ঢাকা, সোমবার, ৭ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
আমতলীতে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়ী সংবর্ধনা
মিরসরাইয়ে স্বপ্নের খৈয়াছড়া’র কার্যকরী পরিষদ গঠন, সভাপতি জাহেদ সম্পাদক নুর আহমেদ
কুষ্টিয়ায় শিশু ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে ছবির শেখকে গণপিটুনি
দেহ ব্যবসায়ীদের আস্তানা গুড়িয়ে ও পুড়িয়ে দিলেন এলাকাবাসী
আত্রাইয়ের আকাশ থেকে পড়ল বিরল আকৃতি’র শীলা
ফেনী নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অর্ধদিনব্যাপী সাড়াশি অভিযান
নওগাঁ-ঢাকা বাস কাউন্টারে প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ টিমের অভিযান
নবীনগরের সাংবাদিক গোলাম মোস্তফার ইন্তেকাল
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের ১১ সদস্যের কমিটি গঠন
বোয়ালমারীতে গৃহবধূর আত্মহত্যা,নিহতের পরিবারের দাবি খুন
বিস্ফোরক আইনের মামলায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ গ্রেফতার
রাজবাড়ীর সাবেক এমপি কেরামত কাজী গ্রেফতার
পল্লবী থানার বিশেষ অভিযানে ৩০ মামলার আসামিসহ ১২জন গ্রেফতার
গাজায় গণহত্যার প্রতিবাদে পিআরপি’র সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক
ঘোড়াঘাটে আদিবাসী উন্নয়ন সংস্থার র্নিবাচনে সভাপতি লুইস :সম্পাদক মাইকেল

সংরক্ষিত আসনে এমপি হতে চেয়ে ‘ভূয়া লিকুর’ খপ্পড়ে ৬২ লাখ টাকা খোয়া

প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ গাজী হাফিজুর রহমান লিকু পরিচয়ে চাকুরীর তদবিরকারী প্রতারক চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার ও প্রতারণায় ব্যবহৃত আলামত গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশ(ডিবি)।

ঢাকা থেকে গ্রেফতার ভূয়া লিকুর আসল নাম ইয়াসির আরাফাত (৩০)।

একই ঘটনায় মো.আনিস নামে আরও একজন সোমবার(৩ মার্চ) রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের একটি দল। এসময় তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে,গ্রেফতার ইয়াসির আরাফাত ও মো.আনিস প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ গাজী হাফিজুর রহমান লিকুর পরিচয় প্রদান করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও সরকারি অন্যান্য নিয়োগকারীর কর্তৃপক্ষকে ফোন করে তার মনোনীত ব্যক্তিদের চাকরি দেওয়ার জন্য তদবির করাসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ফোন করে চিকিংসা ফ্রি কমানো ও বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের রোগী দেখার সিরিয়াল দেওয়ার কাজ করে আসছিলেন। হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা।

সম্প্রতি একটি জেলার একটি সরকারি কলেজের আঞ্জুমান আরা বেগম নামে এক সহকারি অধ্যাপক স্থানীয় রাজনীতি সূত্রে মহিলা কোটায় সংরক্ষিত আসনে এমপি হতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন। তখন তিনি তদ্বির করে দেবার কথা বলে এই ভূয়া লিকুর খপ্পড়ে খোয়ান ৬২ লাখ টাকা।

সোমবার (৪মার্চ) বিকেলে এব্যাপারে ডিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকেদের বলেন, আগেও প্রধানমন্ত্রীর একান্ত এপিএস-২ হাফিজুর রহমান লিকুর পরিচয় প্রদান করে বিভিন্ন জায়গায় মনোনয়ন বানিজ্য, ব্যবসা-বানিজ্য, কন্ট্রাক্টারি, চাকরি দেয়া, সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি দেয়ার নামে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পেয়ে আমরা কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছি। আবার নতুন করে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত এপিএস-২ পরিচয়ে প্রতারণা করা ভূয়া এ লিকুকে আমরা গ্রেফতার করেছি। সে মনোনয়ন বানিজ্য করেছে।

