তিনপ্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বী করেছেন। তাঁদের দুইজন আওয়ামী লীগের নেতা ও বিল্লাল মিযা ব্যবসায়ী।
বেসরকারিভাবে ঘোষিত প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে মোঃ বিল্লাল মিয়া (ঘোড়া প্রতীক) ৭৪৩ ভোট পেয়ে জেলা পরিষদের নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার দুইবারের সাবেক মেয়র মো. হেলাল উদ্দিন (চশমা প্রতীক) পেয়েছেন ৪৯০ ভোট ও আরেক প্রতিদ্বন্বি ন্জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শফিকুল আলম এমএসসি (আনারস প্রতীক) পেয়েছেন ১৩৩ ভোট। এর আগে শনিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত জেলার ৯টি উপজেলার ৯টি কেন্দ্রে বিরতিহীনভাবে ইভিএমে ভোটগ্রহণ অনুষ্টিত হয়। উল্রেখ্য যে,ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় মোট ৬টি সংসদীয় আসন, ৯টি উপজেলা, ৫টি পৌরসভা ও ১০০টি ইউনিয়ন রয়েছে।
এ সবগুরো প্রসাশনিক অফিস ও ইউনিযন নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ গঠিত।অনুষ্ঠিত উক্ত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৩৮৪ জন।
এর মধ্যে নাসিরনগর উপজেলায় ১৭১জন, সরাইল উপজেলায় ১১৯জন, আশুগঞ্জ উপজেলায় ১০৪ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় ১৬১ জন, বিজয়নগর উপজেলায় ১৩০জন, কসবা উপজেলায় ১৪৬ জন, আখাউড়া উপজেলায় ৮১ জন, নবীনগর উপজেলায় ২৮৮ ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় ১৮৪জন ভোটার রয়েছেন। আরো উল্লেখ্য যে,২০২২ সালের ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য জেলা পরিষদের নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আল-মামুন সরকার চেয়ারম্যান পদে জয়লাভ করেছিলেন। কিন্তু আল-মামুন সরকার দায়িত্বভার গ্রহণের এক বছর পূর্ন না হতেই ২০২৩ সালের ২ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর ফলে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়ে যায়। মো. বিল্লাল মিয়ার রাজনৈতিক কোনো পদ-পদবী নেই।তিনি কোন রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িতও নন। মোঃ বিল্লাল মিয়া পেশায় একজন ব্যবসায়ী। বিল্লাল মিয়া বিগত জেলা পরিষদ নির্বাচনে আশুগঞ্জ উপজেলা থেকে জেলা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত
হয়েছিলেন।।চেয়ারম্যান পদে লড়াই করতে তিনি সদস্যপদ থেকে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করেন। পদত্যাগ করে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে শেষ পর্যন্ত তিনি জয়ী হয়ে চমক দেখিয়ে পুরো জেলায তাক লাগিয়ে দিয়েছেন,পাশাপাশি
মোঃ বিল্লার মিয়া বিজয় লাভ করে জেলায়
চমক সৃষ্টি করেছেন।