
নরসিংদীর রায়পুরার দড়ি পড়া অজপাড়া গাঁয়ে দৃষ্টি নন্দন মন্দির অক্ষয় ধাম দেখতে দূর দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের ভিড়।
মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের দড়ি পড়া অজপাড়া গাঁয়ে দৃষ্টি নন্দন অক্ষয় ধাম মন্দিরে গিয়ে দেখা যায় দৃষ্টি নন্দন ফটক সিসি টিভি নিয়ন্ত্রিত। মন্দিরের উপরের অংশে কষ্টিপাথরে তৈরি দৃষ্টি নন্দিত মহাদেবর মুর্তি। দুই পাশে কষ্টি পাথরের শ্রীকৃষ্ণ এবং রাধাকৃষ্ণের মুর্তি। এক পাশে রাধা ও স্বর্গীয় মহীন্দ্র চন্দ্র পাল এবং সুরুচি বালা পালের ফলক। দৃষ্টি নন্দন ঝর্না বিভিন্ন রঙ বেরঙের বাতি চতুর্থ দিখে নানান প্রকার ফুলের বাগান।
মন্দির কমিটি ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপজেলার অজপাড়া গাঁয়ে স্বর্গীয় মনীন্দ চন্দ্র পাল পৌত্রিক ভিটে পূর্বপুরুষের সৃতি রক্ষার্থে তারি দুই ছেলে মার্কেলটাইন্স ব্যাংকের সিএফও ড তাপস চন্দ্র পাল ও অভিষেক চন্দ্র পালের সহযোগিতাতায় বৈদেশিক মন্দিরের বিভিন্ন অংশ থেকে সংগৃহীত কারুকার্জে কচিত ১ বছরের কর্মযজ্ঞে স্থাপন করে এই দৃষ্টি নন্দিত মন্দির অক্ষয় ধাম। বাড়তি আকর্ষণ নিয়ে সাজানো মন্দিরটিতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত থাকছে শিশু থেকে বৃদ্ধ, সব বয়সী ভক্ত ও অনুসারীদের আগমনে মুখর মানুষের উপচে পড়া ভিড়।
মণ্ডপে প্রতিমার সামনে প্রার্থনা করছেন পুণ্যার্থীরা। মনের বাসনা পূরণের আকাঙ্ক্ষায় দেব-দেবীকে প্রণাম করছেন কেউ কেউ। সবার চাওয়া এই পূজা অশুভ শক্তির অবসান ঘটাক এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শান্তিপূর্ণ সমাজে মানুষকে সমৃদ্ধ করুক।
ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার এই উৎসবে শামিল হয়েছেন অন্য ধর্মে বিশ্বাসী মানুষজনও।
দূরদূরান্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে মন্দির দেখতে আসা মনি পাল, সন্জয় পাল, কাকলী বিশ্বাস, স্বপন বিশ্বাস, জুয়েল ভৌমিকসহ অনেক জানান, এ পূজায় পরিবারের ছোট ভাই-বোনদের নিয়ে অনেকগুলো মণ্ডপ ঘুরেছি।
অনেকের মুখে শুনে অক্ষয় ধাম মন্দির ও পূজামণ্ডপের কথা শুনে নিয়ে এসেছি। এটা দেখার আগ্রহ থেকেই দড়ি পারা এলাকায় এসেছি। দৃষ্টি নন্দিত অক্ষয় ধাম মন্দিরটি দর্শনার্থীদের ব্যতিক্রম কিছু নজর কেড়েছে, দেখে ভালো লেগেছে। এ ধরনের ব্যতিক্রমধর্মী মন্দির ও মণ্ডপ পূজারিদের পাশাপাশি সাধারণ দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করছে।
মন্দির স্থাপত্যের শৈল্পিক অভিষেক চন্দ্র পাল জানান, বাপ দাদার পূর্ব পুরুষের সৃতি রক্ষার্থে বড় দাদা ড তাপস চন্দ্র পালের সহযোগিতায় বিভিন্ন দেশের দৃষ্টি নন্দিত মন্দিরের চিত্র নেটে দেখে দেখে পূরোন মন্দিরের বর্ধিত অংশে বিভিন্ন অংশ সংযোজন বিযোজন করে দক্ষ কারিগরের সহযোগিতায় নিজেই তৈরি করেছি। মন্দিরে পাশে অতিথি শালাও রয়েছে। তৈরিতে প্রতিদিন গড়ে ১০-১৫ জন শ্রমিক কাজ করে এক বছর সময় লেগেছে। এতে ব্যয় হয় ৯০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা। মন্দিরটি পরিপূর্ণ কাজ শেষ এবং সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।