ঢাকা, শনিবার, ৫ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
পাঁচবিবিতে মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন জামায়াতের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত
টিআরসি নিয়োগে দালালমুক্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার আশ্বাস ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপারের
উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটে রোগীদের দূর্ভোগ
চিলমারীতে ঐতিহ্যবাহী অষ্টমির স্নান সম্পন্ন
বিএনপি নেতার ওপর বোমা হামলার প্রতিবাদে কয়রায় বিক্ষোভ মিছিল
লঞ্চে মুমূর্ষ নবজাতককে মেডিকেল সহায়তা প্রদান করল কোস্ট গার্ড
আমতলীতে লঞ্চ ঘাট ও বাসস্ট্যান্ডে যৌথবাহিনীর অভিযান, জরিমানা আদায়
কালীগঞ্জে আমিনুর রহমান আমিনের গণসংযোগ শুভেচ্ছা বিনিময়
আমতলীতে হামলা, লুট ও পিটিয়ে দোকান দখলের অভিযোগ
দেওয়ানগঞ্জে মেয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বৃদ্ধ বাবা মৃত্যু
নড়াইল জেলা ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতা-কর্মীদের ঈদ পুনর্মিলনী
জামায়াতে ইসলামীতে চাঁদাবাজ সন্ত্রাসের কোনো সুযোগ নেই:রফিকুল ইসলাম
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে কাজ করতে হবে
ভূরুঙ্গামারীতে মুভমেন্ট ফর পাঙ্কচুয়ালিটি’র সম্মেলনের উদ্বোধন
বিরামপুরে আগ্নিকান্ডে সনাতন পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে ছাই

ভুয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে ৩৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ৪

ডেস্ক রিপোর্ট:
টেন্ডারের মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাজ নেন মূল ঠিকাদাররা। এরপর কোনো কোনো ঠিকাদার অন্য ঠিকাদারদের দিয়ে সেই কাজটি করান। এমন একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এসএ এন্টারপ্রাইজ’। তারা বাংলাদেশের অনেক স্থানেই কাজ করেছে। এবার সেটি করতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন খোদ প্রতিষ্ঠানটির মালিক দ্বীন ইসলাম। তার কাজের বিল গায়েব করে দিয়েছেন ভুয়া এক ঠিকাদার। মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে ৩৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। এতে ব্যাংক কর্মকর্তা, সুনামগঞ্জ গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের পিওনদের সহযোগিতা রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি পুলিশ।

রাজধানীর কোতয়ালী থানায় করা একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এমন চাঞ্চল্যকর প্রতারণার তথ্য পায় ডিএমপির গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগ। মামলার পর প্রথমে ভুয়া ঠিকাদার রমজান হোসেনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। এরপর তার স্ত্রী মোসা. দিলারাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে জব্দ করা হয় নগদ ২৪ লাখ টাকা ও অন্যান্য মালামাল। পরে মামলার বাদী ও সাব ঠিকাদার জসিম উদ্দিনকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

বুধবার নিজ কার্যালয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এসএ এন্টারপ্রাইজের মালিক দ্বীন ইসলাম সুনামগঞ্জের পিডব্লিউডির একটি কাজ নেন। কাজটি করার জন্য মেসার্স এসএ এন্টারপ্রাইজের পক্ষ থেকে সাব ঠিকাদার জসিম উদ্দিনকে অথোরাইজেশন দেওয়া হয়। এরপর জসিম কাজটি করতে রমজান হোসেন ও আবু কাওসারের সঙ্গে ৭ শতাংশ কমিশনে চুক্তি করেন। এরমধ্যে ৫-৬ লাখ টাকার কাজ করে দেন রমজান ও কাওসার। বাকি কাজ অসম্পূর্ণ রেখে পিডব্লিউডি অফিসে ঘুষ দিয়ে ১৫ লাখ টাকার বিল উত্তোলন করে পালিয়ে যান তারা। এদিকে কাজ শেষ করতে পিডব্লিউডি অফিস থেকে চাপ দিতে থাকলে বাধ্য হয়ে বাকি কাজ শেষ করেন জসিম। আর রমজান ও কাওসার মিলে সে কাজের বিলও আত্মসাৎ করার পরিকল্পনা করেন।

