ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩রা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
নৌকার উপর গান বাজিয়ে অস্ত্র প্রদর্শন-নাচানাচি: সেনা অভিযানে ডেঞ্জার গ্যাংয়ের ১৬ সদস্য আটক
শ্রীনগরের কুকুটিয়া ইউনিয়ন বিএনপি’র ঈদ পুনর্মিলনী
রাজবাড়ীর ক্লুলেস হত্যা মামলার আসামী সুবর্ণচরে গ্রেফতার
রায়পুরে জামায়াত কর্মীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
বকশীগঞ্জে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের নিয়ে ওসির মাদক বিরোধী প্রচারণা
লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতা উপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল
মোহাম্মদপুরে সাড়াশি অভিযান,গ্রেফতার ৬
বনশ্রীতে নারী সাংবাদিককে যৌন হয়রানি-হেনস্তা, গ্রেফতার ৩
নোয়াখালীতে জমজ ২ দুই বোনকে ধর্ষণ
শিক্ষক হত্যা:১৩ বছর ছদ্মবেশে আত্মগোপনে,গ্রেফতার মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী
কলাপাড়ায় যুবককে পেটালেন সেনা সদস্য: হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন আহত মিশকাত, থানায় অভিযোগ
গ্রামের মানুুষ ধানের শিষে ভোট দিয়ে দেশের শান্তি ফিরিয়ে আনতে চায় : বিএনপি নেতা হাজী আল মামুন
পাঁচবিবিতে লীলা কীর্তনে অর্ধ লক্ষ টাকা সহায়তা দিলো ছাত্রনেতা ‘শামীম’
ঈদের তৃতীয় দিনে পর্যটকে কনায় কানায় পরিপূর্ন কুয়াকাটা সৈকত
কলাপাড়ায় গভীর রাতে বসতঘর থেকে গৃহবধূ নিখোজ, জনমনে নানা প্রশ্ন হত্যা না গুম

ঠিকাদারের লাখ টাকা তুলে নিলো কলেজ ছাত্রী, নেপথ্যে ঘুষ বাণিজ্য

মূল ঠিকাদাররা নানা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদারি কাজ করছেন। তেমনই একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসএ এন্টারপ্রাইজ বাংলাদেশে অনেক স্থানেই কাজ করছেন। অনেক সময় অনেককে পাওয়ার দিয়ে কাজ করে নেয় প্রতিষ্ঠানটি। তবে সেটি করতে গিয়ে এবার প্রতারণার শিকার হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির মালিক দ্বীন ইসলাম।

সেই কাজের বিল গায়েব করে দিচ্ছে ভূয়া নাম ধারণ করে ভূয়া ঠিকাদাররা। মূল শিকাদার সেজে একই নামে একাউন্ট খুলে কিছু ব্যাংক কর্মকর্তা,ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের পিওনদের সহযোগীতায় এই প্রতারণা করে আসছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে,একটি কাজ অন্য আরেকজনকে পাওয়ার দিয়ে করাতে গিয়েই হয়েছে বিপত্তি। কাজ করার পর মূল ঠিকাদারের নামে বিল উঠে। তখন ব্যাংকের কিছু অসাদু ব্যক্তি ও ভূয়া ঠিকাদার মিলে ভূয়া এনআইডিতে সেইম নামে একাউন্ট খুলে। এরপর একই নামে খোলা একাউন্টে কাজের মূল বিল বাবদ পাওয়া চেক ঢুকিয়ে ভাঙ্গায় অর্থাৎ টাকা তুলে নেয়।

এরকমভাবে একজন কলেজ পড়ুয়া নারী তার স্বামীর প্রতারণায় মূল ঠিকাদারের বিল গায়েব করে দিয়েছেন।

রাজধানীর কোতয়ালী থানায় দায়ের করা একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এমন প্রতারণার তথ্য জানতে পারে ডিবি পুলিশ।

