
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার সূর্যসন্তান ও গর্ব এবং জয়পুরহাট জেলার বর্তমান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নূরে আলম ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা’ পাচ্ছেন। ২০২৩-২৪ সালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুলিশ সদস্যদের এই পদক দেওয়া হবে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ তথ্য পুলিশ সদর দফতরকে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন।
মোহাম্মদ নুরে আলম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের সোহাগপুর গ্রামের নাগড়পাড়ার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আক্তারুজ্জামের বড় ছেলে।৫ ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় নুরে আলম।বাকী ৪ জনের মধ্যে একজন ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর ও অপর ৩ জন ব্যবসায়ী।মোহাম্মদ নুরে আলম ২০০৬ সালে ২৫তম বিসিএস পুলিশ সার্ভিসের মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ লাভ করেন।সর্বশেষ তিনি গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন। সেখান থেকে তিনি পুলিশ সুপার হিসেবে পদোন্নতি প্রাপ্ত হন। প্রথমে রাঙ্গামাটি সদর সার্কেল, কলাপাড়া সার্কেল পটুয়াখালী, শিবালয় সার্কেল মানিকগঞ্জ,সহকারী পুলিশ কমিশনার,চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ, ময়মনসিংহ জেলা ও নারায়ণগঞ্জ জেলায় কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ সুপার হিসেবে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি-ডিবি এবং বর্তমানে পুলিশ সুপার হিসেবে জয়পুরহাট জেলায় কর্মরত আছেন। মাদক উদ্ধারে সারাদেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে জয়পুরহাট জেলা পুলিশ। পুলিশ সপ্তাহ ২০২৩ উপলক্ষে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে মাদক উদ্ধারে জয়পুরহাট জেলা দ্বিতীয় স্থান অর্জন করায় বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন জয়পুরহাট জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নূরে আলমের হাতে সম্মাননা স্মারক ক্রেস্ট তুলে দেন। জানা গেছে, পুলিশ সুপার হিসেবে জয়পুরহাটে মোহাম্মদ নূরে আলম যোগদান করার পর থেকে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায়, গুরুত্বপূর্ণ সড়কে, স্থানীয় থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা সংস্থা ডিবির টিমের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রেখেছিলেন।
এর ফলে মাদক উদ্ধারসহ মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে মাদক উদ্ধারে সারা দেশের মধ্যে জয়পুরহাট জেলা দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নূরে আলম জানান, জয়পুরহাট জেলা পুলিশ সবসময় পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করে যাচ্ছে এবং সবসময় করবে। ছোট জেলা হিসেবে অন্য জেলাগুলোর সাথে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এই অর্জন জয়পুরহাট জেলার জন্য বিরাট সম্মানের। জেলার সকল পুলিশ অফিসার ও ফোর্সরা আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন বলেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। দেশের সীমান্তবর্তী জেলা জয়পুরহাট। এই জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্বরত আছেন মোহাম্মদ নূরে আলম। যার দক্ষতা ও সাহসিকতা দিয়ে বদলে গেছে জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি। মাদকের বিরুদ্ধে ঘোষণা করেন জিরো টলারেন্স নীতি। মাদক উদ্ধারে সারাদেশের মধ্যে জয়পুরহাট হয়েছে দ্বিতীয়। এছাড়াও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নূরে আলমের নেতৃত্বে টানা ৮ মাস সারাদেশের মধ্যে ওয়ারেন্ট তামিলে জয়পুরহাট জেলা প্রথম স্থান অধিকার করে চলেছে। এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে জয়পুরহাট জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নূরে আলম ওয়ারেন্ট তামিলে সারাদেশে জিআর, সিআর ও সাজা তিনটি ক্যাটাগরিতেই প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন। যা বাংলাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ অর্জনে আনন্দিত হয়েছিলেন তার জন্মস্থান আশুগঞ্জবাসী।সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয়, সমাজ ব্যবস্থা, কিশোরগ্যাং সহ নিজের ব্যাক্তিগত নানা তথ্য নিয়ে কথা হয় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নূরে আলমের সঙ্গে। ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা’ পাচ্ছেন জানতে চাইলে নুরে আলম বলেন,আমার জন্মস্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার সোহাগপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে। আমার বাবা ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। সেই হিসেবে পারিবারিকভাবেই দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি পূর্ব থেকেই আমার ভালোবাসা রয়েছে। আমি মনে করি- মানুষের সেবা করার মত মহৎ কাজে এত আনন্দ আছে যা অন্য সব কাজের চেয়ে ভিন্ন। এমন মহৎ কাজ করার সুযোগ আর কোন চাকুরিতে আছে বলে আমার মনে হয়না। কেবলমাত্র পুলিশ পেশা থেকে সেটা সরাসরি সম্ভব এবং সেটি করা যায় বলে আমি বাল্যকাল থেকেই তা মনে করেছিলাম। এ আখাঙ্কার কারনেই ছোট বেলা থেকেই আমার পুলিশ হওয়ার প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল এবং সেই আগ্রহ থেকে ২০০৬ সালে ২৫ তম বিসিএসের মাধ্যমে পুলিশের চাকুরিতে যোগদান করি।পুলিশ হওয়ার পিছনে আমার বাবা-মা দুজনেরই অসামান্য অবদান রয়েছে। তবে আমার বাবা যেহেতু একজন ব্যবসায়ী ছিলেন তথাপি তিনি আমাকে ব্যবসায়ী না বানিয়ে আমার শিক্ষাজীবন থেকেই দেশ ও দেশের মানুষের সেবা করার জন্য একজন পুলিশ কর্মকর্তা বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পাশাপাশি আমার মায়ের উৎসাহ ও আমাকে পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ার ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছে। উল্লেখ্য যে এর আগে মাদক উদ্ধারে সারাদেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন জয়পুরহাট জেলা পুলিশ। পুলিশ সপ্তাহ ২০২৩ উপলক্ষে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে মাদক উদ্ধারে জয়পুরহাট জেলা দ্বিতীয় স্থান অর্জন করায় বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের কাছ থেকে আশুগঞ্জের কৃতি সন্তান ও জয়পুরহাট জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নূরে আলম সম্মাননা স্মারক হিসাবে ক্রেস্ট গ্রহন করেছিলেন। এছাড়াও আশুগঞ্জের এই কৃতি সন্তানকে গত ২২ জানুয়ারি রেঞ্জের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো: আনিসুর রহমান বিপিএম(বার) এর নিকট থেকে শ্রেষ্ঠ পুলিশ সুপার হিসেবে পুরস্কার গ্রহণ করেছিলেন।ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই ছেলে ও এক কন্যা সন্তানের জনক। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বিভাগে অনার্স এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
মোহাম্মদ নূরে আলম এ বছর রাজশাহী রেঞ্জের জয়পুরহাট জেলার শ্রেষ্ঠ পুলিশ সুপার নির্বাচিত হওয়ায় আশুগঞ্জ উপজেলাবাসী আনন্দিত হয়েছিলেন । রাজশাহী রেঞ্জের জয়পুরহাট জেলার শ্রেষ্ঠ পুলিশ সুপার হিসাবে নির্বাচিত হওয়ার পর মোহাম্মদ নূরে আলম দায়িত্ব পালনে আশুগঞ্জবাসীসহ দেশবাসী সবার প্রতি দোয়া চেয়েছিলেন ভবিষ্যতে যেন আরো সমৃদ্বি লাভ করে দেশের সেবা করতে পারা যায়। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি(মঙ্গলবার) রেঞ্জের মাসিক অপরাধপর্যালোচনা সভায় রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো: আনিসুর রহমান বিপিএম(বার) এর নিকট থেকে শ্রেষ্ঠ পুলিশ সুপার হিসেবে পুরস্কার গ্রহণ করেছিলেন।তার এ প্রাপ্তির বিষয়ে জয়পুরহাট পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নূরে আলম বলেন, জেলা পুলিশ সবসময় পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে এবং সবসময় করবে। ছোট জেলা হিসেবে অন্য জেলাগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এই অর্জন জয়পুরহাট জেলার জন্য বিরাট সম্মানের। জেলার সকল পুলিশ অফিসার ও ফোর্সরা আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন বলেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছিল।
এখন আবার আশুগঞ্জের কৃতি সন্তান বাংলাদেশ “পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা’ পাচ্ছেন খবরে ও তার কঠোর পরিশ্রমের ফসল এ পদক অর্জনের ফলে আগামী দিনে সততা ও নিষ্ঠার সাথে আরো বহুদূর এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ও তার মঙ্গল কামনা ব্যক্ত করে অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতীয় দৈনিক দেশকালের আশুগঞ্জ প্রতিনিধি ও জাতীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিডি টাইমস নিউজের জেলা প্রতিনিধি জহির সিকদার এবং আশুগঞ্জ প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ।২০২৩-২৪ সালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুলিশ সদস্য হিসেবে মোহাম্মদ নুরে আলম উক্ত পদক পাচছেন।