রাজশাহীর বাগমারায় অবৈধ পুকুর খননকারীদের জবর দখলে কৃষকের আবাদি তিন ফসলি জমি । কোন ভাবেই থামছে না পুকুর খনন। গনিপুরের সৈয়দ পুর মৌজার সৈয়দপুর ও বজরুল কোলা ঘোড়ামারা দাঁড়ার পাশে আবাদি তিন ফসলি ৫০ বিঘা কৃষি জমিতে রাতারাতি জবর দখলের মাধ্যমে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে অনেকটা জোর করেই পুকুর খনন চলছে।
অন্যের জমি জবর দখল ও কৃষি জমিতে পুকুর খনন দুটোই আইনের পরিপন্থী। কিন্তু বাগমারা তে পুকুর খনন বন্ধ রাখা বা চালু রাখা যা স্থানীয় প্রশাসনের সদিচ্ছার উপর নির্ভর। এখানে আইন- আদালতের কোন আদেশ-নিষেধকে তোয়াক্কা করা হচ্ছে না ।শুধু মাত্র ম্যানেজনীতিতে অনায়াসে চলছে বাগমার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন মৌজার তিন ফসলী আবাদি: কৃষি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন।
এটা দিন দিন লাগামহীন হলেও প্রশাসন খনন বন্ধে তৎপর না হয়ে খননকারীদের সুবিধা দেওয়ার জন্যই বেশি তৎপর রয়েছেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। মাঝে মধ্যে দুএকটি অভিযান পরিচালনা করা হলেএ থেমে নেই পুকুর খনন। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের রাতারাতি জবর দখলের মাধ্যমে পুকুর খনন করলেও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার কারণে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছে না ভুক্তভোগী প্রকৃত জমির মালিকরা। ফলে জমির প্রকৃত মালিকগণ চরম হতাশ ও আতঙ্কিত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায় , গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতের আঁধারে বাগমারা উপজেলার গনিপুর ইউনিয়নের সৈয়দপুর মৌজায় জোরপূর্বক আবাদি কৃষি জমি জবর দখল করে তাহেরপুর পৌর যুবলীগ নেতা আসাদুলের নেতৃত্বে রাতারাতি শুরু করেছে ৫০ বিঘা আবাদি কৃষি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন।ভুক্তভোগীরা অত্যন্ত সাদামাটা ও খেটে খাওয়া সাধারণ কৃষক হওয়ায় ভূমি দখলকারীদের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিবাদ করার সাহস না দেখিয়ে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ জানিয়েও জবর দখলকৃত জমিতে পুকুর খনন বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনের তরফ থেকে কোন ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত গ্রহণ করা হয়নি।অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায় যে পূর্ববর্তী ইউএন থাকাকালীন এভাবে অবাধে কৃষি জমি ধ্বংস করে পুকুর খনন হতে দেখা যায়নি।
কিন্তু বর্তমান ইউএনও আসার পর থেকেই বাগমারা উপজেলার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের জসের বিল, ভবানীগঞ্জ পৌরসভার একাধিক মৌজায়, গনিপুর ইউনিয়নের গনিপুর পূর্ব পাড়ার নিচের বিল, দক্ষিণ জামালপুেরর দুবিলা, হামিরকুৎসা ইউনিয়নের খাপুর বিলে, ঝিকরা ইউনিয়নের সরদারপাড়া, সেনাপাড়া ও বড় বিহানলির ছোটকয়া সহ বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক হারে কৃষি জমি নষ্ট করে অবাধে পুকুর খনন চলছে ।
বাগমারা উপজেলার সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ অবস্থা চলতে থাকলে অচিরেই শষ্য ভান্ডারখ্যাত বাগমারায় ধান চালের সংকট সৃষ্টি হবে । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যক্তি আফসোস করে বলেন, এমনও দিন আসতে পারে ভিক্ষুক এক মুষ্টি চাউল চাইলে, তাকে চাউল দেয়ার পরিবর্তে মাছ দেয়ার প্রস্তাব করা হবে।বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে বাগমারা উপজেলায় কৃষি জমিতে চলমান অবৈধভাবে পুকুর খনন বন্ধে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন ভুক্তভোগীরা ।