মামলার পর পুলিশ প্রথমে ভূয়া ঠিকাদার রমজান হোসেনকে আটক করে। এরপর তার স্ত্রী মোসা. দিলারাকে তার বাসা থেকে আটক করে এবং তার হেফাজত থেকে নগদ ২৪ টাকা ও অন্যান্য মালামাল জব্দ করেন। পরবর্তীতে ওই মামলায় ডিবি পুলিশ ৪ নং আসামী জসিম উদ্দিনকেও আটক করেন। ১ ও ২ নং আসামী আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দিও দেন।

বুধবার(৬ মার্চ) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন,মেসার্স এসএ(এসএ) এন্টারপ্রাইজ নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক দ্বীন ইসলাম। তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঠিকাদারি করেন। মেসার্স এসএ এন্টারপ্রাইজ সুনামগঞ্জের পিডব্লিওডি’র একটি ঠিকাদারি কাজ নেন। কাজটি সম্পূর্ণ করার জন্য মেসার্স এসএ এন্টারপ্রাইজের পক্ষ হতে সাব ঠিকাদার জসিম উদ্দিনকে অথোরাইজেশন দেওয়া হয়।

তিনি কাজটি সম্পূর্ণ করার জন্য রমজান হোসেন ও আবু কাওসারের সাথে ৭ শতাংশ কমিশনে চুক্তিবদ্ধ হন। রমজান হোসেন ও আবু কাওসার ৫/৬ লাখ টাকার কাজ করেন। বাকি কাজ অসম্পূর্ণ রেখে পিডব্লিউডি অফিসে ঘুষ দিয়ে ১৫ লাখ টাকার বিল উত্তোলন করে পালিয়ে যান। কাজটি সম্পূর্ণ করার জন্য পিডব্লিউডি অফিস থেকে চাপ দিতে থাকলে বাধ্য হয়ে জসিম উদ্দিন বাকি কাজ সম্পূর্ণ করেন। রমজান হোসেন ও আবু কাওসার মিলে সে কাজের বিলও আত্মসাৎ করার পরিকল্পনা করেন।

এই পরিকল্পনায় রমজান তার স্ত্রীকে যুক্ত করেন। কাওসারকে নিয়ে রমজান তার বাসায় স্ত্রী মোসা. দিলারাকে নিয়ে বৈঠক করে বলেন,তারা সুনামগঞ্জ পিডব্লিউডি তে ৩৪ লাখ টাকার একটি কাজ করেছে। কিন্তু বিল তুলতে পারছে না। আবু কাওসার মোসা. দিলারাকে বলেন যে,সে যদি টাকাটা তুলতে তাদের সহায়তা করেন তবে দেড় রাখ টাকা দেওয়া হবে।

আবু কাওসার তাৎক্ষনিকভাবে দিলারাকে দেড় লাখ টাকার চেক দিয়ে বলেন,বিল উত্তোলন হলে তিনি এই চেকেই টাকা তুলে নিতে পারবেন। আবু কাওসার আরো বলেন, টাকা উত্তোলনের জন্য মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এসএ এন্টারপ্রাইজের নামে ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স তৈরি করতে হবে। যার প্রোপাইটার/মালিক হিসেবে দেখানোর জন্য সুমি আক্তার মাহমুদা নামে একটি এনআইডি কার্ড দেন।

এরপর রমজান হোসেন দিলারাকে নিয়ে পূবালী ব্যাংক বাসাবো শাখায় মেসার্স এসএ এন্টারপ্রাইজ নামে ব্যাংক একাউন্ট খুলেন। খুব চতুরতার সাথে সুমি আক্তার মাহমুদার এনআইডি কার্ডের সাথে দিলারার নিজের ছবি ব্যবহার করে মেসার্স এসএ এন্টারপ্রাইজ প্রোপাইটার সুমি আক্তার মাহমুদা নামের ব্যাংক একাউন্ট খুলেন।

