
দিনাজপুর জেলার বিরামপুর পৌর শহরের পূর্বপাড়া (গাড়ুয়ানপাড়া) মহল্লায় বসত বাড়ির জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে আপন খালা, খালাতো বোন ও সঙ্গীরা এক জোট হয়ে ভ্যান চালক বৃদ্ধ কোবাদ হোসেনকে (৬০) পিটিয়ে হত্যা করেছে। এঘটনায় থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে বিরামপুর পৌর শহরের পূর্বপাড়া (গাড়ুয়ানপাড়া) মহল্লায় বসত বাড়ির জায়গা নিয়ে বিরোধে জেরে এঘটনা ঘটে।
নিহত কোবাদ হোসেন (৬০) বিরামপুর পৌর শহরের পূর্বপাড়া (গাড়ুয়ানপাড়া) মহল্লার মৃত: কলিমুদ্দিন শেখের ছেলে এবং তিনি দীর্ঘদিন একটি কুরিয়ার সার্ভিসের ডেলিভারি ম্যান হিসাবে কাজ করতেন। তাঁর স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে আছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বসত বাড়ির জায়গা নিয়ে কোবাদ হোসেনের সাথে তাঁর আপন খালা অমেলা বেগম, খালাতো বোন নাজমা ও নিহারার দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে উল্লেখিত তিনজনসহ তাঁদের বাড়ির আরো কয়েকজন মিলে দলবদ্ধ হয়ে কোবাদ হোসেনকে বেধড়ক মারপিট শুরু করে। জানের ভয়ে ভ্যান চালক কোবাদ পার্শ্ববর্তী তৈয়ব আলীর বাড়িতে আশ্রয় নিলেও সেখানে গিয়ে প্রতিপক্ষরা কিল-ঘুষি, বাঁশ ও কাঠ দিয়ে মারপিট করতে থাকে। এক পর্যায়ে কোবাদ মাটিতে নেতিয়ে পড়লে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা গুরুতর আহত কোবাদকে উদ্ধার করে দ্রুত বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (হাসপাতালে) নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ শাহরিয়ার পারভেজ তাকে মৃত: ঘোষণা করেন।
পরিবারের কর্তা ও উপার্জনক্ষম স্বামী ও বাবাকে হারিয়ে নিহতের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। নিহতের ছোট ভাই ভুট্টু (৫৫) কান্না জড়িয় কন্ঠে বলেন, আমার খালা ও খালাত বোনেরা দলবদ্ধ হয়ে আমার ভাইকে মেরে হত্যা করেছে। আমি আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।
বিরামপুর থানার অফিসার ইনভার্জ (ওসি) সুব্রত কুমার সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত বলেন, নিহতের মেয়ে কুলসুমা (৩০) থানায় অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা প্রাথমিক অবস্থায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছি। লাশ ময়না তদন্তের জন্য দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হবে। থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। মামলার পর তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।