গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন,অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা,সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদান,মাদকদ্রব্য ও অস্ত্র উদ্ধারসহ সার্বিক অপরাধ দমনের মূল্যায়নে বীরত্বের পুরস্কার পেলেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মো.আসাদুজ্জামান আসাদ।
বুধবার পুলিশ সপ্তাহের অনুষ্ঠানে এই পদক তুলে দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন।
ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মো.আসাদুজ্জামান আসাদের আত্মজীবনী থেকে জানা যায়,তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট হামিদুজ্জামান সরকার ও সামসুন নাহারের সন্তান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন বিভাগ থেকে এমএসসি সম্পন্ন করে বেছে নেন পুলিশের পেশাকে।
রংপুরের মিঠাপুকুর থানার এই কৃতিসন্তান ২৫তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে ২০০৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি,সারদা থেকে মৌলিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পর ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষানবিশকাল সম্পন্ন করে কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম সার্কেল ও নেত্রকোনা জেলার সদর সার্কেলে এএসপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর দেশের বাণিজ্যিক কেন্দ্রবিন্দু মতিঝিলে যথাক্রমে এসি ও এডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন৷ তারপর তিনি ডিসি-ডিবি পূর্ব, ডিসি-ডিবি মতিঝিল ও ডিসি মতিঝিল এবং গুলশানের ডিসি হিসেবে দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন৷
বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের অধিকারী এই কর্মকর্তা সাহসিকতা ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৪ ও ২০১৯ সালে পিপিএম (বার) পদকে ভূষিত হন৷
তিনি সুদানের দারফুর মিশনে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন;ভূষিত হয়েছেন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা পদকে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে মালদ্বীপ ভ্রমণ করেন। এছাড়াও তিনি যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া,সিঙ্গাপুর,ভারত ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ইতালি,সুইজারল্যান্ড,জার্মানি,তুরস্ক ও ফ্রান্স ভ্রমণ করেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং এক কন্যা ও পুত্র সন্তানের জনক।
দেশের সবচেয়ে জনবহুল ও প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী জেলা ঢাকার পুলিশ সুপার হিসেবে ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট যোগদান করেন মো.আসাদুজ্জামান। কর্মজীবনে প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগোষ্ঠী ও আধুনিক নাগরিকদের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালনের ফলে সঞ্চিত অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শী নেতৃত্বের সমন্বয়ে বর্তমান দায়িত্বকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে ঢাকা জেলার নাগরিকদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ঢাকা জেলা পুলিশকে পুলিশের সবচেয়ে স্মার্ট ইউনিট হিসেবে গড়ে তুলতে আত্মপ্রত্যয়ী তিনি।
সাহসী এই পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা নিজ দায়িত্ব পালনে সক্ষমতার উন্নয়নের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ, চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস অভিনব অপরাধসমূহের রহস্য উদঘাটন করেছে৷ ডাকাতি,দস্যুতা,নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে সফলতার হার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার হয়েছে হামদাদ,তাবাসসুমের মতো অপহৃত শিশুরা।
ডিআই/এসকে