
নওগাঁর মান্দায় রাস্তায় ছাগলের হাটে সীমাহীন জনদুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সর্ব সাধারণকে। মান্দা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের সাবাইহাট একটি প্রসিদ্ধ হাট। সপ্তাহে দু’দিন হাটবার। রবিবার এবং বৃহস্পতিবার। হাটটি রাজশাহী নওগাঁ মহাসড়ক সংলগ্ন। বেশ কিছু দিন থেকে সাবাইহাট কলেজ রোডে ছাগল ভেড়ার হাট বসতে শুরু করছে। ভেড়া-ছাগলের হাট বসে বুধবার । ভোর থেকে ক্রয় বিক্রয় শুরু হয় চলে সকাল ১০ টা পর্যন্ত।
এই রাস্তার পাশে পানিয়াল আদর্শ ডিগ্রি কলেজ, তেঁতুলিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা, তেঁতুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,তেঁতুলিয়া ডিবি উচ্চ বিদ্যালয়, শিংগা-বালুকা সালেহিয়া দাখিল মাদ্রাসা, বালুকা হাফেজিয়া মাদ্রাসা সহ বেশ কিছু সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অবস্থিত।
প্রতিনিয়ত এই পাকা রাস্তা দিয়ে ছাত্র,ছাত্রী, শিক্ষক-কর্মচারী সহ হাজার হাজার পথচারী চলাচল করে থাকে। হাটটি টোল ফ্রি হওয়ায় দিন দিন হাটের অবয়ব বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ছাগল বেচা কেনার সময় তিল ধারণের ঠাঁই থাকে মোটরসাইকেল, ভ্যান, ভটভটি তো দূরের কথা পা ফেলার মত জায়গাটুকা পাওয়া যায় না । মহাসড়ক থেকে রাস্তাটি ঢালু হওয়ায় লোকারণ্য রাস্তায় যাতায়াতে (উঠা-নামায়) প্রায় সময় দুর্ঘটনা ঘটে।
এমন কী প্রাণহানি সহ একাধিক ব্যক্তি সেখানে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। একটি সূত্রে জানা গেছে, বুধ ও শনিবারে পার্শবর্তী কেশরহাটে টোল দিয়ে ক্রয়-বিক্রয় করতে হয়। আর এ কারণে পাইকার, ফড়িয়ারা অতি উৎসাহী হয়ে সাবাইহাটে এ ভেড়া ছাগলের হাট বসিয়েছে।
আজ বুধবার দাখিল ও এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে । এছাড়াও কলেজ রোড়র দোকানি জানায়, ভেড়া ছাগলের জন্য আনা লতাপাতা, প্রস্রাব,লাদিতে পরিবেশ নোংরা হয়ে যায়। মাঝে মধ্যে দোকানি ও হাটুরিয়াদের ঝোট ঝামেলা বাধে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাটটি টোল মুক্ত হওয়ার পাইকার, ফড়িয়ারা লাভবান হলেও সরকার লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। সূত্র জানা গেছে, ছাগলের হাট যদি সরিয়ে বিকল্প পিঁয়াজ পট্রিতে লাগানো হয়, তাহলে এ জনদুর্ভোগের অবসান হতে পারে।
তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুখলেছুর রহমান কামরুল জানান, আমি চেষ্টা করেছি ছাগলের হাটটি সরানোর। আমার পরিষদ ফাঁকা থাকে সেখানে হাটটি বসানো যেতে পারে। সামনে কুরবানি আসছে। সমস্যা আরও বাড়বে বলে তিনি মনে করেন। মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে তিনি আবারও অবহিত করবেন বলে এ প্রতিবেদক জানিয়েছেন।
বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি/২৪) সকাল এগারো’টায় মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসা:লায়লা আঞ্জুমান বানুর সরকারি মুঠোফোনে কল দিলে ও প্রান্ত থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকির মুন্সী রিসিভ করেন। তিনি জানান, স্যার অফিসের কাজে বাহিরে আছেন। আপনার কথা স্যারকে জানানো হবে। তিনি সমস্যা সমাধানে প্রতিবেদকের নিকট পরামর্শ চান।