
ঝালকাঠির রাজাপুরে পাঁচটি বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পরে ভান্ডারিয়া ও রাজাপুর ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট এসে আড়াই ঘটনা পর আগুন নেভায়। আগুনে তিনটি বসত ঘর ভস্মিভুত এবং দুইটি আংশিক পুড়েছে। এতে সাড়ে ১২লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে রাজাপুর ফায়ার সার্ভিসের অফিসার জানায়।
সোমবার (০৪ মার্চ) রাত ২টার দিকে রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের দক্ষিন তারাবুনিয়া এলাকায় হাওলাদার বাড়ি এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে আঃ মন্নান হাওলাদার (৭০), ফারুক শরিফ (৩২) ও দেলওয়ার হাওলাদার (৪৫) এর পাশাপাশি তিনটা বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এবং আব্দুল জলিল ও জাকির হাওলাদারের দুইটি বসতঘরের আংশিক পুড়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভান্ডারিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের অফিসার আব্দুস সোবহান এবং রাজাপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল খালেক।
প্রত্যক্ষদর্শী জনাক ঘরামী বলেন, রাতে ওই বাড়ির মন্নানের ছেলে মুনজিলের রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পরে। এসময় স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে যাওয়ার কারণে বাড়ির লোকজন তাদের মালামাল রক্ষা করতে পারেনি। সবকিছু আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। প্রতিটি বাসা বাড়িতে গ্যাসের চুলা এবং গ্যাসের সিলিন্ডার থাকায় আগুর ভয়াবহ রূপ নেয়। ক্ষতিগ্রস্তদের গচ্ছিত রাখা অর্থ, ফার্নিচার, ফ্রিজ, আসবাবপত্র, চাল ডাল, সুপারি ইত্যাদিসহ সব কিছুই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয়রা অনেকেই আহত হয়েছে।
সাতুরিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. শামীম বলেন, আমাকে রাত ২টার দিকে জলিল নামে একলোক কল দিয়ে আগুন লাগার বিষয়টি জানায়। আমি সঙ্গে সঙ্গে রাজাপুর ও ভান্ডারিয়া ফায়ারসার্ভিসে কল দিয়ে আসার জন্য বলি এবং পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে কল দিয়ে বিদ্যুৎ বন্ধ করতে বলি। আমি রাতেই ঘটনা স্থানে গিয়ে আগুন নেভাতে সহযোগিতা করেছি। আগুন আঃ মন্নান হাওলাদারের রান্নার ঘর থেকে লেগেছে। তখন আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও রান্নাঘরের পাশে গরুর খেড় (কুটার মেই) ছিলো তাতে আগুন লেগে বসতঘর জ্বলে পুড়ে গেছে। এরপর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে। ততক্ষণে ৩টি ঘর সব আগুনে পুড়ে গেছে।
সাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ মাইনুল হায়দার নিপু বলেন, সকালে আমি ঘটনা স্থানে গেছিলাম। আগুনে ৩টি বসতঘর সহ ঘরের মধ্যে থাকা মালামাল সব পুড়ে গেছে এবং ২টি ঘরের আংশিক পুড়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত দেলওয়ার হাওলাদার বলেন, মন্নানের রান্না ঘরে আগুন লাগছে। আগুন পানি দিয়ে নেভাতে পারা যায়নি রান্না ঘরের পাশে কুটার মেই ছিলো তাতে আগুন দরে বসতঘরে লেগে যায় ৩টা বসতঘর সহ সব মালামাল পুড়ে গেছে এবং ২টা ঘরের অর্ধেক পুড়ে গেছে। তাতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
রাজাপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল খালেক বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনা ঘটনাস্থলে পৌঁছাই এবং ভান্ডারিয়া ফায়ারসার্ভিসের কর্মীরাও চলে আসে দুইটা ইউনিটের ১৪জন কর্মীরা কাজ করে এক পর্যায়ে আড়াই ঘন্টার বেশি সময় পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। তাৎক্ষণিক আগুনের সূত্রপাত জানা যায়নি। আগুন লাগার কারণ তদন্ত করে জানার চেষ্টা চলছে। আগুনে ৩টা বসতঘর পুড়ে গেছে এবং ২টা বসতঘরের আংশিক পুড়েছে।
এতে ঘরের লোকজন অল্প আহত হয়েছে। তবে আনুমানিক ১২লাখ ৫০হাজার টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। এবং ৫০ হাজার টাকার মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
রাজাপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মু. আতাউর রহমান বলেন, ঘটনা শুনেছি তবে কেউ কোন ইনফর্ম করেনি।