ঢাকা, শুক্রবার, ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাল শিক্ষা বোর্ড
শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা প্রসঙ্গে মোদির সঙ্গে কথা বললেন ড. ইউনূস
প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার
ঈদ পরবর্তী বিআরটিএর বিশেষ অভিযান: ৬ লাখ ৮৭ হাজার জরিমানা,২৮৯ মামলা
রায়পুরে আ’লীগ বিএনপির যৌথ হামলায় নারীসহ আহত ৫
পাঁচবিবিতে শিক্ষার্থী সমিতির স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন
মহানবী সাঃ কে নিয়ে কটুক্তি করার প্রতিবাদে ফুলবাড়ীতে বিক্ষোভ মিছিল
ভোলায় হাতবোমা-মাদকসহ ৫ দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী আটক
নবীনগরে তুচ্ছ ঘটনায় দুই গ্রামের সংঘর্ষে আহত ১২
নেত্রকোণা সরকারি কলেজের ঈদ পুনর্মিলনী
রামুর ঐতিহ্যবাহী গর্জনিয়া ফইজুল উলুম মাদ্রাসার মিলন মেলা বর্ণঢ্য আয়োজনে সম্পন্ন
ঢোলবাদক বিনয়বাঁশী জলদাস এর ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী ৫ এপ্রিল শনিবার
তুচ্ছ ঘটনায় ছাদে ডেকে নিয়ে বন্ধুকে ছুরিকাঘাত
বোয়ালমারীতে কুখ্যাত সন্ত্রাসী হাতকাটা শাহিদুল গ্রেপ্তার
কচ্ছপিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে সম্পন্ন হয়েছে ঈদ পুর্ণমিলন অনুষ্ঠান

পুলিশে বাহিনীতে যুক্ত হচ্ছে দুটি হেলিকপ্টার:প্রধানমন্ত্রী

পুলিশ বাহিনীকে অধিকতর দক্ষ ও পেশাদার করতে সরকার বহুমুখী কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, পুলিশে একটি পূর্ণাঙ্গ এভিয়েশন ইউনিট গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রমে শিগগিরই দুটি হেলিকপ্টার যুক্ত হতে চলছে।

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ‘স্মার্ট পুলিশ স্মার্ট দেশ, শান্তি প্রগতির বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে বার্ষিক পুলিশ প্যারেডের মধ্য দিয়ে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৪’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্ত্যবে তিনি এ কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী বাংলাদেশ পুলিশকে ‘স্মার্ট পুলিশ বাহিনী’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানান শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর আমরা দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পদক্ষেপ নেই। আমরা জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করি। পুলিশ, র‌্যাবসহ সকল আইন-শৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করি। গত ১৫ বছরে আমরা পুলিশের উন্নয়নে বহুমুখী কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করি। আমরা জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে পুলিশে অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) গঠন করেছি। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও দমনে গঠন করা হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন
(পিবিআই), হাইওয়ে পুলিশ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ পুলিশ, অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট, স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন, এমআরটি
পুলিশ।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর নিরাপত্তায় আর্মড পুলিশের ২টি এবং র‌্যাবের ১টি ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করা হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশে ইতোমধ্যে ডিএনএ ল্যাব, আধুনিক ফরেনসিক ল্যাব, , Automated Finger Print Identification System (AFIS) এবং আধুনিক রাসায়নিক পরীক্ষাগার স্থাপন করা হয়েছে। কয়েকটি বিভাগীয় শহরে এই সকল ল্যাবের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ভবিষ্যতে প্রতিটি বিভাগে এ ধরনের ল্যাব স্থাপন করার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকার প্রধান আরও বলেন, সাইবার অপরাধ এবং এর সাথে যুক্ত ফাইন্যানসিয়াল ক্রাইম, মানি লন্ডারিং ইত্যাদি অপরাধসমূহ মোকাবিলায় ‘সাইবার পুলিশ সেন্টার স্থাপন’ করা হয়েছে। এছাড়া, ডিএমপির সিটিটিসিসহ পুলিশের অন্যান্য ইউনিটও সাইবার অপরাধ দমনে কাজ করছে। পুলিশে একটি পূর্ণাঙ্গ সাইবার পুলিশ ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনাও আমাদের রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, পুলিশ স্টাফ কলেজ এখন আন্তর্জাতিকমানের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিসহ পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারগুলোতে আমরা যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। টাঙ্গাইল পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা প্রশিক্ষণের উৎকৃষ্ট কেন্দ্রে পরিণত করেছি। পুলিশ সদস্যদের ক্সবদেশিক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্র বৃদ্ধি করা হয়েছে। আমরা থানা, ফাঁড়ি, তদন্তকেন্দ্র, ব্যারাক, আবাসিক ভবনের জন্য জমি বরাদ্দসহ এসব স্থাপনা নির্মাণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে ২০ তলা এনসিকম ভবন, এসবি ও সিআইডির আধুনিক ভবন, ১০১টি আধুনিক থানা ভবন নির্মাণ করেছি। আরও অনেক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। দশতলা ভবন করে রাজারবাগে পুলিশ হাসপাতালকে আধুনিকায়ন করেছি। বিভাগীয় পর্যায়ে পুলিশ হাসপাতালের উন্নয়নে আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। ঢাকা বিভাগে একটি বিভাগীয় হাসপাতাল নির্মাণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অন্যান্য বিভাগীয় শহরেও পুলিশ হাসপাতাল নির্মাণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

১৫ বছর আগের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশ এক নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৫ বছরে আমাদের প্রবৃদ্ধি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭.২৫ শতাংশে। মাথাপিছু আয় বেড়েছে ৫ গুণ। বাজেটের আকার ১২ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা দারিদ্র্যের হার ৪১.৫১ শতাংশ থেকে ১৮.৭ শতাংশে হ্রাস করেছি। এসময়ে অতি দারিদ্র্যের হার কমেছে ৫ গুণ। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৮ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। মানুষের গড় আয়ু এখন ৭২.৮ বছর। আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছি। মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, পাতাল রেলের কার্যক্রম উদ্বোধন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, ‘বঙ্গবন্ধু টানেল’,‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ আমাদের সামর্থ্যরে প্রতীক। আমরা ৩২টি জেলা, ৩৯৪টি উপজেলা ইতোমধ্যে ভূমিহীন-গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করেছি। এসকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীরও রয়েছে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান।

এর আগে সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এবার সর্বাধিক সংখ্যক ৪০০ পুলিশ সদস্যকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) এবং রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় জীবন উৎসর্গকারী নয়জনের পরিবারের সদস্যদের হাতে মরণোত্তর বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ৩৫ জন পুলিশ সদস্যকে ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)’, ৬০ জনকে ‘রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম)’ এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামলূক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য ৯৫ জন পুলিশ সদস্যকে ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা’ এবং ২১০ জনকে ‘রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম)-সেবা’ পদকে ভূষিত করা হয়।

বিপিএম সাহসিকতা ও সেবা এবং পিপিএম সাহসিকতা ও সেবা- এই চারটি ক্যাটাগরিতে প্রতিবছর এই পুরস্কার দেওয়া হয়। যারা এ পদকে ভূষিত হন তাদের নামের শেষে বিপিএম-পিপিএম উপাধি যুক্ত হয়।

ডিআই/এসকে

শেয়ার করুনঃ