
রাজধানীর মাটিকাটা এলাকায় সাধারণ মানুষের কাছে আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা দাবি করা নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া। জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত পরিবার থেকে উঠে আসা নাজিম উদ্দিন সরকারি দলের রাজনীতিবিদ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন। নিজ এলাকা লক্ষ্মীপুর থেকে ঢাকায় এসে ভাঙারির দোকানে নামমাত্র বেতনে কাজ করা এই মানুষটি এখন বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক। নিউগিনি প্রপার্টিজ লি. নামে একটি হাউজিংয়ের ব্যানারে ঝামেলাযুক্ত জমি জোর করে দখল করা, অন্যের জমি দখল, হামলা, চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে তার নামে। সরকারি দলের স্থানীয় কতিপয় নেতার নেপথ্যে সহযোগিতায় দিন দিন নাজিম উদ্দিনের অত্যাচার বাড়ছে বলে জানা গেছে।
অবশ্য এরইমধ্যে তাকে একাধিক মামলার আসামি হতে হয়েছে। খেটেছেন জেলও। সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট বাবুল হোসেন হত্যা চেষ্টা মামলায় জেল খেটেছেন নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া। এছাড়া সরকারবিরোধী নাশকতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ডজনখানেকেরও বেশি মামলা আছে তার বিরুদ্ধে। তবে এত অভিযোগের পরও বীরপর্দে নিজের অপকর্ম করে যাচ্ছেন নাজিম।
যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ সত্য নয় বলে গণমাধ্যমকে বলেছেন নাজিম উদ্দিন। তার দাবি, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। প্রতিপক্ষ তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একসময় ঢাকায় এসে ভাষাণটেক বস্তিতে মাসিক ৩ হাজার টাকা বেতনে ভাঙ্গারীর দোকানে চাকরি করতেন নাজিম উদ্দিন। এক পর্যাায়ে এলাকার রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে সুসম্পর্কের এক পর্যানয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানার মানিকদি নামাপাড়ায় নাজিম বাসা ভাড়া করেন। ওই নেতার অর্থায়নে পরে শুরু করেন জমি কেনা-বেচার ব্যবসা। পরে নিউগিনি প্রপার্টিজ লি. নামে সাইনবোর্ড লাগিয়ে শুরু করেন জমি দখল।
শুধু তাই নয়, নিরীহ দরিদ্র জমির মালিকদের টার্গেট করে তার লোকজন জমি দখল ও ভরাট শুরু করেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এক পর্যারয়ে নামাপাড়ার জলাধার দখল হতে থাকে। রাতের আঁধারে শত শত ড্রাম ট্রাক ভরে বালু ফেলে এলাকার নিরীহ দরিদ্র মানুষের জমি দখল করে ভুয়া দলিল সৃষ্টি করে প্লট আকারে বিক্রি করতে থাকে।
অভিযোগ আছে, অবসরপ্রাপ্ত সেনা, নৌ, বিমান, পুলিশ বাহিনীর শত শত সদস্যসহ স্বল্প আয়ের মানুষ তাদের শেষ সম্বল দিয়ে নাজিম উদ্দিনের নামসর্বস্ব কোম্পানিতে জমি কিনতে যায়। চটকদার বিজ্ঞাপন আর অল্প দামে প্লট পাওয়ার আশায় শত শত মানুষ নাজিমকে কোটি কোটি টাকা দেয়।
স্থানীয়রা বলছেন, নিরীহ মানুষের জমি এলাকার চলাচলের একমাত্র রাস্তা বন্ধ করে মসজিদের সাইন বোর্ড লাগিয়ে শতশত পরিবারকে জিম্মি করে জমি বিক্রির চাপ দেয় নাজিমের লোকজন। এক পর্যাায়ে জমির মালিকরা ঢাকার দ্বিতীয় সহকারী জজ আদালতে চলতি বছর নাজিম উদ্দিন ও তার সাঙ্গপাঙ্গ ৬৬ জনকে বিবাদী করে মামলা দায়ের করেন। দেওয়ানী মামলা নম্বর-৪৬৬/২৩ ও আর ৩য় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে দায়ের করা মামলা নম্বর ৭/২০২৪।
পরবর্তীতে আদালত স্থানীয়দের জমিতে জোরপূর্বক প্রবেশ, বেদখল, হস্তান্তর, অবৈধভাবে নির্মাণে অন্তবর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা দিলেও আগের মতো কাজ করতে থাকেন নাজিম উদ্দিনরা। শুধু তাই নয়, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকা ও ঢাকার আশেপাশের এলাকায় গাড়ী ভাংচুর, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হলে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
অভিযোগ আছে, জোয়ার সাহারা মৌজার বিভিন্ন পয়েন্টে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি দলিল ও নামজারি ছাড়া তার লোকজন দখল করে রেখেছে নাজিমের লোকজন। স্থানীয়রা বলছেন, সেখানকার সব ধরণের নির্মাণ ও উন্নয়নমূলক কাজে নাজিম উদ্দিনের সহযোগী সরবারহকারীদের কাছ থেকে নিতে বাধ্য করা হয়। যেখানে বাজারমূল্যের বেশি দাম নেয়া হয়।
অন্যথায় নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়া হয়।
জানা গেছে, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট বাবুল হোসেন হত্যা চেষ্টা মামলায় বেশ কিছুদিন কারাগারে ছিলেন নাজিম উদ্দিন। অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট বাবুল হোসেন সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর তার ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তা নিয়ে জোয়ার সাহারা মৌজার ৫৬১, ৫৬২ ও ৫৬৩ নম্বর দাগের ১০ (পাঁচ) বিঘা জলাশয় জমি ক্রয় করেন। নিজেদের টাকায় মাটি কিনে জমিতে ফেলে ভরাট করেন। কিন্তু তাদের সেই জমিও নাজিম উদ্দিন জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন বলে অভিযোগ আছে।