
রাজধানীর মিরপুরে অবৈধ অটোরিকশা ছড়াছড়ি। পাড়া মহল্লার অলিগলি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এই অবৈধ অটোরিকশা। ট্রাফিক সার্জেন্টদের সামনে চলাচল করলেও তারা দেখেও না দেখার ভান করছে আর বেপরোয়া চলাচলের কারণে দুর্ঘটনার প্রবণতা বাড়ছে দিনদিন । রাজধানীতে অবৈধ হলেও মিরপুর এলাকার প্রধান সড়কগুলো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা।
হাইকোর্ট থেকে অটোরিকশা বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হলেও ট্রাফিক পুলিশের কোনো কার্যক্রম বা ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি রাজধানী মিরপুরের কোথাও। নির্ভরযোগ্য সূত্রের মতে, মিরপুর ১০, ১১, ১২ ও ১৩ নম্বর,পল্লবী, রূপনগর, ভাষানটেক, শাহআলী, শিয়াল বাড়ি মোড়,প্রশিক্ষা মোড়, চিড়িয়াখানা রোড, চলন্তিকা মোড়,মিলভিটা মোড়, গুদাড়াঘাট, দুয়ারীপাড়া, ইস্টার্ন হাউজিং, লালমাটি, বাউনিয়াবাঁধ, জুটপট্টি,ডিসি অফিস গলি, পপুলার এলাকায় প্রায় ১৬ থেকে ২০ হাজার অটোরিকশা চলাচল করে। এ সকল অটোরিকশা ট্রাফিক পুলিশের সামনেই সড়ক দাপিয়ে বেড়ানোর পেছনে চলছে টোকেন দিয়ে কোটি টাকা চাঁদার বানিজ্য। এই চাঁদা ক্ষমতাসীন দলের নেতার পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশের টিআই, সার্জেন্টসহ স্থনীয় থানা পুলিশে কারও কারও পকেটে যায় বলে অভিযোগ অটোরিকশার চালকদেরই। এই ১৬ থেকে ২০ হাজার বেশি অটোরিকশার প্রত্যেকটি থেকে প্রতিমাসে ১৫ থেকে ২ হাজার টাকা চাঁদা তোলা হয়। সে হিসাব অনুযায়ী, তাতে প্রতিমাসে ওঠে কোটি টাকার বেশি চাঁদা।
কোনো অটোরিকশাচালক যেন অলিগলির ফাঁক-ফোকরে চাঁদা বিহিন চলতে না পারে, সেজন্য মাসে মাসে ট্রাফিক সার্জেন্টদের মননিত চাঁদাবাজাদের মার্কা দেওয়ার টোকেনের নিয়ম তৈরি করা হয়েছে। এক মাসের চাঁদা দিলে পরের মাসের জন্য দেওয়া হয় লোঘো মার্কা টোকেন। মিরপুর এলাকায় দেখা গেছে, সেখানকার অনেক গ্যারেজেই অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে দেয়া হচ্ছে ব্যাটারিতে চার্জ। সূত্রে জানা গেছে, অটোরিকশা চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে গত কয়েক মাস আগে রূপনগর থানায় ৫ জনের নাম উলেক্ষ্যে করে একটি মামলা দায়ের হয় ১১-১০-২০২৩ যার মামলা নং ৮। মামলায় একজন গ্রেফতার হলেও বাকিরা জামিনে এসে আবার পুনরায় সেই অটোরিকশা টোকেন ব্যবসার নামে চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয়েছে। বিভিন্ন গ্যারেজ মালিকরা অভিযোগ করে বলেন, এই চাঁদাবাজদের পেছনে রূপনগর থানার এক পুলিশের হাত রয়েছে এ কারণেই এই চাঁদাবাজরা এতটাই বেপরোয়া যে তাদের কে কোন ভাবে দমানো যাচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে গ্যারেজ মালিকরা অটোরিকশার কার্ড নিতে হচ্ছে এই চাঁদাবাজদের কাছ থেকে।
গ্যারেজ মালিকরা আরো অভিযোগ করে বলেন, গত কয়েকদিন আগে তারা কার্ড নিতে অস্বীকার করলে বিভিন্ন গ্যারেজ থেকে চার্জার এবং অটো রিকশার সরঞ্জামাদি নিয়ে আসে রুপনগর থানা পুলিশ। এ বিষয়ে তারা কোন প্রতিকার চেয়েও প্রতিকার পাচ্ছে না স্থানিয় থানা পুলিশের কাছে। এ বিষয়ে রুপনগর থানার পরিদর্শক (ওসি) আব্দুল মজিদ পি, পি,এম এর মুঠোফোনে একাদিক বার যোগাযোগ করাহলে তিনি ফোনটি রিসিভ করেনি। এ বিষয়ে মিরপুর ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার জসীমউদ্দীনের সাথে কথা হলে প্রতিবেদককে বলেন, অবৈধ রিকশা চালাতে যারাই সহযোগিতা করছে তাদের কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না”। “অতি দ্রুতই তাদের বিরুদ্ধে আইনআনুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি”। “তবে কোনো ব্যক্তির অপকর্মের দায় নেবে না এ বাহিনী”। ট্রাফিক পুলিশের কেউ যদি এই অটো রিকশা টোকেন বাণিজ্যের সাথে জড়িত থাকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিআই/এসকে