প্রতারণার পরিকল্পনায় রমজান তার স্ত্রী দিলারাকে যুক্ত করেন। তখন দিলারাকে জানানো হয়, তারা সুনামগঞ্জ পিডব্লিউডিতে ৩৪ লাখ টাকার কাজ করেছেন। কিন্তু বিল তুলতে পারছেন না। সেই টাকা তুলতে তাদের সহায়তা করলে দিলারাকে দেড় লাখ টাকা দেওয়া হবে। তাৎক্ষণিকভাবে দিলারাকে দেড় লাখ টাকার চেক দিয়ে আবু কাওসার বলেন, বিল উত্তোলন হলে তিনি এই চেকে টাকা তুলতে পারবেন। তবে টাকা উত্তোলনের জন্য মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এসএ এন্টারপ্রাইজের নামে ভুয়া একটি ট্রেড লাইসেন্স তৈরি করতে হবে। এর মালিক হিসেবে দেখানোর জন্য সুমি আক্তার মাহমুদা নামে একটি ভুয়া এনআইডি কার্ড দেন দিলারাকে। এরপর খুব চতুরতার সঙ্গে সুমি নামের ওই এনআইডি কার্ডের সঙ্গে দিলারা নিজের ছবি ব্যবহার করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলেন। পূবালী ব্যাংকের বাসাবো শাখায় মেসার্স এসএ এন্টারপ্রাইজ নামে ভুয়া অ্যাকাউন্টটি খোলা হয়।

ভুয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে তাদের সহায়তা করেন ব্যাংকের সেই শাখার কর্মকর্তা পলাশ। যার বিনিময়ে পলাশকে ৫০ হাজার টাকা দেন রমজান। এরপর তিনজনই সুনামগঞ্জ গিয়ে হোটেলে ওঠেন।

হারুন অর রশীদ জানান, সুনামগঞ্জ যাওয়ার পর সাব ঠিকাদার জসিম উদ্দিন প্রতারক দলের সঙ্গে যোগ দেন। এসময় রমজান ও কাওসার দুজনে পিডব্লিউডি অফিসে বিল পাশ করানোর জন্য যান। পিডব্লিউডি অফিসের এসডি আশরাফ হোসেন, এসও এনামুল ও আবুল হাসান ও অ্যাকাউন্টেন্ট লতাকে ছয় লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে চারটি চেকের মাধ্যমে বিল পাশ করিয়ে নেন তারা। রমজান হোসেন নিজেকে জসিম পরিচয় দিয়ে পিডব্লিউডি অফিস থেকে চেকগুলো নিয়ে আসেন। চারটি চেকে ৩৩ লাখ ৪৯ হাজার ২৪৫ টাকা প্রদান করার জন্য বলা হয়। এরপর চেকগুলো নিয়ে তারা যান পূবালী ব্যাংকের সিলেট শাখার দরগা গেট ব্রাঞ্চে। এরপর মুখে মাস্ক পরে নিজেকে জসিম পরিচয় দিয়ে চেকগুলো ক্যাশ করাতে ব্যাংকের ভেতরে যান রমজান। এরপর টাকা দেওয়ার সময় মেসার্স এসএ এন্টারপ্রাইজের ভুয়া মালিক সুমি আক্তার মাহমুদা নামের এনআইডির ব্যক্তিকে ফোন দেন ব্যাংক কর্মকর্তা। মূলত সেই ফোনটি দিলারাকে দেওয়া হয়। তখন ব্যাংক কর্মকর্তা টাকাগুলো ক্যাশ করে দেবেন কি না জানতে চান। দিলারা সম্মতি দিলে টাকা ক্যাশ করে দেন ব্যাংক কর্মকর্তা। এরপরই রমজান ৩৩ লাখ ৪৯ হাজার ২৪৫ টাকা উত্তোলন করেন। এরমধ্যে ৩০ লাখ টাকা দিলারার ডাচ বাংলা ব্যাংকের ওয়ারী শাখার অ্যাকাউন্টে দেন রমজান। বাকি ৩ লাখ ৪৯ হাজার ২৪৫ টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে রাখেন।

প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি জানার পর সাব ঠিকাদার জসিম উদ্দিন কোতয়ালী থানায় মামলা করেন। মামলা হলে পুলিশ রমজানকে গ্রেপ্তার করে। এরপর ডিবি পুলিশ দিলারাকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার ও বাকি ২৪ লাখ টাকা ও অন্যান্য মালামাল জব্দ করে।

ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ বলেন, এ ধরনের প্রতারণার কারণে মূল ঠিকাদাররা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আবার মূল ঠিকাদার থেকে পাওয়ার নিয়ে যারা কাজ করছেন তারাও কখনো কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এসব ঘটনায় পিডব্লিউডি অফিস ও ব্যাংকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা জড়িত। আমরা তদন্ত করছি। তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট খবরে জানা গেছে।

শেয়ার করুনঃ