এই কাজে তাদেরকে সহয়তা করে ব্যাংকটির সেই শাখার কর্মকর্তা পলাশ। যার বিনিময়ে রমজান হোসেন পলাশকে ৫০ হাজার টাকা দেন। এরপর তিনজনই সুনামগঞ্জ গিয়ে হোটেলে উঠেন।

আত্মসাৎ পরিকল্পনায় জড়িত খোদ সাব ঠিকাদার জসিমও

সুনামগঞ্জে যাবার পর সাব ঠিকাদার ও আগের বকেয়া কাজ করা জসিম উদ্দিন তাদের সাথে যোগ দেন। রমজান ও কাওসার মিলে সুনামগঞ্জ পিডব্লিউডি অফিসে বিল পাশ করানোর জন্য যান। পিডব্লিউডি অফিসের এসডি(SD) আশরাফ হোসেন, এসও(SO) এনামুল ও আবুল হাসান ও একাউন্টেন্ট লতাকে ৬ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে চারটি চেকের মাধ্যমে বিল পাশ করিয়ে নেন।

রমজান হোসেন নিজেকে জসিম পরিচয় দিয়ে পিডব্লিউডি অফিস থেকে চেকগুলো নিয়ে আসেন। চারটি চেকে মোট ৩৩ লাখ ৪৯ হাজার ২৪৫ টাকা প্রদান করার জন্য বলা হয়। চেকগুলো নিয়ে তারা পূবালী ব্যাংক লিমিটেড, দরগা গেট ব্রাঞ্চ, সিলেট শাখায় যান।

মুখে মাস্ক পড়ে নিজেকে জসিম উদ্দিন পরিচয় দিয়ে চেক গুলো ক্যাশ করার জন্য ব্যাংকের ভিতরে যান রমজান। ব্যাংক কর্মকর্তা মেসার্স এসএ এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটার হিসেবে সুমি আক্তার মাহমুদা ওরফে দিলারাকে ফোন দিয়ে জানতে চান যে,টাকাগুলো ক্যাশ করে দিবেন কিনা। তখন দিলারা সম্মতি দেন। এরপরই রমজান ৩৩ লাখ ৪৯ হাজার ২৪৫ টাকা উত্তোলন করেন ও ৩০ লাখ টাকা ডাচ বাংলা ব্যাংক সিলেট ব্রাঞ্চ হতে দিলারার ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের ওয়ারী ঢাকা শাখার একাউন্টে জমা করেন। বাকি ৩ লাখ ৪৯ হাজার ২৪৫ টাকা রমজান হোসেন নিজের একাউন্টে জমা রাখেন।

প্রতারিত হওয়া ও পুরো বিষয়টি জানার পরে সাব ঠিকাদার জসিম উদ্দিন ডিএমপি’র কোতয়ালী থানায় মামলা করেন। মামলা হলে পুলিশ রমজান হোসেনকে আটক করে। জামিনের কথা বলে বাবা বেলাল হোসেন রমজানের স্ত্রী মোসা.দিলারার নিকট থেকে ৪ লাখ টাকা নেয়। বাকী টাকা ব্যাংক থেকে তুলে দিলারা নিজের কাছে রাখেন। ডিবি পুলিশ দিলারাকে তার বাসা থেকে আটক ও বাকি ২৪ লাখ টাকা ও অন্যান্য মালামাল জব্দ করেন।

পরবর্তীতে মামলার বাদী জসিম উদ্দিনকেও আটক করা হয়। ১ ও ২ নং আসামী আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দিতে সব স্বীকার করেছেন।

ঢাকা মহানগর ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ বলেন, এধরণের প্রতারণার কারণে মূল ঠিকাদাররা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। আবার মূল ঠিকাদার থেকে পাওয়ার নিয়ে যারা কাজ করছেন তারাও কখনো কখনো ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।

তিনি বলেন, এসব ঘটনায় পিডব্লিউডি’অফিস ও ব্যাংকের কিছু অসাদু কর্মকর্তা জড়িত। আমরা তদন্ত করছি। তদন্তের প্রেক্ষিতে আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

ডিআই/এসকে

শেয়ার করুনঃ