ভুক্তভোগী এক মনোনয়নপ্রত্যাশীর অভিযোগ তুলে ধরে ডিবি প্রধান বলেন,আঞ্জুমান আরা বেগম তিনি একটি সরকারি কলেজের সহকারি অধ্যাপক। তিনি স্থানীয় রাজনীতি করেন। তার খায়েস তিনি মহিলা কোটায় এমপি হবেন। সেজন্য তিনি আনিস নামে একজন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি(আনিস) বলেন,আপা আপনার সঙ্গে কি লিকুর কোনো যোগাযোগ বা ম্যাসেজ আসে নাই? হ্যা ম্যাসেজ তো আসছে। তাতে লেখা ছিল-দ্রুতই নিয়োগ দেয়া শেষ হয়ে যাবে। দ্রুত ৬২ লাখ টাকা পাঠান। প্রথমে ১২ লাখ টাকা দিতে হবে উন্নয়ন ফান্ডে। বাকি টাকা দিতে হবে একাউন্টে।

আনিস তখন বলেন,ভাই তো টাকা দিতে বলেছে, টাকা দেন। সুমন ও আনিসের নামে দুজনের মাধ্যমে নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে মোট ৬২ লাখ টাকা পাঠিয়ে দেন। এরপর আজ পর্যন্ত ওই নাম্বার খোলা পাওয়া যায়নি।

হারুন বলেন,অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ পরিচয়ে প্রতারণা করা ভূয়া লিকুও বিভিন্ন লোকজনকে টেলিফোন করেন। বলেন,আমি লিকু বলছি,তাকে চাকরিটা দিয়ে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ে। বা কোনো প্রতিষ্ঠানে। এভাবে কিন্তু লিকুর পরিচয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরিও হয়ে গেছে একজনের। এভাবে সরকারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা ব্যক্তিকে টেলিফোন করে তদ্বির করেছেন। লিকুর নাম ব্যবহার করে বিভিন্নজনের কাজ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছি। লিকু পরিচয় দেয়া দুই প্রতারক ভূয়া লিকুকে গ্রেফতার করেছি।

গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ গাজী হাফিজুর রহমান লিকু পরিচয় দিয়ে এই প্রতারণার কাজটি করে আসছিলেন। তাদের বক্তব্যে আরও কিছু ভূয়া লিকু রয়েছে। যারা দাপ্তরিক তদ্বির করেন।

৬২ লাখ টাকা দিয়ে নারী সংরক্ষিত আসনে এমপি হতে চান। এই ভুক্তভোগী আসলে এমপি হয়ে কি করতেন? আপনারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন কি-না? জানতে চাইলে হারুন বলেন, যেভাবে ম্যাসেজটা আসছে, সেটা তো বিশ্বাস করার মতোই ছিল। তাছাড়া আনিস ও সুমন কথা,ম্যাসেজের কারণে ভেরিফাই করার সুযোগই পাননি।

হারুন বলেন,এর আগেও লিকুর নাম ব্যবহার করে একটা জেলার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এক কোটি টাকা দিয়েছেন দলীয় মনোনয়ন পাবার কথা বলে। আমরা সে প্রতারককেও গ্রেফতার করেছি। এভাবে অসংখ্য প্রতারক গাজী লিকু নাম ধারণ করে প্রতারক গ্রেফতার করছেন।

একদিনের মধ্যে ৬২ লাখ টাকা তিনি কোথায় পেলেন? জানতে চাইলে হারুন বলেন,সেটা তো তার ব্যাপার। ভাই ছেলে মেয়ে আত্মীয়-স্বজন তো আছেই। নানাভাবেই তো এ টাকা ম্যানেজ করতে পারে। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে তদ্বিরের ক্ষেত্রে চাকরি হবার আগেই টাকা নিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র। যিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি পেয়েছেন তার ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিচ্ছি।

বিনীত অনুরোধ করে হারুন বলেন,প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২, পিএস বা এপিএস পরিচয়ে এর আগেও আমরা ভূয়া লোকজনদের গ্রেফতার করেছি। অনেক নাম ধারণ করে প্রতারণা করেছে। কিছু দিন বন্ধ ছিল। নির্বাচনের পর আবার এটা শুরু হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে আরও যারা জড়িত তাদের গ্রেফতার করা হবে। এই চক্রের ব্যাপারে টাকা লেনদেন কিংবা তদ্বির করার ক্ষেত্র্রে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান তিনি।

ডিআই/এসকে

শেয়ার করুনঃ